Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

সহজলভ্য খাবার যা পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে




জীবনে নানান বিষয়ে অক্ষমতা বা দুর্বলতা থাকতেই পারে। কিন্তু যৌন দুর্বলতা হচ্ছে এমন একটি বিষয়, যা পুরুষের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং অপমানজনকও বটে। যৌন দুর্বলতার জন্য আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন কোন পুরুষ, এমন ঘটনার নজিরও কম নেই। বর্তমান যুগের স্ট্রেসে ভরা জীবনযাপন পদ্ধতি, ভেজাল খাদ্য সহ নানান ধরণের কারণে শারীরিক অক্ষমতায় ভোগা পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমশ। যদিও এই বিষয়টি থেকে মুক্তি দিতে পারে সঠিক খাদ্য, সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি।
যৌনতার ক্ষেত্রে পুরুষের দুর্বলতা দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে কিছু প্রাকৃতিক খাবার। না, বিদেশী কোন বহুমূল্য খাদ্য নয়। বরং আপনার হাতের কাছেই মিলবে এমন ৭টি খাবার চিনে নিন আজ, যা যৌন দুর্বলতা দূর করে শারীরিক সক্ষমতা সক্ষম।
১) রসুন
রসুনে আছে allicin, যা যৌনাঙ্গে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। সঠিক রক্ত চলাচল পুরুষাঙ্গের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দ্রুত বীর্যপতন প্রতিরোধ করে। রান্নায় তো বটেই, নিয়মিত কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস হার্টের অসুখের পাশাপাশি যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
২) চীনাবাদাম
খুবই সহজলভ্য একটি খাবার হচ্ছে এই চীনাবাদাম, কিন্তু পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। এই বাদাম খুব ভালো প্রাকৃতিক উৎস amino acid ও L-arginine এর, যারা পুরুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয়। Dr. Nicholas Perricone এর মতে, L-arginine পুরুষাঙ্গে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে যা যৌন মিলনের সময় পুরুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন এক মুঠো চীনাবাদাম হতে পারে পুরুষের পরম বন্ধু।
৩) কলা
অত্যন্ত সহজলভ্য ফল এই কলা অসংখ্য গুণের আধার। হ্যাঁ, পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও অত্যন্ত সহায়ক। কলা দেহে প্রচুর এনার্জি যোগায়। এতে আছে একটি বিশেষ এনজাইম bromelain, যা পুরুষের যৌন দুর্বলতা রোধ করতে সহায়ক। আছে প্রচুর ভিটামিন বি, যা যৌনতার সময় ভরপুর এনার্জি যোগায়।
৪) ডুমুর
এই ফলটিকে পরম অবহেলার চোখে দেখা হলেও ডুমুরের গুণের শেষ নেই। ডুমুরে আছে উচ্চ মাত্রায় amino acids যা সকল হরমোনের ভিত্তি রূপে কাজ করে। দেহে amino acids এর অভাব হলে যৌন দুর্বলতা ও যৌনতায় অনাগ্রহ দেখা দিতে পারে।
৫) চিনি ছাড়া চকলেট
যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চকলেট সহায়ক প্রমাণিত হয়েছে, কারণ এতে আছে phenylethylamine ও alkaloid । Phenylethylamine যৌন মিলনের সময় সুখানুভূতি যোগায়, অন্যদিকে alkaloid এনার্জি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে যা সঠিক ও আনন্দময় যৌনমিলনের জন্য জরুরী। তবে চিনি সহ মিল্ক চকলেট নয়, ডার্ক চকলেট হতে হবে। আর আজকাল ডার্ক চকলেট বেশ সস্তা। ক্যাডবেরী কোম্পানির স্বল্প চিনির ডার্ক চকলেট কিনতে পারবেন বেশ অল্প দামেই।
৬) শাকসবজি ও ফলমূল
শাকসবজি-ফলমূল উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর এ কথা আমরা সবাই জানি। দেহের রক্ত সচালল বৃদ্ধি করতে, এনার্জি ধরে রাখতে ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী থাকতে প্রয়োজনীয় সকল উপাদান আছে সাধারণ শাকসবজি ও ফলমূলে।। নানান রঙের শাকসবজি প্রতিদিন রাখতে হবে খাবারের তালিকায়। কাঁচা সবজির সালাদটাই সবচাইতে বেশি উপকারী। নানান রকমের সবুজ শাক থেকে শুরু করে টমেটো, কুমড়া সহ নানান রকমের মৌসুমি ফল ও সবজি খাবেন প্রতিদিন।
৭) কুমড়ার বীজ
ছেলেবেলায় কুমড়ার বীজ ভাজা খেয়েছেন কখনো? এই অবহেলিত খাবারটি কিন্তু পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। কুমড়ার বীজে আছে উচ্চমাত্রায় জিঙ্ক, antioxidants selenium ও ভিটামিন ই। এই উপাদানগুলো দেহে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে ও যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।






  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

৮টি মসলা ক্যান্সারের ওষুধ





আমরা প্রতিদিন যে সব খাবার খায় তাতে বিভিন্ন ধরণের মসলা ব্যবহার করা হয়। কারণ মসলা খাবারকে যেমন সুস্বাদু করে তেমনি খাবারের স্বাস্থ্যগুণ বাড়ায়। কিছু কিছু মসলা আছে যা মরণব্যাধি রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা পর্যন্ত করে থাকে। এখন জেনে নিন বেশ কয়েকটি সবজি ও মসলার নাম যেগুলো ক্যান্সারের ওষুধের মতো কাজ করে।
১. কাঁচা মরিচ ও ক্যাপসিকাম : এই ঝাল স্বাদের খাদ্যে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান রয়েছে। তবে অতিমাত্রায়া ঝাল খেতে মানা করেন চিকিৎসকরা। ক্যাপসিকামের উপাদান লিউকোমিয়া টিউমারের কোষকে বাড়তে দেয় না।
২. আদা : এই ঝাঁঝালো স্বাদের খাদ্য উপাদানটি দেহে ক্ষতিকারক কোলেস্টরেলের কমায় এবং বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। যেকোনো খাবারের স্বাদ বাড়ায় আদা। সেই সঙ্গে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এর উপাদান।
৩. ওরেগানো : পিৎজা বা পাস্তার স্বাদ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে ওরেগানো। মাত্র এক কাপ ওরেগানোতে সাইটো-কেমিক্যাল ‘কোয়ারসেটিন’ রয়েছে যা ক্যান্সার ঘটায় এমন রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।
৪. দারুচিনি : মাত্র অর্ধেক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া খেলে আপনি পুরোপুরি ক্যান্সারমুক্ত থাকবেন। এটি টিউমার বাড়তে বাধা দেয়।
৫. জিরা : এটি হজমে ব্যাপক সহয়তা করে। যার কারণে পেট পুরে খাওয়ার পর অনেকেই এক চিমটি জিরা চিবাতে থাকেন। জিরায় ‘থাইমোকুইনন’ নামের উপাদান রয়েছে যা প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিহত করে।
৬. জাফরান : এতে রয়েছে প্রাকৃতিক ক্যারোটেনয়েড ডিকার্বোক্সাইলিক এসিড রয়েছে যার নাম ‘ক্রোসেটিন’। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভালো একটি উপাদান। এই জাফরান বা সাফরন ক্যান্সার টিউমারের আকারকে প্রায় অর্ধেকে করে দিতে পারে অল্প সময়ের মধ্যে।
৭. ফেনেল : সাইটো নিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি খাবার যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
৮. হলুদ : হলুদের গুঁড়াকে মসলার রাজা বল যেতে পারে। একটি শুধু স্বাদই বাড়ায় তা নয়, এটি পলিফেনল উপাদান প্রোস্টেট ক্যান্সার, মেলানোমা, স্তন ক্যান্সার, ব্রেইন টিউমার, লিউকোমিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকর।


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

নৈশনিদ্রায় নগ্নতা কতটা স্বাস্থ্যকর



না এটা কোনও বাজে কথা নয়। ঘুমানোর সময় নগ্নতা কেন জরুরী তা আলোচনা করা হবে। কিন্তু, সবার আগে বলি বিদেশের সিনেমাগুলি ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন, নায়ক বা নায়িকা বা অন্যান্য চরিত্রদের যখন রাতের বেডরুমের দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাঁদের পরনে থাকে হয় স্বল্পমাত্রার কিছু পোশাক নয়ত সম্পূর্ণ নগ্ন। এইবার আসি এইখানকার দৃশ্যে, এক দম্পতি পরস্পর পরস্পরের কাছে ভীষণ আপন। তাঁদের সম্পর্কে কোনও বেড়াজাল থাকে না। তাই তাঁরা নিঃসন্দেহে নগ্নতা অবলম্বন করতে পারে রাত্রে।

হ্যাঁ, এইবার আপনি হয়তো কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন। আর, সেখানে আপনার পরিবারের সঙ্গে রুম শেয়ার করতে হচ্ছে। তখন এই লজিক খাটে না। একমাত্র দম্পতির ক্ষেত্রেই এই লজিক খাটবে। অন্য কোনও সম্পর্কে নয়।
ঘুমের গুনগত মান বেড়ে যায়: ঘরের তাপমাত্রা বেশি হলে নগ্ন হয়ে ঘুমানো খুবই ভাল। শরীরের ভারী পোশাক ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরের তাপমাত্রা ঘুমের গভীরতায় প্রভাব ফেলে। ফলে নগ্ন হয়ে ঘুমালে শরীর অতিরিক্ত তাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারে।
ভাললাগার হরমোন নিঃসরণ: স্পর্শ অক্সিটোসিন নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়। নিঃসন্দেহে নগ্ন হয়ে ঘুমালে আপনার শরীর তুলনামূলভাবে বেশি স্পর্শ পাবে। এতে শরীরে অক্সিটোসিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যাবে। যৌন কামনা, বন্ধন দৃঢ় করার জন্য অক্সিটোসিন হরমোন বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া এই হরমোন মানসিক চাপ কমান, বিশ্বাস-আস্থা বৃদ্ধি করে, হ্নদযন্ত্রের চাপ স্বাভাবিক রাখা ও যৌন প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখার কাজ করে।
তারুণ্য ধরে রাখতে: নগ্ন হয়ে ঘুমালে শরীর থেকে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধক মেলাটোনিনের নিঃসরণ সহজ হয়। ফলে, এইভাবে ঘুমানো তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে: ভাল ও গভীরভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে নগ্ন ঘুম। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে ও শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পুড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে। ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ঘার্লিন হরমোনের প্রবাহ বেড়ে যায়, যা ক্ষুধা বাড়ায় ও ইনসুলিনের প্রবাহকে বৃদ্ধি করে। ফলে, বহুমূত্র ও হৃদরোগ সৃষ্টি হতে পারে।
রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে: গলা ও কোমড়বন্ধ পোশাক শরীরের নিন্মাঙ্গে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নানান রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। কিন্তু নগ্নভাবে ঘুমে শরীরের রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক থাকে। যা শরীরের পেশি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঙ্গকে সতেজ ও স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে।
আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে: নগ্ন ঘুম দম্পতিদের সম্পর্কের মধ্যকার বাধা দূর করে। সম্পর্কে করে তোলে আরো নিবিড়।
যৌন উত্তেজনা: নগ্ন ঘুম সঙ্গীর প্রতি যৌন সম্পর্কের জন্য উন্মুক্ত আহ্বান।চাইলেও কোন দম্পতি একে অন্যকে পাশ কাটিয়ে ঘুমাতে পারেন না।
আত্মবিশ্বাসী করে তোলে: অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, নগ্ন ঘুম নিজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। করে তোলে আত্মবিশ্বাসী।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

নিজেকে কখনো ক্ষুদ্র ভেবো না

বারাক ওবামা


বারাক ওবামা




যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, ৪ আগস্ট ১৯৬১। সম্প্রতি ৬ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১২ সালের ১৪ মে বার্নার্ড কলেজের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তৃতা দেন।

উপস্থিত সবাইকে আমার অসংখ্য ধন্যবাদ! অভিনন্দন ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা! তোমাদের চারপাশের সবাই আজ তোমাদের নিয়ে গর্বিত। তোমাদের বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, সবাইকে অভিনন্দন!
আমি গ্র্যাজুয়েশন করি ১৯৮৩ সালে। তখন আমাদের আইপড ছিল না, ছিল শুধু ওয়াকম্যান। টাইমস স্কয়ারও আজকের মতো ছিল না। সেসব এখন ইতিহাস। আমি জানি, সমাবর্তন বক্তা ইতিহাসের বুলি কপচানো শুরু করলে তার মতো বিরক্তিকর ব্যাপার আর হয় না!

তোমাদের জন্য আমার প্রথম উপদেশ, কোনো কাজই দায়সারাভাবে করবে না। কাজ যখন করবেই, দারুণ কিছু একটা করবে। নিজের স্বপ্নের জন্য সংগ্রাম করবে। যদি বড় কিছু হতে চাও, তার জন্য কাজও সেভাবেই করতে হবে। তোমাদের সামনে যে অবারিত সুযোগ আছে, সেগুলোকে ঠিক সময়ে কাজে লাগাতে হবে। শুধু নিজেদের উন্নতির জন্য নয়, যারা তোমাদের সমান সুযোগ এখনো পায়নি, তাদের উন্নয়নের জন্য তোমাদের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
তোমার ভবিষ্যৎ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে অন্যের কথায় কান দিয়ো না। জীবন তোমার নিজের হাতে। কোনটা উচিত, কোনটা অনুচিত—নিজেই বুঝে নিতে শেখো। সব সময় নিজের অধিকার নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে। তোমার সমস্যা তোমাকেই সবার সামনে তুলে ধরতে হবে, রাস্তায় তোমাকেই নামতে হবে। শুধু বসে বসে কী হচ্ছে দেখলে চলবে না।
যা ঠিক, তাকে জোর গলায় বলতে দ্বিধা কোরো না। অন্য কেউ বলবে, সেই আশায় বসেও থেকো না। হয়তো অন্যরাও একই কথা ভাবছে, হয়তো সবাই তোমার অপেক্ষায় বসে আছে, কে জানে! আর তাই 

তোমাদের জন্য আমার দ্বিতীয় উপদেশ, নিজেকে কখনো অবমূল্যায়ন কোরো না। তুমি নিজেই সম্ভাবনার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠতে পারো, তখন তোমার সাফল্য আর দশজনকে স্বপ্ন দেখাতে উৎসাহিত করবে। নিজের এই বিপুল সম্ভাবনাকে কখনো ছোট করে দেখো না। তোমাদের আমি এক নারীর গল্প বলতে পারি। তার পরিবার এ দেশে অভিবাসী হয়ে এসেছিল। স্কুলে থাকতে তাকে বলা হতো, তার মাথায় যে বুদ্ধি, তাতে কলেজে ভর্তি না হওয়াই শ্রেয়। তার শিক্ষক উপদেশ দিয়েছিলেন, স্কুলের পড়ার পাট চুকিয়ে কোনো একটা কাজে লেগে যেতে। কিন্তু মেয়েটি ছিল ভীষণ জেদি, সে শিক্ষকের কথা কানে তোলেনি। সে কলেজে ভর্তি হলো। একসময় মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করল। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচল করল, জিতে গেল। প্রাদেশিক পদের জন্য লড়াই করল, সেখানেও জিতল। কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নিল, সেখানেও না জিতে ছাড়ল না। শেষ পর্যন্ত হিলডা সলিস পড়াশোনার পাট চুকিয়েছে, কাজও করছে। তবে যেখানে-সেখানে নয়, সে আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে! 
ভেবে দেখো, আজ যখন কোনো ছোট্ট লাতিন মেয়ে দেখছে তার মতোই আরেকজন মেয়ে দেশের মন্ত্রী হতে পেরেছে, তখন সে কতটা উৎসাহিত বোধ করে! একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী যখন দেখে তার মতো কেউ জাতিসংঘের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার স্বপ্ন কতটা বদলে যায়! তুমি জানোও না, নিজের অজান্তেই এই পৃথিবীতে তুমি কত কিছু বদলে দিতে পারো। নিজেকে কখনো ক্ষুদ্র ভেবো না, নিজের সম্ভাবনার অমর্যাদা কোরো না। নিজেকে দশজনের জন্য রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করো। তুমি আজ যেখানে এসেছ, সেখানে আসতে অন্যদের উৎসাহিত করো, সহযোগিতা করো। একজন মেয়ে যত দিন না নিজেকে কম্পিউটার প্রোগ্রামার কিংবা সামরিক কমান্ডার হিসেবে কল্পনা করবে না, তত দিন সে তা হতেও পারবে না। আশপাশের নারীরা যত দিন তাকে না জানাবে যে বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা ফ্যাশন ছাড়াও চিন্তাভাবনার অনেক কিছু আছে—নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হবে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, নেতৃত্ব দিতে হবে—তত দিন পর্যন্ত সে হয়তো ভাববে সৌন্দর্যের মধ্যেই তার জগৎ সীমাবদ্ধ। তোমরা নিজেদের গুরুত্ব অনুধাবন করো এবং নিজেদের শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাও। 

আমার শেষ উপদেশ হলো, ধৈর্য ধরো। শুনতে খুবই সহজ আর সাদামাটা মনে হচ্ছে, কিন্তু এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ভালো জিনিসই সহজে পাওয়া যায় না। এমন কোনো সফল মানুষ পাবে না, যে ব্যর্থতাকে এড়িয়ে যেতে পেরেছে। বরং তার উল্টোটাই হতে দেখা যায় সব সময়। তারা মারাত্মক সব ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েও দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে। তারা ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না।

তোমাদের বয়সে আমার পকেটে টাকা বলতে গেলে ছিলই না, সামনে এত সুযোগও ছিল না। এই বিশাল পৃথিবীতে আমি নিজের স্থান খুঁজে ফিরছিলাম। আমি চাইতাম বড় কিছু করতে, চারপাশকে বদলে দিতে। কিন্তু কীভাবে তা করব, এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না আমার। গ্র্যাজুয়েশনের পর আমাকে এই নিউইয়র্কে অনেক ছোটখাটো কাজ করে জীবন চালাতে হয়েছে। তবু আমি ভুলে যাইনি আসলে কী করতে চেয়েছিলাম।

অসীম ধৈর্য আমার জন্মগত কোনো গুণ নয়। আমি ধৈর্য ধরতে শিখেছি। শৈশবে যে নারীরা আমাকে লালনপালন করেছিলেন, তাঁদের দেখে আমি শিখেছি ধৈর্য কী জিনিস। আমার মা কী সংগ্রাম করে একই সঙ্গে পড়াশোনা, চাকরি আর আমাকে সামলেছেন, তা আমি দেখেছি। অসম্ভব অর্থকষ্ট, তার ওপর ভেঙে যাওয়া সংসার। কিন্তু তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। খুব ভোরে মা আমাকে ডেকে তুলতেন ইংরেজি পড়ার জন্য। আমার বিরক্তির সীমা ছাড়িয়ে যেত। অভিযোগ করলে মা বলতেন, ‘এটা আমার জন্যও পিকনিক নয়, গাধা কোথাকার!’ পরে আমি আমার নানির কাছে বেড়ে উঠি। তিনি হাইস্কুলের পর আর পড়তে পারেননি। একটা স্থানীয় ব্যাংকে কাজ করতেন নানি। যেসব পুরুষকে তিনি একসময় প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, তাঁর চোখের সামনে তারা পদোন্নতি পেয়ে ওপরে উঠে যেত। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়ে কাজ করে গেছেন। একসময় তিনি সেই ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। না, তিনিও হার মানেননি। 


পরে আমার সঙ্গে এক নারীর দেখা হয়, যাঁর দায়িত্ব ছিল আমার চাকরির ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া। তিনি আমাকে এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন যে শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে বিয়েই করে ফেলি! বিয়ের পর ক্যারিয়ার আর সংসার একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মিশেল ও আমি দুজনেই দারুণ হিমশিম খেয়েছি। আমাদের ধৈর্য ছিল বলেই সেই কঠিন সময়গুলোতে সংসার টিকিয়ে রাখতে পেরেছি। মিশেলের বাবা-মা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন। তাঁদের আদর্শের গুণেই আজ মিশেল এত কিছু সামলে নিতে পেরেছে, আমার জীবনের ওঠানামার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।

এই মানুষেরাই আমার সব অনুপ্রেরণার উৎস। যাদের কথা কখনো খবরে আসে না, যারা দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে আছে, কেউ চেনেও না তাদের। তারা শুধু নিজের দায়িত্ব নিঃশব্দে পালন করে যায়, বিপদের সামনে শক্ত হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, কোনো কিছুতেই তারা হার মানে না। আমি আজ তাদের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি। তারা নিজেরা পৃথিবী বদলানোর জন্য উঠেপড়ে লাগেনি, কিন্তু তারা আছে বলেই পৃথিবীটা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, যাবে। 

মনে রেখো, এই পৃথিবীতে নিজের চিহ্ন রেখে যাওয়া সোজা নয়। এর জন্য ধৈর্য ধরতে হয়, প্রতিজ্ঞা থাকতে হয়। হেসেখেলে সফল হওয়া যায় না। সাফল্যের জন্য প্রতি মুহূর্তে ব্যর্থতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়।

তুমি যদি সংগ্রাম করে নিজের জায়গা করে নিতে পিছপা না হও, দশজনের সামনে নিজেকে দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারো আর যত বাধা আসুক না কেন হাল ছেড়ে না দিয়ে লেগে থাকতে জানো, তাহলে আমি নিশ্চিত বলতে পারি, শুধু তুমিই সফল হবে না, তোমাকে দেখে আরও অনেকে সফল হতে শিখবে। তোমাদের সাফল্যে গোটা জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। 
ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুন।


সূত্র: ইন্টারনেট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকার উপায়



ডায়াবেটিস নতুন কোন রোগ নয়, এর ইতিহাস অনেক দিনের। এই রোগটি খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালে শনাক্ত করা হয় মিসরে। সে সময় এর নাম দেওয়া হয় অতি দ্রুত মূত্র শেষ। অনেকটা একই সময়ে ভারতে এই রোগ শনাক্ত হয়। তখন এর নাম রাখা হয় মধুমেহ অর্থাৎ মধুমূত্র। ডায়াবেটিস রোগীর মূত্রে পিঁপড়া ভিড় জমায় বলেই এই নামকরণ। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডি এফ) একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫২ মিলিয়ন লোক, অর্থাৎ ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে। তাই যদি সত্যি হয় তাহলে দুই দশকের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে ২০০ মিলিয়ন বা এরও বেশি লোক আসবে নতুন স্বাস্থ্য- সমস্যা হিসেবে। ডঐঙ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) এর অনুমানে, বর্তমানে এ রোগে ভুগছে ৩৪৬ মিলিয়ন লোক।



জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষনায় (২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর) ডায়াবেটিসকে দীর্ঘ মেয়াদি, অব্যয়ী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যা মানব দেহে মারাতœক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কেননা ডায়াবেটিস রোগী যে খাদ্য গ্রহন করছে তা থেকে তৈরি হচ্ছে গ্লুকোজ। আর এই গ্লুকোজের সবটুকু তার দেহে ব্যবহার হচ্ছে না, অর্থাৎ তার রক্তে মিশে থাকছে অতিরিক্ত গ্লুকোজ । এতে করে তার রক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন। এই ঘন রক্ত চিকন চিকন রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবং তা আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে রক্ত চলাচলের পথ। আর যে পথে রক্ত পৌঁছাবে না সে পথে কোনো অক্্িরজেনও পৌঁছায় না। ফলে অক্্িরজেনের অভাবে শরীরের ভিতরকার কোষ বাঁচতে পারে না। তার মানে কতগুলো টিস্যুর নির্ঘাৎ মৃত্যু। এমন করে অঙ্গহানির পথে এগোবে শরীর যন্ত্র। অতিরিক্ত গ্লুকোজ মেশা ঘন রক্ত ছাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একে একে সব অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে অসম্ভব দ্রুতগতিতে।



তাহলে করণীয় কি কিছুই নেই? আছে। সচেতনতা ও নিয়মানুবর্তিতাই ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনের সহজ উপায়। সচেতনতামূলক কর্মকান্ড হিসেবে ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা, এ সংক্রান্ত নিবন্ধ পাঠ্যপুস্তকে রাখা, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের প্যাকেটের গায়ে চর্বির পরিমাণ ও ক্যালরি ভ্যালু উল্লেখ করা। নতুন স্কুল-কলেজের অনুমতি দেয়ারেে ত্র একক বা যৌথ খেলার মাঠ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা, টিভি ও রেডিওতে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও শ্লোগান প্রচার করা, এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং কাব ও সুইমিং কাব গড়ে তোলা, নতুন বসতি গড়ে তোলার অনুমতিদানে রাস্তা রাখার বাধ্যবাধকতা করা, হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিার ব্যবস্থা রাখা, ধর্মীয় নেতাদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বক্তব্য দানে উৎসাহিত করা এবং মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে উৎসাহিত করা।



একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ। কী করা উচিতঃ ১. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ প্রচুর ফল ও শাকসবজি। ২. সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ২০ মিনিট করে হাঁটা। ৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝঁকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম। ৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করা। ৫. মদ্যপান না করা। এই ৫টি গাইডলাইন মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।



ডায়বেটিস নিয়ে গবেষণাঃ স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা অনেক বড় বড় রোগের কারণ নির্ণয় করেছেন এবং তদানুসারে ঔষুধও আবিষ্কার করেছেন। ম্যালেরিয়া, কলেরা, গুটি বসন্ত ইত্যাদি ভয়াবহ রোগগুলোর কারণ আবিষ্কৃত হওয়ায় এ অসুখগুলো নিয়ে মানুষ আর চিন্তিত নয়।‘হলে যা, নাই রা' -এ প্রবচন আজ মানুষ বিষ্মৃত প্রায়। কিন্তু প্রাণান্তকর চেষ্টা ও শত গবেষণা সত্বেও ডায়াবেটিসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এক সময় মানুষের ধারণা ছিল ডায়বেটিস রোগ হলে আর রা নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে আজ এই রোগটিকে মানুষ তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। যদিও ডায়বেটিস রোগের কোন নিরাময় নেই, এটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সারাজীবন সুস্থ সবল ভাবে বেঁচে থাকা যায়। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ে বেশ কয়েকটা আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের বেশ উৎসাহিত করেছে। উল্লেখ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণাগারের এক পরীায় দেখা গেছে ক্যান্সারের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত গ্লিভেক এবং সুটেন্ট টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস প্রতিরোধে সম। ইঁদুরের ওপর চালানো এ পরীায় দেখা গেছে গ্লিভেক এবং সুটেন্ট ইঁদুরের শরীরে টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস ছড়াতে বাধা দেয় এবং ৮০ ভাগেে ত্র তা ডায়বেটিস কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া ভারতের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ডায়বেটিক রোগীদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় তারা দেখেছেন দুর্বাঘাসের নির্জাস রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অর্ধেক পর্যন্ত হ্রাস করতে সম। এ নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা চলছে। যদি এ গবেষণা সফল হয় তাহলে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসবে মাঠে ঘাটে অযতেœ বেড়ে ওঠা এই দুর্বাঘাস।



ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে। অতএব, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনই পারে আমাদের এ রোগ থেকে দুরে রাখতে।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ডায়বেটিস


আমাদের দেশে ডায়বেটিস হল এখন একটি সাধারন অসুখ। দেশের অধিকাংশ মানুষই এই রোগে ভুগে থাকেন। কিন্তু এই রোগটি হল, নানান অন্যান্য সমস্যার সুচনা স্বরূপ। তাই এই রোগটি প্রায় অধিকাংশেরই হয় বলে, সাধারন ভাবা উচিত নয়। এটি অবশ্যই একটি জটিল সমস্যা। তাই এই রোগের আশংকা হলে, দ্রুত তা নির্ণয় করা প্রয়োজন,

Fasting Blood Glucose: এই পরীক্ষাটি সকালে নাস্তার আগে খালি পেটে করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ৬.১ মিলি মোল/লিটার বা তার কম।   

2 Hour After Breakfast:
এই পরীক্ষাটি নাশতা করার দুই ঘন্টা পর করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ মিলি মোল/লিটার বা তার কম। 

Random: এই পরীক্ষাটি দিনের যেকোনো সময় করা যেতে পারে। এর স্বাভাবিক মাত্রা ৫.৫ থেকে ১১.১ মিলি মোল/লিটার। 

Oral Glucose Tolerance Test (OGTT): 
যাদের খানি পেটে  FBG ৬.১ এর বেশী কিন্তু ৭.০ মিলি মোল/ লিটারের কম কিংবা দিনে যে কোন সময় ৫.৫ এর বেশী কিন্তু ১১.১ মিলি মোল/ লিটারের কম, তাদের এ পরীক্ষাটি করা খুবই জরুরি। কারন এই পরীক্ষার মাধ্যমে কারো ডায়বেটিস আছে কি নেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই পরীক্ষার জন্য রোগীকে খালি পেটে রক্ত দিতে হবে। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে এবং ঠিক দুই ঘন্টা পর আবার রক্ত দিতে হবে। এই দুই ঘন্টা রোগী অন্য  এ পরীক্ষায় যে রোগীর খালী পেটে ৭.০ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি এবং দুই ঘন্টা পর ১১.১ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি হবে তাকে নিশ্চিত ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। গ্লাইকোলাইলেটেড হিমোগ্লোবিন এ পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রক্তে গত ৪ মাসের গ্লুকোজের মাত্রার একটা ধারণা পাওয়া যাবে। এ পরীক্ষাটি খালি পেটে অথবা খাওয়ার পর যে কোন অবস্থায় করা যায়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ৭% নিচে থাকা বাঞ্চনীয়।কোন খাবার খেতে পারবে না। 

দায়বেটিস একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা, তাই এর লক্ষন ধরা দিলে, বা নিজে আশংকা করলে দ্রুত নির্ণয়ের ব্যবস্থা নিন। এবং সুস্থ থাকুন।


ডায়বেটিস কি এবং প্রতিরোধে আমাদের করনীয়
ডায়বেটিস কি?

ডায়বেটিস হলো রক্তের উচ্চ গ্লুকোজ জনিত স্বাস্থ্য সমস্যা। তেল ছাড়া রেলগাড়ি নামের যন্ত্রটি চলে না। মানবদেহ এক ধরনের যন্ত্র। আর এই যন্ত্রের তেল হচ্ছে গ্লুকোজ নামের একটি পদার্থ। রেলগাড়ির তেল জ্বালাতে যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, তেমনি আমাদের দেহের গ্লুকোজকে কাজে লাগাতে হলে ইনসুলিন নামের একটি পদার্থের প্রয়োজন। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্ত থেকে গ্লুকোজের কণাগুলোকে টেনে এনে দেহের কোষে দেওয়া। এই ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় থেকে। যখন অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা তৈরি হওয়া ইনসুলিন দেহ ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারে তখনই রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর এর ফলে দেহে তৈরি হয় নানা অসামঞ্জস্য। এর নাম ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ।

ডায়াবেটিস রোগী যে খাদ্য গ্রহন করছে তা থেকে তৈরি হচ্ছে গ্লুকোজ। আর এই গ্লুকোজের সবটুকু তার দেহে ব্যবহার হচ্ছে না, অর্থাৎ তার রক্তে মিশে থাকছে অতিরিক্ত গ্লুকোজ । এতে করে তার রক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন। এই ঘন রক্ত চিকন চিকন রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবং তা আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে রক্ত চলাচলের পথ। আর যে পথে রক্ত পৌঁছাবে না সে পথে কোনো অক্সিজেনও পৌঁছায় না। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শরীরের ভিতরকার কোষ বাঁচতে পারে না। তার মানে কতগুলো টিস্যুর নির্ঘাৎ মৃত্যু। এমন করে অঙ্গহানির পথে এগোবে শরীর যন্ত্র। অতিরিক্ত গ্লুকোজ মেশা ঘন রক্ত ছাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একে একে সব অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে অসম্ভব দ্রুতগতিতে।
ডায়বেটিস যে শুধু বয়স্ক ব্যাক্তিদের হয় তা নয়। শিশুদেরও হতে পারে ডায়বেটিস।ইদানীংকালে শারীরিক কর্মকাণ্ড (খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি) কমে যাওয়ার কারণে অনেক অল্পবয়সী শিশু-কিশোরদেরও ডায়বেটিস হচ্ছে। সুষম খাদ্য এবং ব্যায়াম চর্চার অভাবে ডায়বেটিস এ আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু ডায়বেটিস বা বহুমুত্র রোগে ভুগছে। ডায়বেটিসে আক্রান্ত একজন বয়সী ব্যক্তির মধ্যে যে ধরণের উপসর্গ দেখা দেয় তার সবই শিশুরোগীদের মধ্যেও দেখা দেয়।

ডায়বেটিস এর প্রকারভেদঃ
ডায়বেটিস ২ রকম।

টাইপ ১ ডায়বেটিস খুব দ্রুত উপসর্গ দেখায় এবং খুব দ্রুত ডেভেলপ করে, সাধারণত সপ্তাহ দুই-তিনেকের মধ্যে। উপসর্গগুলো তাড়াতাড়ি চলেও যায় যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

টাইপ ২ ডায়বেটিস খুব ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে, কয়েক বছর ধরে। কেবলমাত্র নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করানোর মাধ্যমেই তা ধরা পড়া সম্ভব। নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখলে উপসর্গগুলো দূর করা সম্ভব।

উপসর্গঃ
প্রধান উপসর্গসমূহের মধ্যে যেগুলো সাধারণত দেখা যায়ঃ

- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, বিশেষ করে রাতে।
- ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া।
- খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া।
- হঠাৎ করে দ্রুতহারে ওজন হ্রাস পাওয়া।
- যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশান দেখা দেয়া।
- শরীরের কোথাও কেটে ছিড়ে গেলে, খুব আস্তে ধীরে ক্ষত শুকানো।
- ঝাপসা দৃষ্টি।

ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা কাদের বেশীঃ
যাদের বংশে ডায়বেটিস রোগ আছে তাদের টাইপ ১ ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা বেশী। এছাড়া টাইপ ২ ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা বেশী হয় বয়সের সাথে - বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী হয়।

ক. এশিয়ান এবং আফ্রিকানদের ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী।

খ. একজন মা যখন বেশী ওজনের সন্তান গর্ভে ধারন করেন তখন তার ডায়বেটিসের 
সম্ভবনা বেশী ....

গ. ওজন বেশী যেমন পুরুষের কোমড়ের মাপ ৩৫ ইন্চির বেশী এবং মহিলাদের ৪০ ইন্চির বেশী হলে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী দেখা যায়।

ঘ. অলস জীবনযাপন করলে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী থাকে।


প্রতিরোধঃ
কিছু কিছু নিয়ম পালন করলে ডায়বেটিস থেকে সাবধানে থাকা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েকটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ।
১.স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড (বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজা, শর্মা, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইজ ইত্যাদি), কোমল পানীয় এবং চকলেটসহ যেকোনো মিষ্টি খাবারেই ডায়বেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এগুলো থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন এবং তাদের এসব খেতে নিরুৎসাহিত করুন, সহজ ভাষায় এর অপকারিতা বর্ণনা করুন। ঘরের খাবার খাওয়ার অভ্যেস করুন। এবং প্রতিদিনের খাবারের চার্টে প্রচুর ফল ও শাকসবজি রাখুন। প্রতিদিন নির্দ্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২.নিজে নিয়ম করে দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন, সাথে আপনার সন্তানকেও বলুন আপনার সাথে যোগ দিতে। আপনার উৎসাহই পারে তাদের সুস্থ রাখতে।
৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝুকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম।
৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করুন এবং মদ্যপান পরিহার করুন।
৫.বাসায় একটি ডায়বেটিস পরিমাপের যন্ত্র কিনে নিতে পারেন, যাকে ইংরেজিতে বলে গ্লুকোমিটার। ইদানীং বাজারে সস্তায় এগুলো পাওয়া যায়। নিয়ম করে, মাসে অন্তত একবার পরিবারের সবার ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন।
অনেক ডায়বেটিস রোগীকেই দেখা যায় নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন নিতে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না! পুণরায় বলছি, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না!যাদের ইতোমধ্যে ডায়বেটিস আছে, এবং যারা প্রেস্ক্রাইবড ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে খালি পেটে থাকবেন না। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজ খুব বেশি কমে যাওয়া) হয়ে যেতে পারে যার ফলাফল খুব একটা সুখকর নয়।এই গাইডলাইনগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।

ভয়াবহতাঃ
ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে।অন্যদের তুলনায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির হৃৎরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের আশংকা থাকে ৪ গুণ বেশি।

ঔষধঃ
ডায়বেটিসের যেসব পথ্য আছে এর মধ্যে ইনসুলিন এবং কিছু ওষুধ রয়েছে। এদের মূল কাজ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা। তবে এসব ওষুধ কিছুটা ব্যয় বহুল।   




ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকার উপায়:


ডায়বেটিস বা বহুমূত্র আজকের যুগের অন্যতম মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। এ রোগের সাথে খাদ্যের গভীর সর্ম্পক আছে সে কথাও সবাই জানেন। তাই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কি ধরণের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত সে ব্যাপারে আলোচনা করেছেন ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডায়বেটিক হাসপাতাল বা বারডেমের সিনিয়র পুষ্টিবিদ খালেদা খাতুন। 


আলোচনাটি পরিবেশন করা হলো : 
ডায়বেটিস রোগের প্রকোপ বর্তমান কালে বেড়েছে। কেউ কেউ মনে করেন আংশকাজনক ভাবেই বেড়েছে। শহর কেন্দ্রিক মানুষের তুলনামূলক অলস জীবন যাপন আর এর সাথে অতিরিক্তি কথিত 'সুখাদ্য' এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি করেছে। ডায়বেটিস হলে দেহে পরিমাণমতো ইনস্যুলিন তৈরি হয় না বা তার ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে দেহ চিনি জাতীয় খাদ্যকে ভেংগে আর হজম করতে পারে না। রক্তে চিনির মাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায়। বহুমুত্রের পথ ধরে রোগীর দেহে হৃৎরোগ, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ দেহে বাসা বাধতে পারে। এ কারণে ডায়বেটিসকে রোগের জননী বলা হয়। ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে, প্রথমেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অর্থাৎ চিনি জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত তেল চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। একই সাথে অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাওয়া যথাসাধ্য বন্ধ রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। তবে সাধারণভাবে চিকিৎসকরা মনে করেন, কেউ যদি খাদ্য গ্রহণে সতর্ক না হোন এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করেন তবে তিনি যতই ওষুধ গ্রহণ করুন না কেন, তার রক্তের চিনির মাত্রা হ্রাস পাবে না, বহুমুত্র নিয়ন্ত্রিত হবে না। একই সাথে ডায়বেটিসের পথ ধরে অন্যান্য রোগের আক্রমণের আশংকা কমবে না। একজন সাধারণ মানুষ যে পরিমাণ শর্করা জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ ভাত বা রুটি খান ডায়বেটিসের রোগী মোটেও সে পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করতে পারবেন না। তার যে পরিমাণ ক্যালোরির প্রয়োজন পড়ে তার মধ্যে ষাট থেকে সত্তর শতাংশ শর্করা খাদ্য হওয়া উচিত। এরপর বাকি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রোটিন বা আমিষ এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাবার থেকে অর্জন করা উচিত। বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে অনেকের জন্য খাদ্যের যোগাড় করাই মুশকিল হয়ে দাড়ায়। খাদ্য সমস্যার কথা মনে হলেই এ দেশে আমিষ বা প্রোটিন ঘাটতির কথাই বেশি আসে। তাই এ সব দেশের আমিষ সমস্যার কথা মনে রেখেই রোগীর খাদ্যের আমিষের কথাটি বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে একটি মাপকাঠিও পাওয়া গেছে। সাধারণ ভাবে পূর্ণ বয়সী মানুষের দেহের ওজন যতো কিলোগ্রাম হবে তত গ্রাম আমিষ তাকে খেতে দিতে দিতে হবে। অর্থাৎ কারো ওজন যদি ৭৫ কিলোগ্রাম হয় তবে তাকে ৭৫ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হবে। তবে শিশুদের বেলায় এই পরিমাণ একটু বাড়বে। অর্থাৎ তাকে প্রতি কিলো ওজনের জন্য ১ দশমিক ২ গ্রাম আমিষ সরবরাহ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো শিশুর ওজন যদি ১৮ কিলোগ্রাম হয় তবে তাকে ২১ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হবে। তবে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটবে। যে সব মায়ের ডায়বেটিস আছে তারা পরিপূর্ণ ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ না করে তাদের গর্ভ ধারণ করা মোটেও উচিত হবে না। গর্ভে সন্তান থাকাকালীন অবস্থায় এ ধরণের মায়ের খাদ্য তালিকায় চিনি জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ছাড়া আর কিছু খাবার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো দরকার নেই। অন্যদিকে সন্তান গর্ভে থাকার কারণে অনেকের মধ্যে বহুমুত্রের উপসর্গ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাবে সামান্য সতর্কতা ছাড়া বিশেষ কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে না। ডায়বেটিস রোগীর খাবারের সময় সূচি রক্ষা করা একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। এ ধরণের রোগীদের প্রতি ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর তাকে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যের এই সময় সূচি সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তার পরিণাম ভাল হবে না। ডায়বেটিস রোগী চিকিৎসা এবং আনুষাঙ্গিক নিয়ম মানার ফলে যে সুফল অর্জন করতে পারবেন কেবল মাত্র খাদ্যের নিয়ম না মানার কারণে তা ভেস্তে যেতে পারে। এ্ই নিয়ম না মানার কারণে ডায়বেটিসের রোগীর রক্তে চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় কমে যেতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে হাইপো গ্লাইসিমিয়া বলা হয়। অথবা খাদ্য গ্রহণের পর রক্তে চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে হাইপার গ্লাইসিমিয়া বলা হয়। তাই যদি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর পর যদি খাবার গ্রহণ করা হয় তবে রক্তে চিনির এই মাত্রা ওঠা-নামা করার সুযোগ পায় না। এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজনীয় মনে করছি, তা হলো বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও ভেষজ চিকিৎসার প্রতি অনেকের গভীর বিশ্বাস রয়েছে। গাছ-গাছড়ায় রোগ সারিয়ে তোলার মতো উপকরণ বা উপাদান রয়েছ এ কথা সবাই স্বীকার করবেন। তবে ভেষজ চিকিৎসার জন্য যে সব গাছ-গাছড়ার নাম বলা হয় তাদের কার্যকারিতা, রোগ সারিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রা এবং দেহের উপর এ সব ভেষজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সঠিক গবেষণা আজো হয় নি। কোনো ভেষজকে আধুনিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এরকম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে অনেকেই বলেন, মেথি, করলা, রসুন, পেঁয়াজ, জামের বিচি থেকে শুরু করে নানা উদ্ভিদের বহুমুত্র সারিয়ে তোলার বা নিয়ন্ত্রণ করার মতো উপাদান আছে। এ কথা কতোটি সত্যি তা আজও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুমোদিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে এ ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা ঠিক নয়। বরং তা অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। মনে রাখতে হবে ডায়বেটিস কখনোই সারে না। এ রোগ সারাবার কোনো ওষুধ এখন পর্যন্ত কেউ উদ্ভাবন করতে পারেন নি। তবে ডায়বেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন মান সম্পন্ন জীবন যাপন করা সম্ভব। আজকের দিনে ডায়বেটিসের যে চিকিৎসা হয় তা রোগ নিরাময় বা রোগ সারিয়ে তোলা জন্য নয়। রোগী যেনো সুস্থ সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন তার জন্যেই এই চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে খাদ্য এবং জীবন আচারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ডায়বেটিসের রোগীকে সুস্থ জীবন যাপন করতে হলে নিয়ম মেনে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। আজকের যুগের অনেক চিকিৎসকই বলেন, নিয়ম মেনে খাবেন এবং দৈনিক ব্যায়াম করবেন তা হলেই ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকবেন। 




  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সর্বদা নীরোগ থাকার ৯টি সহজ অভ্যাস

long-life01-680x450


সুন্দর আর সহজ অভ্যাস গড়ে তুলে দূরে রাখুন যতো অসুখ বিসুখ। আমাদের কারো কারো এমন হয়, অসুখ বিসুখ যেন লেগেই থাকে। আজ সর্দি, কাল পেটের অসুখ, পরশু জ্বর তো তার পরদিন চর্মরোগ। অথচ মানুষটিকে দেখতে দিব্যি সুস্থ সবল। কিন্তু এই রোগগুলো হতে হতেই একদিন বড় ধরনের কোন স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে যেতে পারে। অথচ চাইলেই এসব নিত্যনৈমিত্তিক রোগগুলো থেকে দূরে থাকা সম্ভব। গড়ে তুলতে হবে কিছু সচেতন ছোট্ট অভ্যাস।
জেনে নিন সুস্থ থাকার ৯ টি সহজ অভ্যাস।
১। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুনঃ
হাত দিয়ে আপনই এটা ওটা ধরছেন, শুকনো খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু আপনই কি জানেন আপনার হাতই জীবানু ও ব্যাকটেরিয়ার সব চেয়ে বেশি জমে থাকার জায়গা? বিভিন্ন জিনিস যেমন, মোবাইল, টয়েলেটের দরজার হাতল, বেসিন যখন আপনই স্পর্শ করছেন আপনার হাতেই উঠে আসছে শত শত জীবানু, যা খুব সহজেই আপনার পেটেও চলে যেতে পারে ও সৃষ্টি করতে পারে রোগ? তাই দিনে কয়েক বার নিয়ম করে হাত ধুয়ে ফেলুন।
২। ব্যাগে হ্যান্ড ক্লিনার রাখুনঃ
অনেক সময় এমন হয় যে প্রয়োজনীয় সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ পাওয়া যায় না, ক্ষেত্রবিশেষে পানিও কিন্তু না পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাগে হ্যান্ড ক্লিনার রাখুন। যেকোন ওষুধের দোকানে পাবেন। একটুখানি হাতে নিয়ে ভালোভাবে ঘষে ফেললেই হাত জীবানুমুক্ত হয়ে যাবে।
৩। নখ দিয়ে দাঁত খোঁচানো ও চোখ ঘষা বন্ধ করুনঃ
শুকনো খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই হাত না ধুয়ে বরং টীস্যু পেপারে জড়িয়ে খাবারটি খান, কিন্তু খাবারটির কোন আঠালো অংশ দাতে লেগে থাকলে কি করবেন। ভুলেও নখ বা আঙ্গুল দিয়ে তা দাঁত থেকে তোলার চেষ্টা করবেন না। এতে আপনার হাতে থাকা জীবানু মুখের মাধ্যমে পেটে গিয়ে রোগ ছড়াতে পারে।
৪। প্রতিদিন ভিতামিন সি যুক্ত ফল খানঃ
প্রতিদিন কমপক্ষে একটি আমলকী, লেবু, পেয়ারা বা যেকোন ভিটামিন সি যুক্ত ফল খান। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে ও আপনি সহজে অসুস্থ হবেন না।
৫। দোকানের দরজা খুলতে হাত নয়, কনুই ব্যবহারঃ
দোকানের দরজার হাতলে লেগে থাকে বিভিন্ন জীবানু। কেননা কোন চর্মরোগী যদি তার আক্রান্ত আঙ্গুল দিয়ে সেটি স্পর্শ করেন এবং তার ঠিক পর পরই আপনিও সেটি স্পর্শ করেন। সেই বিচ্ছিরি সংক্রামক রোগটি কিন্তু হতে পারে আপনারও!
৬। টয়লেটের দরজার হাতল বা অন্যকিছু টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুনঃ
কেননা এতে লেগেথাকে কোটি কোটি জীবানু যা আপনই খালি চোখে মোটেই দেখতে পান না। টয়লেটের দরজার হাতল, ফ্ল্যাশ যাই স্পর্শ করুন না কেন, খালি হাতের বদলে টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুন।
৭। অসুস্থ মানুষের খুব কাছে যাবেন নাঃ
হাসপাতালে বা কোথাও অসুস্থ মানুষকে দেখতে গেলে তার একেবারে কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরার প্রয়োজন নেই। একটুখানি দূরত্ব মেনে চলুন। সংক্রামক রোগ থেকে রেহাই পাবেন।
৮। আইসক্রীম ও পানীয় শেয়ার থেকে বিরত থাকুনঃ
একই আইস্ক্রীম (কোন) বা একই বোতল থেকে মুখ লাগিয়ে সবাই পানীয় পান থেকে বিরত থাকুন। নানা ধরনের বাজে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
৯। টয়লেটে খালি পায়ে বা ভেজা স্যান্ডেল নিয়ে ঢুকবেন নাঃ
খুব তাড়া আছে বলেই টয়লেটে খালি পায়ে ঢুকবেন না। অথবা টয়লেটের স্যান্ডেলটি চেষ্টা করুন শুকনো রাখার। টয়লেটের স্যাঁতসেঁতে জায়গা নোংরা জীবানুর প্রধান বসবাসের জায়গা। তাই কৃমি ও এই ধরনের নোংরা অসুখ থেকে দূরে থাকতে এটি করুন।



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS