Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকার উপায়



ডায়াবেটিস নতুন কোন রোগ নয়, এর ইতিহাস অনেক দিনের। এই রোগটি খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালে শনাক্ত করা হয় মিসরে। সে সময় এর নাম দেওয়া হয় অতি দ্রুত মূত্র শেষ। অনেকটা একই সময়ে ভারতে এই রোগ শনাক্ত হয়। তখন এর নাম রাখা হয় মধুমেহ অর্থাৎ মধুমূত্র। ডায়াবেটিস রোগীর মূত্রে পিঁপড়া ভিড় জমায় বলেই এই নামকরণ। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডি এফ) একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫২ মিলিয়ন লোক, অর্থাৎ ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে। তাই যদি সত্যি হয় তাহলে দুই দশকের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে ২০০ মিলিয়ন বা এরও বেশি লোক আসবে নতুন স্বাস্থ্য- সমস্যা হিসেবে। ডঐঙ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) এর অনুমানে, বর্তমানে এ রোগে ভুগছে ৩৪৬ মিলিয়ন লোক।



জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষনায় (২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর) ডায়াবেটিসকে দীর্ঘ মেয়াদি, অব্যয়ী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যা মানব দেহে মারাতœক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কেননা ডায়াবেটিস রোগী যে খাদ্য গ্রহন করছে তা থেকে তৈরি হচ্ছে গ্লুকোজ। আর এই গ্লুকোজের সবটুকু তার দেহে ব্যবহার হচ্ছে না, অর্থাৎ তার রক্তে মিশে থাকছে অতিরিক্ত গ্লুকোজ । এতে করে তার রক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন। এই ঘন রক্ত চিকন চিকন রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবং তা আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে রক্ত চলাচলের পথ। আর যে পথে রক্ত পৌঁছাবে না সে পথে কোনো অক্্িরজেনও পৌঁছায় না। ফলে অক্্িরজেনের অভাবে শরীরের ভিতরকার কোষ বাঁচতে পারে না। তার মানে কতগুলো টিস্যুর নির্ঘাৎ মৃত্যু। এমন করে অঙ্গহানির পথে এগোবে শরীর যন্ত্র। অতিরিক্ত গ্লুকোজ মেশা ঘন রক্ত ছাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একে একে সব অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে অসম্ভব দ্রুতগতিতে।



তাহলে করণীয় কি কিছুই নেই? আছে। সচেতনতা ও নিয়মানুবর্তিতাই ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনের সহজ উপায়। সচেতনতামূলক কর্মকান্ড হিসেবে ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা, এ সংক্রান্ত নিবন্ধ পাঠ্যপুস্তকে রাখা, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের প্যাকেটের গায়ে চর্বির পরিমাণ ও ক্যালরি ভ্যালু উল্লেখ করা। নতুন স্কুল-কলেজের অনুমতি দেয়ারেে ত্র একক বা যৌথ খেলার মাঠ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা, টিভি ও রেডিওতে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও শ্লোগান প্রচার করা, এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং কাব ও সুইমিং কাব গড়ে তোলা, নতুন বসতি গড়ে তোলার অনুমতিদানে রাস্তা রাখার বাধ্যবাধকতা করা, হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিার ব্যবস্থা রাখা, ধর্মীয় নেতাদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বক্তব্য দানে উৎসাহিত করা এবং মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে উৎসাহিত করা।



একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ। কী করা উচিতঃ ১. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ প্রচুর ফল ও শাকসবজি। ২. সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ২০ মিনিট করে হাঁটা। ৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝঁকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম। ৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করা। ৫. মদ্যপান না করা। এই ৫টি গাইডলাইন মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।



ডায়বেটিস নিয়ে গবেষণাঃ স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা অনেক বড় বড় রোগের কারণ নির্ণয় করেছেন এবং তদানুসারে ঔষুধও আবিষ্কার করেছেন। ম্যালেরিয়া, কলেরা, গুটি বসন্ত ইত্যাদি ভয়াবহ রোগগুলোর কারণ আবিষ্কৃত হওয়ায় এ অসুখগুলো নিয়ে মানুষ আর চিন্তিত নয়।‘হলে যা, নাই রা' -এ প্রবচন আজ মানুষ বিষ্মৃত প্রায়। কিন্তু প্রাণান্তকর চেষ্টা ও শত গবেষণা সত্বেও ডায়াবেটিসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এক সময় মানুষের ধারণা ছিল ডায়বেটিস রোগ হলে আর রা নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে আজ এই রোগটিকে মানুষ তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। যদিও ডায়বেটিস রোগের কোন নিরাময় নেই, এটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সারাজীবন সুস্থ সবল ভাবে বেঁচে থাকা যায়। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ে বেশ কয়েকটা আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের বেশ উৎসাহিত করেছে। উল্লেখ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণাগারের এক পরীায় দেখা গেছে ক্যান্সারের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত গ্লিভেক এবং সুটেন্ট টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস প্রতিরোধে সম। ইঁদুরের ওপর চালানো এ পরীায় দেখা গেছে গ্লিভেক এবং সুটেন্ট ইঁদুরের শরীরে টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস ছড়াতে বাধা দেয় এবং ৮০ ভাগেে ত্র তা ডায়বেটিস কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া ভারতের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ডায়বেটিক রোগীদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় তারা দেখেছেন দুর্বাঘাসের নির্জাস রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অর্ধেক পর্যন্ত হ্রাস করতে সম। এ নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা চলছে। যদি এ গবেষণা সফল হয় তাহলে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসবে মাঠে ঘাটে অযতেœ বেড়ে ওঠা এই দুর্বাঘাস।



ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে। অতএব, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনই পারে আমাদের এ রোগ থেকে দুরে রাখতে।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment