Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

ভয়কে করো জয়


এমি অ্যাওয়ার্ড ও গোল্ডেন গ্লোব বিজয়ী অভিনেত্রী কেরি ওয়াশিংটনের জন্ম ১৯৭৭ সালের ৩১ জানুয়ারি। টাইম ম্যাগাজিন-এর এপ্রিল ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির’ মধ্যে কেরি অন্যতম। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনির্ভারসিটির সমাবর্তনে ২০১৩ সালের ১৯ মে তিনি এই বক্তৃতা করেন।

কেরি ওয়াশিংটন

অভিনন্দন, ২০১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা! মনে হচ্ছে এই তো সেদিন আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার নিজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। আজও এখানে আমার বাবা-মা উপস্থিত আছেন। আমি যে গাউনটা পরে আছি, সেটা আমার মা ড. ভ্যালেরি ওয়াশিংটনের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ আমাকে যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে, তার জন্য আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। কিন্তু চার বছর পরিশ্রম করে যে ডিগ্রি আমি অর্জন করেছিলাম, তা নিয়ে আরও বেশি গর্ববোধ করি।
স্বাগত তোমাদের সবাইকে, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তোমাদের আবারও অভিনন্দন। পেশাগত জীবনে আমি একজন অভিনেত্রী। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের গল্প বলি। আজও তার ব্যতিক্রম হবে না। আমি যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছিলাম, তখন অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না। আমি ভাবতাম, মনোবিজ্ঞানী অথবা মায়ের মতো শিক্ষাবিদ হব। অভিনয় ছিল বড়জোর শখ, যা আমাকে এখানে পড়ার খরচ চালাতে সাহায্য করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি যে বৃত্তি পেতাম, তার অনেকগুলো শর্তের মধ্যে একটি ছিল নাট্যকলা ও নৃত্য বিভাগ থেকে যতগুলো অনুষ্ঠান করা হবে, তার সব কটির জন্য আমাকে অডিশনে অংশ নিতে হবে। অভিনয় নিয়ে আমাকে পড়তে হয়নি, তার বদলে আমি মানুষের নানা দিক নিয়ে পড়েছি, যেমন মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও নৃতত্ত¡। মানবসমাজ নিয়ে পড়তে গিয়ে আমাকে একটা বিষয় মুগ্ধ করেছিল, তা হলো, মানুষের গল্প বলার সংস্কৃতি ও সমাজে এর প্রভাব। সভ্যতার শুরু থেকেই সব সমাজের অধিবাসীরা তাদের জীবনের গল্প নানাভাবে বলে গেছে, গল্প দিয়েই আমরা একে অন্যকে বুঝতে পারি, নিজেদের বুঝতে পারি। যখন আমরা কোনো একটা গল্পে গভীরভাবে ডুবে যাই, সে কোনো উপন্যাস, চলচ্চিত্র বা প্রামাণ্যচিত্র Ñযা-ই হোক না কেন, তখন আমরা নিজেদের আরও বেশি করে বুঝতে পারি। বুঝতে পারি বর্তমানে আমরা কে, আর ভবিষ্যতেই বা কেমন হতে চাই। অথবা কেমন অবস্থায় আমরা কখনো পড়তে চাই না। গল্প আমাদের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে, আমাদের বদলে দেয়। কোনো গল্পের নায়কের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাই, তখন উপলব্ধি করি, আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজেদের জীবনের নায়ক। আমি আজ এই সত্যটা তোমাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের জীবনের গল্পের মূল চরিত্র। তোমার জীবনকে ঘিরেই গল্প, তোমার গল্প নিয়েই পৃথিবী। জীবনের রোমাঞ্চকর যাত্রায় নিজের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোই হলো তোমার উদ্দেশ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি জোসেফ ক্যাম্পবেলের লেখার সঙ্গে পরিচিত হই। তিনি লিখেছিলেন: সব পথিকের যাত্রা শুরু হয় কোনো না কোনো আহ্বান থেকে, কেউ একজন এসে তাকে বলে, ‘জেগে ওঠো, আর ঘুমিও না, বেরিয়ে পড়ার সময় এসেছে।’
আমাদের সবার মধ্যে একটা সুপ্ত চেতনা থাকে, সঠিক সময়ে যার ঘুম ভাঙাতে হয়। একেই বলে স্বাচ্ছন্দ্যকে দূরে সরিয়ে নিজের পরিচিত গণ্ডির বাইরে পা রাখা। সহজ কাজ নিয়ে পড়ে থাকার লোভ সংবরণ করে সঠিক কাজটি করা। ১৯৯৬ সালে আমি যখন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, তখন আমার সামনে এমন একটা আহ্বান এসেছিল। বৃত্তি পাওয়ার শর্তের অংশ হিসেবে আমাকে একটি নতুন নাটকের জন্য অডিশন দিতে বলা হয়, যা ছিল ব্যাঙ নিয়ে লেখা একটি গীতিনাট্য! গল্পটা ভারি সুন্দর ছিল, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন ও পরিবেশ সংরণকে উপজীব্য করে লেখা। কিন্তু ব্যাপার হলো, আমি ভাবিনি আমাকে কখনো ব্যাঙের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। সবাই এমনিতেই কেমন হাসাহাসি করবে, আর খারাপ করলে কীভাবে মুখ দেখাবÑ এই চিন্তায় আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমি ভাবলাম, যদি কোনোভাবে অডিশন থেকে বাদ পড়া যায়, তাহলেই ঝামেলা চুকে যাবে। ক্যাম্পবেল তাঁর লেখায় এই ব্যাপারটির কথাও বলেছেন, যখন আমাদের সামনে কোনো সুযোগ আসে, কিন্তু আমাদের তা নেওয়ার সাহস হয়ে ওঠে না। আমাদের ভয়, নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর অনাস্থাÑ সবকিছু আমাদের প্রভাবিত করে সুযোগটিকে দূরে সরিয়ে দিতে। যা-ই হোক, আমি সাহস করে অডিশনে হাজির হলাম, নিজের দ্বিধা কাটিয়ে পরিচিত গণ্ডির বাইরে পা রাখলাম। অবাক হলেও সত্যি, অডিশনে আমাকেই বেছে নেওয়া হলো। এবার আরেক নতুন ভয় এসে ঢুকল মাথায়৷ আমি কীভাবে এমন চ্যালেঞ্জিং একটা চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারি? আমি ঠিক করলাম, ব্যাঙ নিয়ে পড়াশোনা করব! আমি চিড়িয়াখানায় গিয়ে সেখানকার ব্যাঙগুলোর দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতাম। ব্যাঙ নিয়ে যা কিছু পাই, সব পড়তে শুরু করলাম, প্রামাণ্যচিত্র দেখলাম। এমনকি ব্যাঙ হাতের তালুতে নিয়ে বসেও থাকতাম! আমার পুরো শরীর দিয়ে কীভাবে ব্যাঙের চরিত্রটিকে রূপ দেওয়া যায়, তার উপায় বের করলাম। হ্যাঁ, আমি আমার ভয়কে জয় করে মঞ্চে পা রেখেছিলাম। সেদিনের সেই অভিনয় আমার নিজের সম্পর্কে ধারণা আমূল বদলে দিয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা, আজ পর্যন্ত আমি যত চরিত্রে অভিনয় করেছি, তার মধ্যে সেই ব্যাঙটিই আমার বাবার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র!
তোমাদের প্রত্যেকের ভেতরে দারুণ সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। প্রত্যেকের জীবনের গল্পই অন্য সবার চেয়ে আলাদা, অদ্বিতীয়। পরিচিত পরিবেশের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রেখে তোমরা এই ডিগ্রি লাভ করোনি। আজ তোমাদের আহ্বান জানাব গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করতে, একটু পেছনে ফিরে তাকাতে। কোন মুহূর্তগুলো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল? কখন সুযোগ এসেছিল নতুন কিছু করার, গণ্ডির বাইরে পা রাখার? মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভয়কে কীভাবে জয় করেছ? এই স্মৃতিগুলো মনে রেখো, এগুলো তোমাকে সাহস জোগাবে। তোমরা সবাই ভয়কে জয় করতে পারবে, কিন্তু করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত কিন্তু যার যার নিজের। আজ এখান থেকে বের হয়ে তোমরা যে নতুন জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ, সেখানে তোমাদের সামনে অনেক পথ খোলা থাকবে। তোমরা অন্যকে খুশি করার পথ বেছে নিতে পারো, লোকে তোমার কাছ থেকে যা আশা করে, ঠিক তা-ই করতে পারো। কখনো ভয় পেলে চুপটি করে নিজের ভেতরে গুটিয়ে যেতে পারো, চ্যালেঞ্জকে দূরে ঠেলে নিরাপদ থাকতে পারো। অথবা, জীবন থেকে অনুপ্রেরণার মুহূর্তগুলো খুঁজে বের করতে পারো, নিজেকে নিজেই সাহস জোগাতে পারো। অন্তরের শক্তিতে জাগ্রত হয়ে নিজের জীবনের গল্প নিজেই লিখতে পারো। যদি এসব করো, তাহলে তোমাদের জন্য অসম্ভব বলে কিছু থাকবে না।
আমি জানি, তোমরা অনেকেই এই পথ বেছে নেবে, অনেকে ইতিমধ্যে নিয়েও ফেলেছ। আমার চোখে তাই তোমরা কেবল গ্র্যাজুয়েট নও, তোমরা জীবনের পথে একেকজন অভিযাত্রী। তাই যখন নতুন কিছু করার সুযোগ আসবে, ভয় না পেয়ে সে আহŸানে সাড়া দিয়ো। অন্যরা কী করেছে, এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নাও। তুমি, হ্যাঁ, কেবল তুমিই পারো তোমার জীবনকে ইচ্ছামতো সাজিয়ে তুলতে। তোমার গল্প তো পৃথিবীকে তুমি শোনাবে, নাকি? পৃথিবী তোমার কণ্ঠ শুনতে চায়। আর যত সামনে এগিয়ে যাবে, তোমার গল্প শুনিয়ে তুমি আরও অসংখ্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে তাদের জীবনের গল্পটি খুঁজে নিতে। আমি সেই গল্পগুলো শোনার অপোয় রইলাম।
সূত্র: ইন্টারনেট 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

হাতে বই, পায়ে বল


সক্রেটিসপায়ে ফুটবল, হাতে বই—সচরাচর এমনটা দেখা যায় না৷ খেলার কারণে পড়ার সময়ই বা কই? কিন্তু এমন কেউ কেউ আছেন, যাঁরা খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাকেও মূল্য দিয়েছেন৷ বিশ্বকাপে বিভিন্ন সময় এ ধরনের পড়ুয়া খেলোয়াড়েরাও দেখিয়েছেন আলোর ঝলকানি৷ পায়ের কারুকাজের সঙ্গে হয়েছে পড়ালেখার সৃজনশীল যোগাযোগ৷ আমরা ব্রাজিলের সক্রেটিসের কথা যেমন বলতে পারি, তেমনি ইংল্যান্ডের ল্যাম্পার্ডের নাম উচ্চারণ করতেও সমস্যা হবে না৷ প্রকৌশলী ডেনিস বার্গক্যাম্পের কথাও আমরা জানি৷ আবার ফুটবল খেলোয়াড় তাঁর ক্যারিয়ার ছেড়ে নাসায় যোগ দিয়েছেন—এমন গল্পও আমাদের আপ্লুত করে৷ আসুন, এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে পরিচিত হই৷
ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড

চিকিৎসক সক্রেটিসপড়ালেখা আর ফুটবল দুটোকেই জয় করেছেন, এমন লোকের তালিকা করলে প্রথমেই আসে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার সক্রেটিসের কথা। ব্রাজিলের হয়ে ৬০টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলে মধ্যমাঠের ত্রাস সক্রেটিসের গোলসংখ্যা ২২। ‘ডাক্তার সক্রেটিস’ নামেই জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর। দীর্ঘদেহী এই মিডফিল্ডার ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও লাভ করেন সক্রেটিস। তিনি সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি লাভ করেন। শুধুই কি চিকিৎসক, সক্রেটিস একাধারে ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার। ফুটবল ছাড়াও রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে তিনি নিয়মিত কলাম লিখতেন।
প্রকৌশলী বার্গক্যাম্পডাচ তারকা ফুটবলার ডেনিস বার্গক্যাম্প নাকি বিমানে উড়তে প্রচণ্ড ভয় পেতেন। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বাথ থেকে তিনি যন্ত্রকৌশল বিষয়ের ওপর স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। গোটা নব্বইয়ের দশকে ডাচ ফুটবল মাঠের মধ্যমাঠ আর আক্রমণের পুরো ভার ছিল তাঁর কাঁধে। ৭৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই প্রকৌশলীর গোলসংখ্যা ৩৭।
ডেনিস বার্গক্যাম্পঅধ্যাপক ল্যাম্পার্ডইংল্যান্ডের হয়ে শতাধিক ফুটবল ম্যাচের অধিনায়কত্ব করেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ১৯৯৯ সাল থেকে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ডের আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের সংখ্যা ২২। ইংল্যান্ডের ব্রেন্টউড স্কুলের এই শিক্ষার্থী ১১টি বিষয়ে ব্রিটিশ জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (জিসিএসই) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যার মধ্যে ল্যাটিন ভাষায় তিনি এ গ্রেড লাভ করেন। সতীর্থদের কাছে ফ্র্যাঙ্ক ‘দ্য প্রফেসর’ নামেই পরিচিত।
লি ইয়াং-পিয়োফুটবল ছেড়ে নাসায়২০০৬ সালে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার শাকা হিসলপ। শাকা হিসলপ ত্রিনিদাদের সেন্ট ম্যারি কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর সম্মান ডিগ্রি লাভ করে ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায়।
এশিয়ার গর্বদক্ষিণ কোরিয়ার ড্রিবলিং মাস্টার লি ইয়াং-পিয়ো ১২৭টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন। ইয়াং সিউলের কোনকাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
আরও যাঁরা গ্র্যাজুয়েটইংল্যান্ডের ফুটবলার স্টিভ পালমার একমাত্র ফুটবলার, যাঁর কিনা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। রুশ ফুটবলার আদ্রে আরশাভিন সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনির্ভাসিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। জাপানের ইউটো নাগাটোমো দোসিশা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেছেন। ইতালির ফুটবলার জর্জো কেলিনি তুরিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক৷ নাইজেরিয়ার ফুটবলার সেই ওলোফিনজানা পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী।
এ ছাড়া আরও কজন ডিপ্লোমাধারী ফুটবলারের খোঁজ পাওয়া গেছে৷ ইংল্যান্ডের ওয়েন রুনি ব্রিটিশ জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (জিসিএসই) উত্তীর্ণ। আইভির কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা অ্যাকাউন্ট্যাসি ডিপ্লোমাধারী। ইতালির ফিলিপ্পো ইনজাগিও ব্যবসায় প্রশাসনে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী। বেলজিয়ামের ফুটবলার রোমেলু লুকাকু টুরিজম ও পাবলিক রিলেশনে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী।
দ্য টেলিগ্রাফ, গোল ডট কম, স্পোর্টস ডট কো ডট ইউকে, উইকিপিডিয়া অবলম্বনে লিখেছেন

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উক্তি





আমি কখনোই আমার পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতাম না, একটি গোল দিলে মনে হতো দুটি দেওয়া দরকার ছিল, দুটি দিলে তিনটি—এটা ভালো খেলতে সাহায্য করত।


গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, আর্জেিন্টনা
বিশ্বকাপে দুবার হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড়

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উক্তি





ফুটবলের মতো জীবনে যদি গোলপোস্ট কোথায় সেটাই না জানো, তবে কখনোই গোল দিতে পারবে না, পারবে না তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পেঁৗছাতে।
রোনালদো, ব্রাজিল
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উক্তি




একটি জয় থেকে তুমি এক লাইনের বেশি শিখতে পারবে না কিন্তু একটি পরাজয় থেকে একটি বইয়ের সমান জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

জিনেদিন জিদান, ফ্রান্স
১৯৯৮ সলের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের অধিনায়ক

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমি ফুটবল জাদুকর নই

পেলে

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলে৷ ১৯৪০ সালে ব্রাজিলে জন্মগ্রহণ করেন ফুটবলের এই মহাতারকা৷ ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য তিনি৷ ফুটবলে বর্ণবাদ বিলোপে ফিফার দূত ও ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন৷

ছয় বছর বয়সে আমি প্রথম ফুটবলে কিক করি৷ সেদিন ছিল আমার জন্মদিন৷ এ জন্য আমার বাবার ফুটবলার বন্ধু সোসা আমাকে একটি চামড়ার বল উপহার দেন৷ সেটিই ছিল আমার সত্যিকারের কোনো বলে লাথি মারার অভিজ্ঞতা৷ তার আগে আমরা মোজার মধ্যে কাগজ ভরে ফুটবল বানিয়ে খেলতাম৷
আমাকে অনেকে জাদুকর ভেবে ভুল করে৷ আমি আসলে জানি না কেন তারা ভুল করে৷ এটা একমাত্র স্রষ্টাই জানেন৷ কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ফুটবলের জন্যই আমাকে সবাই চেনে৷ ফুটবল ছাড়া আমার অস্তিত্ব শূন্য৷ ফুটবল একটি পরিবারের মতন, বিশ্বপরিবার৷ এটা কোনো ছোটখাটো পরিবার নয়, সারা বিশ্বই ফুটবল পরিবার৷ আমি এই পরিবারের জন্য কাজ করে যাই৷ আমি সব সময় চেষ্টা করি অন্যের মঙ্গল করতে৷ আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে অন্যকে খুশি রাখার৷ আমি আগে পা দিয়ে ফুটবল খেলতাম, এখন হৃদয় দিয়ে খেলি৷ আমি ইউনেসকোর হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করি৷ আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টায় থাকি সব সময়৷
আমার ফুটবল খেলার অনুপ্রেরণা অনেকে৷ তারুণ্যে অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার বাবা দোনদিনহো আর ব্রাসিলিয়ার মধ্যমাঠের ফরোয়ার্ড জিজিনহো৷ আমার চোখে তিনি ব্রাজিলের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার৷ মিশেল প্লাতিনি, বেকেনবাওয়ার অসাধারণ ফুটবলার ছিলেন৷ লেভ ইয়াসিন ছিলেন অনন্য এক গোলরক্ষক৷ ফুটবল মাঠে ক্রুইফ, ডি স্টেফানো, জিকো যাঁর যাঁর দিনে হয়ে উঠতেন ভয়ংকর৷ ম্যারাডোনাও ফুটবলের মাঠে দুর্জেয়৷ জর্জ বেস্ট তো ইউরোপ কাঁপানো ফুটবলার৷

ফুটবল আমাকে সব দিয়েছে—খ্যাতি, সম্মান, অর্থ৷ এখন আমি ফুটবলকে দিতে চাই৷ আমি মানুষকে আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা ফেরত দিতে পারব না৷ কিন্তু তার পরও আমি তাদের কিছু দিতে চাই৷ আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই৷ এখন যারা শিশু, আমি তাদের ‘হ্যালো’ বলে ডাক দিই৷ এতে তারা যতটা খুশি হয়, আমি তার চেয়েও বেশি খুশি হই৷ আমি পেশাদার ফুটবল ছেড়েছি ৩০ বছর আগে৷ এখন যারা আট বছর, পঁাচ বছরের শিশু, আমাকে বিমানবন্দরে দেখলে চিৎকার করে ওঠে, ‘মা, দেখো, পেলে!’, ‘বাবা, দেখো, ওই যে পেলে!’ এটা নিঃসন্দেহে অন্য রকম একটি অনুভূতি৷ আমার জন্য এটাই তো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ উপহার৷

আমি ব্রাজিলের ত্রেস কোরাকোয়েস শহরের জন্মগ্রহণ করি৷ আমার নাম অনেক লম্বা! এডসন অরান্তেস দো নাসিমেন্তো—একবার বলা শুরু হলে আর শেষ হয় না; যদিও আমার এত বড় নাম ছোটবেলা থেকে কখনোই পছন্দের ছিল না৷ আমার নামকরণ করা হয় বিখ্যাত উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী থমাস এডিসনের নাম থেকে৷ আমার বাবা ভালো ফুটবলার ছিলেন৷ তিনি সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলতেন৷ তাঁর ঝুলিতে অনেকগুলো গোলও ছিল৷ আমি ছোটবেলা থেকে চাইতাম বাবার মতো হতে৷ কিন্তু একটা ইনজুরি বাবার খেলা বন্ধ করে দেয়৷
আমি শহরের শিশু-কিশোরদের সঙ্গে অনেকটা সময় ফুটবল খেলেছি৷ তাদের কেউ একজন আমাকে ‘পেলে’ বলে ডাকত৷ আমি প্রতিবাদ করতাম, ‘না, পেলে না, আমাকে পেলে নামে ডেকো না৷ আমার নাম এডসন৷’ যারা আমার ভুল নামে ডাকত, আমি তাদের সঙ্গে মারামারি করতে ছুটতাম৷ আমার স্কুলেও একই ঘটনা ঘটত৷ আমাকে পেলে নামে সবাই খ্যাপাত৷ 

আমি সেখানেও মারামারি করতাম৷ আমাকে স্কুল থেকে দুদিনের জন্য বহিষ্কার করা হয়৷ আমার মা-বাবাকে স্কুলে ডাকা হয়৷ আমি তাঁদের বলি, ‘আমাকে পেলে নামে সবাই ডাকে বলে আমি মারামারি করেছি৷ আমি এই বাজে নাম পছন্দ করি না৷ আমার নাম এডসন৷’ এর পরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠল৷ আমাকে সবাই ‘পেলে–পেলে–পেলে’ বলে ডাকা শুরু করল! অনেক সাংবাদিক আমার নামের অর্থ খুঁজতে উদ্গ্রীব৷ পেলে নামের অর্থ কী? তারা আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে, কিন্তু নামের অর্থ বের করতে পারেনি৷ শেষ পর্যন্ত তারা ‘মাদাম পেলে’ নামে এক আগ্নেয়গিরি খুঁজে পায়৷ ব্রাজিলে অনেক ফুটবলারের মধ্যে একজন গোলরক্ষক আমার বাবার বন্ধু ছিলেন৷ তাঁর নাম ছিল ‘বিলে’৷ আমার ধারণা, তাঁর নামের বিকৃত উচ্চারণেই আমার নাম৷ স্রষ্টা ভালো জানেন, আমি জানি না৷
প্রথম বিশ্বকাপে খেলা ছিল অনন্য এক অভিজ্ঞতা৷ এটা ছিল স্বপ্নের মতন৷ প্রথম ম্যাচে গোল করার পরে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল৷ তার পরের সময়টুকু ইতিহাস৷ ফরাসিদের বিপক্ষে আমি তিন গোল করি আর ফাইনাল খেলা ছিল বিস্ময়কর স্বপ্ন! বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার জন্য বিশেষ একটি ঘটনা৷ আত্মবিশ্বাস থাকলে কেউ কাউকে দমিয়ে রাখতে পারে না৷ আমার বাবা আমাকে বলতেন, ‘স্রষ্টা তোমাকে ফুটবল খেলার অনন্য দক্ষতা দিয়েছেন৷ এটা তাঁর উপহার৷ আত্মবিশ্বাস রেখে সেই উপহার কাজে লাগাও৷’
সূত্র: এনটিভি নেটওয়ার্কসের গ্লোবাল লিডার্স অনুষ্ঠান, জিকিউ ম্যাগাজিন ও ফোরফোরটু’কে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমার জীবনটাই যেন সিনেমা

ডিয়েগো ম্যারাডোনা


সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা৷ জন্ম ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জেতে। ওই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর জোড়া গোলের একটি ‘গোল অব সেঞ্চুরি’র মর্যাদা পায়, আর অন্যটি ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে ব্যাপক আলোচিত। ফিফার বিশ শতকের সেরা ফুটবলারের তালিকায় তিনি ও ব্রাজিলের পেলে যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেন৷

মাঝেমধ্যে আমি চিন্তা করি, আমার পুরো জীবনই যেন এক সিনেমা৷ সিনেমার রিলে যেন আমার জীবনের সব ছবি ধারণ করে রাখা আছে৷ সবাই ছোটবেলায় বিখ্যাত কাউকে অনুসরণ করে৷ আমার ছোটবেলায় আর্জেন্টিনায় সত্যিকারের বিখ্যাত অনুকরণীয় ফুটবলার কেউ ছিল না৷ ফুটবল ছিল তখন আর্জেন্টিনার গরিব আর বস্তিতে থাকা ছেলেদের মুক্তির একটা বড় উপায়৷ দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে আমরা ফুটবলকে বেছে নিতাম৷ বুয়েনস এইরেসে আমরা খুব ছোট্ট একটা বাড়িতে থাকতাম৷ ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে যেত৷ আমার বয়স যখন তিন, তখন আমার এক কাজিন আমাকে একটা চামড়ার বল উপহার দেয়৷ সেটাই ছিল আমার প্রথম বল৷ আমি সেই বলটিকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাতাম।
আমার বাড়ির পেছনেই ছিল চতুর্থ লিগের এক ফুটবল দলের স্টেডিয়াম৷ আমি সারা দিন এলাকার আনাচকানাচে ফুটবল খেলতাম৷ সন্ধ্যায় অন্য সব ছেলেপেলে বাড়ি ফিরে গেলে আমি আরও খেলতাম৷ অন্ধকার হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পরও আমার পায়ে ফুটবল থাকত৷ অন্ধকারে আমি চোখে কিছুই দেখতাম না৷ সে জন্য আমি শুধু সামনের দিকে বল কিক করে যেতাম৷ আমি দুটি কাঠি দিয়ে গোলপোস্ট বানাতাম৷ অন্ধকারে সেই গোলপোস্টের অদৃশ্য জালে কিকের পর কিক করে যেতাম৷ এর বছর দশেক পর, যখন আমি প্রথম ক্লাব আর্জেন্টিনো জুনিয়র্সের হয়ে চুক্তি করি, তখন বুঝেছিলাম অন্ধকারে সেই ফুটবলচর্চা আমার কত কাজে লেগেছে৷ আমার প্রথম আয় করা টাকা দিয়ে আমি এক জোড়া ট্রাউজার কিনেছিলাম৷
আমার জন্ম বুয়েনস এইরেসের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত অংশ ফ্যাবেল ফিওরিটোতে৷ সেই অঞ্চলের দারিদ্রের মাত্রা আর আমার ছোটবেলার বন্ধুরা এখনো সেই আগের মতোই আছে৷ শুধু রাজনীতিবিদ আর সরকারি লোকেরাই দিনকে দিন ধনী হচ্ছে৷ আমার সামনেও ধনী হওয়ার অনেক সুযোগ ছিল৷ কিন্তু আমি সেই সুযোগকে ‘না’ করে দিই৷ আমার ‘না’ বলার পেছনে যুক্তি ছিল, আমাকে ধনী হতে হলে গরিবের কাছ থেকে চুরি করতে হবে৷ 
আমি একবার গরিবদের কথা বলার জন্য আর্জেন্টিনার রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ আমার একটি কথাও শোনেনি৷ আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল কিংবা কিউবা সব জায়গাতেই একই সমস্যা—দারিদ্র। ধনী দেশগুলো জন্য আমাদের এই দীনতা৷
এটা সত্য, কোনো কিছু বদলে দেওয়া বেশ কষ্টকর৷ কিন্তু এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা সেই কুশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানি৷ কেউ গরিবদের পক্ষে কথা বলে না৷ সেটা স্বয়ং পোপ থেকে শুরু করে সব দেশের রাজনীতিবিদেরা৷ বার্লিন ওয়াল ধ্বংসের পরে সারা পৃথিবীতে দারিদ্র্যের সংখ্যা বেড়েছে নয় গুণ৷ এদের দেখার কেউ নেই৷
আমি সব সময় আমার বাবার কথা মনে আনি৷ বাবা যখন কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতেন, আমরা তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতাম৷ আট সন্তানের জন্য তিনি বেশি কিছু আয়ও করতে পারতেন না৷ আমরা চুপ করে বাড়িতে বসে থাকতাম৷ আমাদের কোনো খাবার থাকত না৷ আমাদের কষ্ট কেউ বুঝবে না৷ আপনি যদি ক্ষুধার্ত না হন, তাহলে আমার কষ্ট বুঝতে পারবেন না৷ আমার বোন কম খেত, যেন আমি রাতের বেলায় বেশি খেতে পারি৷ এমন পরিস্থিতিতে আপনার অন্য মানুষের প্রতি মায়া, মমতা আর ভালোবাসা তৈরি হবে৷ আমার মা পেটব্যথার ভান ধরে কিছু খেতেন না৷ তিনি সেই খাবার তাঁর সন্তানদের জন্য রেখে দিতেন৷ পাত্রের শেষ দানাটুকু পর্যন্ত তিনি আমাদের দিয়ে দিতেন৷ এই কষ্ট নিয়েই আমার বেড়ে ওঠা৷ আমার মা আমাকে মিথ্যা বলে খাওয়াতেন৷ কেউ কেউ একে কল্পকাহিনি বলে উড়িয়ে দেয়৷ কিন্তু আমার কাছে দরিদ্রতাই সত্য, বাস্তবতা৷ আমি সেসব কষ্টের সময়ের কথা ভুলিনি৷ আমি যে ভুলতে পারব না৷ আমার বাবা কাভানটাকা মার্কেটে কাজ করতেন৷ তিনি সব সময় ভারী ব্যাগ বহন করতেন৷ বৃদ্ধ বয়সেও তিনি ঘাড়ে ব্যাগ টানতেন৷ বাবা যখন বাড়ি ফিরতেন, তাঁর পিঠ আর ঘাড়ে বরফের ব্যাগ রেখে দিতেন মা৷ আমরা ভাইবোনেরা অবাক হয়ে তা দেখতাম৷
আমি ছোটবেলায় কখনো জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে পারতাম না৷ আমাদের কখনোই টাকাপয়সা হাতে থাকত না৷ জন্মদিনে আমার পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন আমার গালে চুমু দিত৷ সেই চুমুই ছিল আমার জন্য বড় উপহার৷
আমি ম্যারাডোনা, যে কিনা গোল করতে পারে, আবার ভুল করতে জানে৷ আমি সব বাধা নিজের মতো করে লড়তে জানি৷ আমার মা সব সময় চিন্তা করতেন আমিই সেরা৷ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই সবচেয়ে কঠিন শ্রমের কাজ৷ আমি ছোটবেলা থেকে আমার মায়ের বিশ্বাসকে শক্তভাবে ধারণ করেছি৷ ফুটবল মাঠে বলে পেছনে দৌড়ানোই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের স্মৃতি৷ সমালোচকেরা আমার নামে অনেক কিছুই বলে৷ কিন্তু কেউ বলতে পারবে না আমি ঝুঁকি নিতে পারি না৷
ম্যারাডোনার আত্মজীবনী এল ডিয়েগো ও সার্বিয়ান সংবাদপত্র পলিটিকায় দেওয়া ম্যারাডোনার সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন.................................

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS