Slider

Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

হঠাৎ পায়ের রগে টান দিলে কি করা উচিৎ?


দীর্ঘসময় ধরে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে অনেক সময় পায়ের পেশিতে বেশি টান লাগতে পারে। আবার দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনটা হতে পারে। আবার অন্য কারণেও হতে পারে। যেমন, পানিশূন্যতা, মাংসপেশি বা স্নায়ুতে আঘাত, রক্তে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব, কিছু ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যেমন- হাইপারটেনশন ও কোলেস্টেরল, কয়েকটি বিশেষ ভিটামিনের অভাবে যেমন- ভিটামিন ‘বি’ B1, B5, B6। কিছু বদভ্যাসের কারনে যেমন- ধূমপান, মদপান। ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কম হয় বলে সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই তাদের পায়ে টান লাগে। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন স্নায়ুতে চাপ পড়ে থাকে, তাই ওই সময় পায়ের পেশিতে টান লাগা স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওর, মেন্সট্রুয়েশন, গর্ভসঞ্চার ইত্যাদির কারণেও পেশিতে টান লাগতে পারে।

কি করবেন   ?????
যে পায়ের পেশিতে টান পড়বে, দ্রুত সেই পায়ের পেশিকে শিথিলায়ন বা রিলাক্স করতে হবে। এতে পেশি প্রসারিত হবে এবং আরাম পাবেন। পেশিকে প্রসারিত করার নিয়ম হলো আপনার যদি হাঁটুর নিচে পায়ের পিছনের মাসলে টান লাগে তাহলে পা সোজা করে হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরে আপনার দিকে আস্তে আস্তে টানুন। আর যদি সামনের দিকে হয় তাহলে পা ভাঁজ করে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো পেছনের দিকে টানুন। অনেক সময় উরুর পেছনেও এমনটা হয়, তখন চিৎ হয়ে শুয়ে পা ভাঁজ করে হাঁটু বুকের দিকে নিয়ে আসুন যতোটুকু পারা যায়। আর উরুর পেছনের পেশিতে আলতো হাতে আস্তে আস্তে মালিশ করুন আরাম পাবেন। আর যদি পেশি শক্ত হয়ে আসে তখন ওয়াটার ব্যাগ বা হট ব্যাগের মাধ্যমে কিছুক্ষণ গরম সেক দিন আক্রান্ত পেশিতে। আবার যদি পেশি বেশি নরম ও ফুলে যায় আর ব্যথা থাকে তাহলে তাতে আইসব্যাগ দিয়ে ঠাণ্ডা সেক দিন। বেশ আরাম পাবেন। প্রত্যেকের বাসায় মুভ বা ভিক্স জাতীয় ব্যথানাশক বাম বা জেল থাকে, তা দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করা যেতে পারে ওই পেশিতে। আপনার পায়ের ‘পেশীর টানমুক্ত’ অবস্থায় ভালো থাকতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার খান। শাকসবজি, ফল, খেজুর, দুধ ও মাংসতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। আপনার নেশাজাতীয় বদঅভ্যাস থাকলে তা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন সুস্থ থাকুন।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগলে করণীয়




হঠাৎ করে অনেকের পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগে। বিশেষভাবে রাতে শোয়ার পর এটা বেশি হয়। কোনোভাবেই তখন আর আরাম পাওয়া যায় না।

এমন পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে গবেষকেরা বলছেন যে পানিশূন্যতা, লবণশূন্যতা, পায়ের পেশির দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ব্যবহার, একটি ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় ধরে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা ইত্যাদি কারণেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হতে পারে।

ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কমে যায় বলে সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই পায়ে টান লাগে। একই কারণে ডায়াবেটিক ও কোলেস্টেরলের রোগীদেরও পায়ে ব্যথা হয়। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পায়ে টান লাগার জন্য দায়ী। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন স্নায়ুতে চাপ পড়ে বলে পায়ে প্রায়ই টান লাগে।

পায়ে টান লাগলে সহজ ও সাধারণ কিছু কায়দা করে খানিকটা আরাম পাওয়া যাবে। যে পেশিতে টান লেগেছে তা স্ট্রেচ করুন বা টানটান করে তার ওপর আস্তে আস্তে হাত দিয়ে মালিশ করুন। কাফ পেশিতে টান লাগলে পা একটু ভাঁজ করে পায়ের ওপর একটা হালকা ওজন দিন। অনেক সময় পায়ে টান বা ঝিঁঝি ধরে। তখন একটা চেয়ারে বা মেঝেতে বসে পা দুটোকে সামনে সোজা করে দিন। তারপর পায়ের পাতা হাতের মুঠোয় চেপে ধরে নিজের দিকে টানুন।

আপনার যদি হাঁটুর নিচে পায়ের পিছনের মাসলে টান লাগে তাহলে পা সোজা করে হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরে আপনার দিকে আস্তে আস্তে টানুন। আর যদি সামনের দিকে হয় তাহলে পা ভাঁজ করে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো পেছনের দিকে টানুন।

অনেক সময় উরুর পেছনেও এমনটা হয়, তখন চিৎ হয়ে শুয়ে পা ভাঁজ করে হাটুঁ বুকের দিকে নিয়ে আসুন যতোটুকু পারা যায়। আর উরুর পেছনের পেশিতে আলতো হাতে আস্তে আস্তে মালিশ করুন আরাম পাবেন।


আর যদি পেশি শক্ত হয়ে আসে তখন ওয়াটার ব্যাগ বা হট ব্যাগের মাধ্যমে কিছুক্ষণ গরম সেঁকা দিন আক্রান্ত পেশিতে। আবার যদি পেশি বেশি নরম ও ফুলে যায় আর ব্যথা থাকে তাহলে তাতে আইসব্যাগ দিয়ে ঠাণ্ডা সেঁক দিন। বেশ আরাম পাবেন। প্রত্যেকের বাসায় মুভ বা ভিক্স জাতীয় ব্যথানাশক বাম বা জেল থাকে, তা দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করা যেতে পারে ওই পেশিতে।

আর ‘পেশির টানমুক্ত’ অবস্থায় ভালো থাকতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার খান। শাকসবজি, ফল, খেজুর, দুধ ও মাংসতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। তাই এই খাবারগুলো বেশি বেশি খান। নেশা জাতীয় বদ অভ্যাস থাকলে তা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।
 


প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।







  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কোমরব্যথায় ভয় নেই, তবে...


কেউ হয়তো সারা দিন অফিসের ডেস্কে কাজ করেন, বসে থাকেন কম্পিউটারের সামনে। কেউ আবার পিঠ বাঁকিয়ে বসে গৃহস্থালি কাজ করেন, কেউ ভারী জিনিস বহন করেন। কাজের সময় ভুল অঙ্গভঙ্গির কারণেই হোক, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণেই হোক, আমাদের প্রত্যেকের কোমরব্যথা হতেই পারে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম আর দু-একটা ব্যথানাশক সেবনের মাধ্যমে এ যন্ত্রণা কমে যায়। সিংহভাগ কোমরব্যথাই নিরীহ প্রকৃতির, এ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যথার নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়, যার সাহায্যে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন কোনো জটিলতা আছে। জেনে নিন এমন কিছু লক্ষণ:

বিশ্রাম নিলেও ব্যথা উপশম না হওয়া অথবা পিঠ সোজা রেখে শুয়ে থাকা অবস্থায়ও ব্যথা বাড়া
ঘুম থেকে ওঠার পর বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে প্রচণ্ড আড়ষ্টভাব অনুভব করা
কোমরে আঘাত লাগার পর থেকে ব্যথা শুরু হওয়া
কোমরব্যথার সঙ্গে দুপায়েও ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
বেশ খানিকক্ষণ হাঁটাচলা করলে পা অবশ হয়ে পড়া বা পায়ের মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা
২০ বছরের কম বয়সী কারও কোমরে ব্যথা হলে কিংবা বয়স্ক ব্যক্তির হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হওয়া
পিঠের ওপরের অংশে ব্যথা হওয়া
ব্যথার পাশাপাশি শরীরের ওজন হ্রাস, জ্বর, রাতে প্রচুর ঘাম হয়ে জ্বর সারা, পেটে কোনো গোটা বা চাকা অনুভূত হওয়া ইত্যাদি

এছাড়া যদি আগে কখনো যক্ষ্মা বা ক্যানসার অথবা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকে, সে ক্ষেত্রেও কোমরব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।


মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

যাঁরা শরীরের চর্বি কমিয়ে মাংসপেশির শক্তি বাড়াতে চান..........




যাঁরা শরীরের চর্বি কমিয়ে মাংসপেশির শক্তি বাড়াতে চান, তাঁদের শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাবার কমিয়ে আমিষের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কিছু উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার আছে, যা মাংসপেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
ডিম: ডিম আমিষের চমৎকার উৎস। প্রতিদিন ডিম খাওয়া ভালো। ডিমের কুসুমে যে কোলেস্টেরল আছে, তা ততটা ক্ষতিকর নয় এবং মূলত স্টেরয়েড হরমোন তৈরিতে কাজে লাগে বলে আজকাল বিজ্ঞানীরা মত দিচ্ছেন। তা ছাড়া একটি ডিমে আধা গ্রামের মতো লিওসিন আছে, যা পেশি বাড়াতে সাহায্য করে।
বাদাম: পেশি বাড়াতে প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খাওয়া চাই। বাদামে আমিষ, আঁশ ও চর্বির দারুণ সমন্বয় আছে, যা ওজন না বাড়িয়েই যথেষ্ট ক্যালরি বা শক্তি দিতে পারে।
পনির: পনির প্রচুর ক্যালসিয়াম জোগানোর পাশাপাশি দেবে ক্যাসিন, যা রক্তে আমিষ বা অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায়। খেলোয়াড় বা অ্যাথলেটদের জন্য পনির উপকারী। এ ছাড়া পনির অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
ছোলা: ছোলা আমিষ ও শর্করার সমন্বয়। এর শর্করা ধীরে শোষিত হয় বলে উপকারী। এক কাপ ছোলায় ৪৫ গ্রাম জটিল শর্করা ও ১২ গ্রাম আঁশ আছে। এটা দেহের চর্বি কমিয়ে পেশি বাড়াতে সাহায্য করে।
মাংস: পেশির শক্তি বাড়াতে মাংস তো কিছুটা খেতে হবেই। উচ্চমানের আমিষ, প্রচুর লৌহ আছে মাংসে। তবে রেড মিট বা গরু-খাসির মাংসে যে দৃশ্যমান চর্বি আছে, তা ফেলে দিয়ে খাওয়াই ভালো।
ডাল: প্রতিদিন এক কাপ ডাল খেলে শক্তি বাড়বে পেশির। এক কাপ রান্না ডালে আছে ১৮ গ্রাম আমিষ ও ৪০ গ্রাম জটিল শর্করা, যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি জোগাবে।
মাছ: চর্বিহীন আমিষ ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের উপকার পেতে নিয়মিত মাছ তো খেতেই হবে। ওজন না বাড়িয়ে আমিষ গ্রহণ এর মাধ্যমেই সম্ভব।
দুধ: হাড়, সন্ধি ও পেশির সুস্থতায় প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ বা দুধের তৈরি খাবার আবশ্যক।
 
প্রধান পুষ্টিবিদ, বারডেম হাসপাতাল



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বুক ধড়ফড় করা কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ...............



বুক ধড়ফড় করা কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। বুক ধড়ফড় করলে আক্রান্ত ব্যক্তি সমস্যার বিভিন্ন রকম বর্ণনা দেন। কেউ শ্বাসকষ্টের কথা বলেন, কেউ বুকে ব্যথার কথাও বলেন। বুক ধড়ফড় করলে ভয় হয়, চরম অস্বস্তিও হয়। এই বুঝি প্রাণটা গেল। সব সময় যে জটিল কোনো রোগের কারণে বুক ধড়ফড় করে, তা নয়। তারপরও বিষয়টি একেবারে অবহেলার নয়।
বুক ধড়ফড় করার সবচেয়ে পরিচিত কারণ দুশ্চিন্তা। হঠাৎ অতিরিক্ত পরিশ্রম, ব্যায়াম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত আবেগ, উচ্ছ্বাস সাময়িকভাবে হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি স্বাভাবিক। কিছু কিছু ওষুধও হৃৎস্পন্দন বাড়ায়। এ ছাড়া কিছু শারীরিক রোগে দ্রুত নিয়মিত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয় এবং তখন বুক ধড়ফড় করে। যেমন অতি সক্রিয় থাইরয়েড গ্রন্থি, অনেক জ্বর, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়া, রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া ইত্যাদি। হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যায় বুক ধড়ফড় করতে পারে। যেমন হার্টের ভাল্ভে সমস্যা, জন্মগত হৃদ্রোগ, হার্ট ফেইলিউর, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ইত্যাদি।



বুক ধড়ফড় করলে তাৎক্ষণিক বিশ্রাম নিন। যদি অতিরিক্ত পরিশ্রম, ব্যায়াম বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান, আবেগ, উচ্ছ্বাসের কারণে বুক ধড়ফড় হয়ে থাকে, তাহলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। তবে বিশ্রামরত অবস্থায় বুক ধড়ফড় করলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হৃৎস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বা অনিয়মিত হলে রোগী অজ্ঞানও হয়ে পড়তে পারে। এ সময় মাথা ঝিমঝিম, মাথা শূন্য বোধ হওয়া বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ রকম হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
 
মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ডায়াবেটিসের রোগীরা কোন ফল খাবেন ?



এখন রসাল ফলের মৌসুম। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, আনারস ইত্যাদি ফলের সমারোহ বাজারে। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীরা এসব প্রাণভরে খেতে পারেন না, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে। আসলেই কি তাঁদের জন্য সব ধরনের ফল নিষিদ্ধ?
কোন খাবারে রক্তে শর্করা কতটা বাড়ে, তা নির্ভর করে তার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং গ্লাইসেমিক লোডের ওপর। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭০-এর বেশি হলে তা উচ্চ মাত্রা, ৫৫-এর নিচে হলে কম মাত্রার। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যত উচ্চ, তা রক্তে শর্করা তত বেশি বাড়ায়। আবার গ্লাইসেমিক লোড ২০-এর বেশি হলে তা উচ্চ, ১১-এর নিচে কম। তাহলে দেখা যাক, আমাদের মৌসুমি ফলগুলোতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড কোনটাতে কী মাত্রায় আছে।
আমের গ্লাইসেমিক লোড ১২০ গ্রামে ৮-এর মতো। আর জাতভেদে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ভিন্ন, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৫৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে। অর্থাৎ আম মাঝারি মাত্রার মধ্যে পড়ে। আমে প্রচুর আঁশ থাকার কারণে মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও এটি দ্রুত শর্করা বাড়ায় না। তারপরও হিসাব করে খেতে হবে। তবে খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স উচ্চ মাত্রার আর লোডও বেশি, ১৮। খেজুর তাই দিনের শেষে একটার বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। তবে খেজুর লৌহ ও অন্যান্য খনিজের চমৎকার উৎস। রমজানে একটি বা দুটি খেজুরই অনেক শক্তি জোগায়। তরমুজেরও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেশি, ৭০-এর ওপর। কিন্তু এতে আছে প্রচুর জলীয় অংশ, যা গ্রীষ্মে মানবদেহের পানিশূন্যতা পূরণ করে। আনারসও মাঝারি মাত্রার—এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬। কাঁঠাল বেশ ভালোই শর্করা বাড়াতে পারে; এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৬৮-এর ওপর। তবে কাঁঠালেও আছে অনেক আঁশ।
বেশির ভাগ ফলমূলে শর্করা ছাড়াও অতি প্রয়োজনীয় উপাদান, যেমন ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, খনিজ ও আঁশ রয়েছে। তাই খাবারের তালিকা থেকে ফল বাদ দেওয়া ঠিক নয়। তবে অন্যান্য যেকোনো শর্করা খাবারের মতো ডায়াবেটিসের রোগীদের ফলমূলও খেতে হবে নির্দিষ্ট মাত্রায়, নির্দিষ্ট সময়ে। ফলের মৌসুমে ফল খেতে চাইলে প্রয়োজনে অন্যান্য শর্করা (যেমন ভাত) কমিয়ে দিন। ভাত বা মূল খাবার গ্রহণের পরপরই ফল না খেয়ে অন্য সময়ে খান, অর্থাৎ শর্করা গ্রহণের সময়টা সারা দিনে ভাগ করে নিন। একই সঙ্গে একাধিক ফল অনেক পরিমাণে খাবেন না।

ডা. তানজিনা হোসেন. হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বর্ষায় যত অসুখ–বিসুখ





বর্ষা মৌসুমে দেশে কিছু রোগের প্রকোপ বাড়ে। কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ইত্যাদি পানিবাহিত রোগ এবং ডেঙ্গুজ্বর ও অন্যান্য জ্বরে আক্রান্ত হয় লোকজন। এ ছাড়া আবদ্ধ নোংরা পানি থেকে হতে পারে খোসপাঁচড়াসহ ত্বকের নানান সমস্যা। এসব থেকে রেহাই পেতে কিছু বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:
 
এ সময় বিশুদ্ধ সুপেয় পানির অভাব দেখা দেয়। তার ওপর জলাবদ্ধতার জন্য শহরের পানি অনেক সময় দূষিত হয়ে পড়ে। তাই ভালো করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করে পানি পান করুন। বাইরের খোলা পানি, শরবত ইত্যাদি কখনো নয়। তার ওপর এখন রমজান মাস, ইফতারের সময় বাইরে থাকলে বিশুদ্ধ পানি কিনে পান করতে হবে। অথবা বাড়ি থেকে পানি সঙ্গে নিয়ে বেরোতে পারেন। বাসনপত্র ধোয়ার কাজেও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।
 
রমজান মাসে বাইরে থেকে কেনা খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। রাস্তার পাশে যে ইফতারসামগ্রী বিক্রি হয়, সেগুলো কতটুকু নিরাপদ—জেনে নিন। টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা এড়াতে বাইরের খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন।
 
বাড়ির আশপাশের জলাবদ্ধতা নিজেই যতটুকু সম্ভব দূর করার চেষ্টা করুন। টবের নিচে, এসির নিচে, বারান্দায় বা ছাদে, গ্যারেজে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন। রাস্তায় বা ড্রেনে জমে থাকা পানি অপসারণে পাড়ার সবাই মিলে উদ্যোগ নিন। এ রকম আবদ্ধ পানিতে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী অ্যাডিস মশা বসবাস করে।
 
বৃষ্টি এড়াতে ছাতা বা রেইনকোট ব্যবহার করুন। কখনো ভিজে গেলে বাড়ি ফিরে গা-মাথা ভালো করে মুছে নিন, কাপড় পাল্টে নিন। দরকার হলে গোসল সেরে নিন। রাস্তার নোংরা আবদ্ধ পানিতে খালি পায়ে হাঁটবেন না। সংস্পর্শে চলে এলে তাড়াতাড়ি পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত-পা ধুয়ে নিন। নোংরা জামাকাপড়ও ভালো করে ধুতে হবে। যখনই একটু রোদ ওঠে, দরজা-জানালা খুলে তাজা বাতাস ঢুকতে দিন। স্যাঁতসেঁতে আধা ভেজা কাপড়চোপড় পরবেন না।






  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS