Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

শিশুর জ্বর যখন গুরুতর.



শিশুদের প্রায়ই জ্বর হয়। দুনিয়াজুড়ে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেসব শিশু আসে তার প্রায় ২০-৩০ শতাংশ শিশুকে আনা হয় জ্বর উপসর্গ নিয়ে। শিশুদের বেশির ভাগ জ্বরই নিরীহ ধরনের ভাইরাস-সংক্রমণজাত। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা প্রাণসংহারক ও মারাত্মক সংক্রমণের কারণেও হতে পারে। তাই জানা থাকা দরকার জ্বর কখন গুরুতর হয়ে ওঠে।
শিশু বয়সের জ্বর উপসর্গকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, শিশুর বয়স অনুযায়ী। খুব ছোট্ট শিশু—মানে এক বছরের কম বয়সী শিশু, ৩ থেকে ৩৬ মাস বয়সী শিশুর জ্বর এবং তিন বছরের বেশি বয়সী শিশুর জ্বরের ধরন-ধারণে আছে ভিন্নতা।
খুব ছোট্ট শিশুর জ্বর হলে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, এদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম, তা ছাড়া তাকে টিকাদান সুরক্ষা ব্যবস্থাও দেওয়া হয়ে ওঠেনি। অন্যান্য অসুস্থতার লক্ষণও তেমন বোঝা যায় না। এ বয়সে জ্বরের জন্য জিবিএম, ই.কোলাই, এইচ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো মারাত্মক রোগজীবাণু দায়ী হতে পারে।
৩-৩৬ মাস বয়সী শিশুরা সাধারণত স্ট্রেপটো নিউমোনিয়া, নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস, সালমোনেলা, স্টেফাইলো ইত্যাদি জীবাণুর মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে।

শিশুদের হঠাৎ জ্বর যেসব রোগের কারণে হয় 
 
শ্বাসতন্ত্রের অসুখ: ঠান্ডা-সর্দি, কান পাকা, সাইনোসাইটিস
 
ফুসফুস: ব্রনকিওলাইটিস, নিউমোনিয়া
 
মুখগহ্বর: টনসিলাইটিস, দাঁতের ফোড়া
 
স্নায়ুতন্ত্র: মেনিনজাইটিস
 
অন্যান্য: আন্ত্রিক অসুখ, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, গিঁটের সংক্রমণ, রক্তে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি, টিকাদান-পরবর্তী জ্বর, ভাইরাসজনিত অসুখ—চিকেন পক্স, হাম, ক্যানসার ইত্যাদি।

জ্বর হলে যা জানা জরুরি
-শিশুর জ্বর কত দিন ধরে, কত মাত্রায়-তা খেয়াল রাখুন ও চিকিৎসককে অবহিত করুন।

-জ্বরের সঙ্গে র্যাশ, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, প্রস্রাবে সমস্যা, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট আছে কি না, তাও জানান।

-বাড়িতে বা আপনজনদের মধ্যে অন্য কেউ অসুস্থ কি না, সেই তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

-এ পর্যন্ত শিশুর কী কী টিকা সম্পন্ন হয়েছে এবং বাড়িতে কী কী ওষুধ সেবন করানো হয়েছে তা জানাতে ভুলবেন না।

-ঘরে পোষা প্রাণী আছে কি না, নিকট অতীতে কোথায় শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া হয়েছে (যেমন পাহাড়ি এলাকায়) এসব তথ্যও জানা দরকার।

-শিশু ছোটবেলা থেকেই কোনো অসুখে আক্রান্ত কি না, যেমন: হাঁপানি, অ্যালার্জি, জন্মগত হৃদ্রোগ—তা অবশ্যই জানাবেন।

জ্বর নিয়ে ভয় নেই
জ্বরের ব্যবস্থাপনা মূলত: দুই ধরনের।
প্রথমত: জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং
দ্বিতীয়ত জ্বরের কারণ নির্ণয় করে কার্যকর চিকিৎসা। সাধারণভাবে জ্বর ক্ষতিকর কিছু নয় বরং এটি সংক্রমণ বা প্রদাহের বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরোধ।
জ্বর নিয়ন্ত্রণে অ্যাসিটোমিনোফেন (প্যারাসিটামল) বা আইবুফ্রোপেন কার্যকর। শিশু বয়সে জ্বর নিবারণে কখনো অ্যাসপিরিন ব্যবহার করতে নেই। স্পঞ্জিং বা বার্থিং (উষ্ণ জলে) উপশমে সাহায্য করে, তবে বরফ জল বা অ্যালকোহলে বাথ অপকারী। জ্বরের শিশুকে বেশি অসুস্থ মনে হলে, বিশেষত: ২৮ দিনের কম বয়সী জ্বরে ভোগা সব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া ভালো।

বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ















  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া







প্রত্যেক মা-বাবাই চান, তাঁদের সন্তান সুস্থ ও সুন্দরভাবে জন্ম নিক। কিন্তু কারও কারও এ স্বপ্ন ভেঙে যায় নানা কারণে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৩০টি শিশুর মধ্যে একটি কোনো না কোনো জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। কারও থাকে শারীরিক বা গঠনগত ত্রুটি, আবার কারও জিনগত বা ডিএনএজনিত সমস্যা। থ্যালাসেমিয়া এমনই একটি জিনগত রোগ।


শারীরিক বা গঠনগত ত্রুটির কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসা থাকলেও বেশির ভাগ জিনগত ত্রুটির চিকিৎসা নেই বা থাকলেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অসম্পূর্ণ। অনেক সময় মা-বাবা জিনগত রোগের বাহক হলে তাঁদের সন্তান সেই রোগ নিয়ে জন্মায়। থ্যালাসেমিয়া একটি মারাত্মক জিনগত ও জন্মগত রক্তরোগ। যেসব সমাজে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিয়ে-শাদির প্রচলন বেশি, সেখানে থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রোগ বেশি হয়।
মা-বাবা এ রোগের বাহক হলে তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মাতে পারে। এ রোগের বাহকেরা কোনো উপসর্গ ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি নারী-পুরুষ নিজের অজান্তে থ্যালাসেমিয়া বয়ে বেড়াচ্ছেন। জন্মের পরপরই এ রোগটি ধরা পড়ে না।

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে রক্তের মূল্যবান উপাদান হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি হয় না। শিশুর বয়স এক বা দুই বছর হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং সে ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে শরীরের দরকারি অঙ্গ যেমন প্লীহা ও যকৃৎ বড় হয়ে যায় এবং কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। মুখমণ্ডলের হাড়ের অস্থিমজ্জা বিকৃত হওয়ার কারণে শিশুর চেহারা বিশেষ রূপ ধারণ করে, যা দেখে চিকিৎসক সহজেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুটিকে চিহ্নিত করতে পারেন। এ রোগাক্রান্ত শিশুদের অন্যের রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়া রোগের একমাত্র চিকিৎসা, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সব সময় সফল নয়।
স্বামী-স্ত্রী দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হন তবে সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে মাতৃজঠরে সন্তানের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করাটাই একমাত্র ভরসা।


প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

এই গরমে হিট স্ট্রোক





মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তৈরি একধরনের জটিলতার নাম হিট স্ট্রোক। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এটি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি হলেই হিট স্ট্রোক হতে পারে। এ সমস্যায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কারণ: হিট স্ট্রোকের প্রধান কারণ পানিশূন্যতা। প্রচণ্ড গরমে দেহে পানির পরিমাণ কমে যেতে পারে। এ ধরনের পানিশূন্যতা এড়াতে সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমের সময় ভারী শারীরিক পরিশ্রমের কাজ না করাই উচিত।
 
লক্ষণ: শরীরের তাপমাত্রা অসহনীয় অবস্থায় চলে গেলে যেসব জটিলতা দেখা যায়, সেগুলোই হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। যেমন মাথা ঝিম ঝিম করা, বমি করা, অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাংসপেশির খিঁচুনি, চোখে ঝাপসা দেখা। এ ছাড়া সে সময় ঘামের অনুপস্থিতি, চামড়া খসখসে ও লাল হয়ে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, শ্বাসকষ্ট, মাতালের মতো আচরণ, দৃষ্টিবিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন, বিভ্রান্তি, অশান্তি, খিঁচুনি ইত্যাদি লক্ষণও দেখা যায়।
 
যারা আক্রান্ত হয়: ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, ব্যায়ামবিদ বা দিনমজুরদের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি খুবই ভয়াবহ। কারণ, তাদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা পরিপক্ব নয়।
 
প্রাথমিক চিকিৎসা: হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তাকে ছায়ায় নিতে হবে। শরীরের ভারী কাপড় খুলে নিয়ে ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে। সম্ভব হলে রোগীকে ফ্যানের নিচে বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষে নিতে হবে। রোগীর বগল ও ঊরুর ভাঁজে বরফ দেওয়া যেতে পারে। থার্মোমিটার দিয়ে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখতে হবে। ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত তাকে ঠান্ডা দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
 
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়: গরমের সময় শরীরকে পানিশূন্য হতে দেওয়া যাবে না। শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ওরালস্যালাইন পান করতে হবে। বেশি গরমের সময় ব্যায়াম বা ভারী কায়িক পরিশ্রম বর্জন করুন। গরমে বাইরে বের হলে সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরতে হবে। ঘামের সঙ্গে শরীরের লবণ বেরিয়ে যায়, তাই দুর্বল লাগলে খাবার স্যালাইন পান করতে হবে।
 
মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়








  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চামড়াকে রক্ষা করে টমেটো






টমেটো ত্বক সতেজ রাখে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চামড়াকে রক্ষা করে। ফলে ত্বক রোদে পোড়া থেকে বেঁচে যায়। ব্রিটেনের একদল গবেষক এ তথ্য জানিয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টমেটো থাকলে তা চামড়াকে রোদে পোড়া থেকে বাঁচায় এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি) থেকে ত্বক রক্ষা করে। লাল টমেটোতে রয়েছে প্রাকৃতিক রঞ্জন পদার্থ। তাই টমেটোর তৈরি কেচাপ, পেস্ট, স্যুপ ও জুসসহ যে কোনো ধরনের রান্না করা খাবারই হতে পারে দেহের জন্য অতি উপকারী। গবেষকরা ২১ থেকে ৪৭ বছর বয়সের ২০ মহিলার ওপর পরীক্ষা চালান। এ সময় দুটি গ্রুপ করে ১২ সপ্তাহ তাদের ওপর পরীক্ষা করা হয়। এক গ্রুপকে প্রতিদিন ১০ গ্রাম অলিভ অয়েলসহ পাঁচ টেবিল চামচ (৫৫ গ্রাম) টমেটোর পেস্ট খেতে দেয়া হয়। অপর গ্রুপকে শুধু অলিভ অয়েল দেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, যে গ্রুপকে প্রতিদিন টমেটোর পেস্ট খেতে দেওয়া হয়েছে তাদের ত্বক নিজেরাই নিজের চামড়াকে অতিবেগুনি ডিএনএ ইউভি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।







  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কতটুকু পানি পান করবেন ?






প্রতিদিন আট গ্লাস বা দুই লিটার পানি পান করলে মানুষের দৈহিক চাহিদা পূরণ হয বলে আদিকাল থেকে আমরা জেনে আসছি। কিন্তু এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন মেলবোর্ন একাডেমির গবেষকরা। দৈহিক চাহিদা পূরণে পানির পাশাপাশি আরও তরল খাবার খাওয়া উচিত বলে নতুন এ গবেষণায় জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরের পর্যাপ্ত চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিদিন মহিলাদের জন্য প্রায় ২.৮ লিটার এবং পুরুষদের জন্য ৩.৪ লিটার পানিসহ তরল খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ এই তরল খাদ্য দেহে পানির অভাব পূরণে সাহায্য করে থাকে। লা ট্রাবো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক স্প্রারো স্টিনডোস বলেছেন, মানুষের দৈহিক চাহিদা পূরণে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ফল, শাকসবজি, বিভিন্ন ফলের রস এমনকি চা ও কফি থাকলে তা থেকে তরল পানীয় পাওয়া যায়, যা দেহে পানির অভাব পূরণে সাহায্য করে থাকে ।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

পায়ের ব্যাকটেরিয়াই মশাকেই কামড় দিতে ডেকে আনে.



অনেক সময় দেখা যায়, আপনার পাশের জনকে মশা কামড়াচ্ছে না অথচ আপনি মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে  পড়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন। সম্প্রতি একদল গবেষক জানিয়েছেন, যারা পা খোলা রাখেন তাদের পায়ে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। ঐ ব্যাকটেরিয়াগুলো এমন এক ধরনের গন্ধ তৈরি করে, যা মশাকে আকৃষ্ট করে। যার পায়ে ঐ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেশি থাকে মশা তাকেই বেশি কামড়ায়। গবেষকরা আরও জানান, বিশেষত যার পা বেশি অপরিষ্কার সেখানে ঐ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশি থাকে। সে জন্য যে কোনও উপায়ে হোক বা শরীরের যে কোনও খোলা অংশ পরিস্কার রাখতে হবে। গবেষক দলের প্রধান নেদারল্যান্ডসের ওজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নেইলস ভারহালস্ট বলেছেন, মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মশারোধক ক্রিম ব্যবহার করলে তেমন লাভ হবে না। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে ত্বককে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখতে পারলে মশাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। গবেষকরা গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া ও আফ্রিকায় ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ভ্রমণপিপাসুদের নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদনটি পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্স ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছে।










  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বয়স হলে এড়িয়ে চলুন কিছু খাবার



বয়স হলে এড়িয়ে চলুন কিছু খাবার
 

 
বড় লেবু, মোসাম্বি বা এর রস ওষুধের সঙ্গে ক্রিয়া করতে পারে। গ্রেপফ্রুটে অথবা এসব লেবুতে যে পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি আছে, তা বাদ দেওয়া যাবে না। কমলা ও লাইম থেকে তা আহরণ করুন।
ওষুধের ক্রিয়ার সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক তো আছে। তাই চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করে নিলে ভালো। উচ্চ রক্তচাপ, দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রার ওষুধ খেলে এর সঙ্গে ক্রিয়া করতে পারে বড় লেবু বা মোসাম্বির মতো ফল।

কাঁচা সবজি : দাঁতগুলো যদি হয় সংবেদনশীল ও ক্ষয়ে যাওয়া অথবা ফোকলা যদি হয় কেউ, তাহলে কাঁচা সবজি তো খাওয়া ঠিক নয়। সে জন্য এর মধ্যে যে ভিটামিন ও আঁশ তা বাদ দেবেন না। সবজি রান্না করুন নরম হওয়া পর্যন্ত। গাজর, মিষ্টিকুমড়া বা বিট সেদ্ধ করে, স্যুপে, ঝোলে বা স্টুতে দিয়েও খাওয়া যেতে পারে।
শিম, মটরশুঁটি : কিছু মানুষ শিম এড়িয়ে যায়। কারণ, এগুলো খেলে পেটে ব্যথা হয়, অনেক সময় গ্যাস হয়। কিন্তু খাবার থেকে তো তা বাদ দেওয়া যাবে না। শিম, মটরশুঁটি, বরবটি-এসব বাদ দিলে কি চলে? আঁশের একটি চমৎকার উৎস এগুলো। এ ছাড়া আছে প্রোটিন ও লোহা। এতে চর্বিও খুব কম। তাই খাবারে শিম যোগ করতে হবে কম করে করে, ধীরে ধীরে। গ্যাস বেশি হলে খেতে হবে সাধারণ ওষুধ।

দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য : বয়স হলে, বুড়ো হলে দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য হজম করতে অসুবিধা হতে পারে।
তবে এ জন্য সব দুগ্ধজাত দ্রব্য বাদ দেয়া কেন? কেন বাদ দিতে হবে এর অন্তর্গত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম? বরং কম করে খেলে পেটে সহ্য হবে। কিছু দুগ্ধজাত দ্রব্য সহ্য হয় বেশি।
যেমন-দই বেশ সহ্য হয়। চর্বিহীন সরল দই ও লো ফ্যাট পনির বেশ পুষ্টিকর। ল্যাকটোজমুক্ত দুগ্ধজাত দ্রব্যও ব্যবহার করা যায়।

ক্যাফিন : ক্যাফিন সবার জন্য সমস্যা না হলেও অনেকে এটি গ্রহণের পর উদ্বিগ্ন বা বদমেজাজি হয়ে উঠতে পারেন।
ক্যাফিন বাড়াতে পারে হূদঘাতের হার, ঘটাতে পারে ঘুমের সমস্যা। ক্যাফিন গ্রহণ না করতে চাইলে ধীরে ধীরে কমিয়ে এরপর বন্ধ করুন। দ্রুত বন্ধ করলে মাথা ধরা, বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
ক্যাফিনেটেড পানীয়ের বদলে ধীরে ধীরে নিন পানি, হারবাল চা ও ডি ক্যাফ।
মাংস : মাংসের ছোট টুকরোও দাঁতে লাগে, হজম হয় না। বেশ চর্বি। সবচেয়ে ভালো হলো মাছ। মাছে-ভাতে বাঙালি।
খুব লোনা খাবার : বয়স চল্লিশের বেশি হলে, সিডিসির পরামর্শ, প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়ামের বেশি গ্রহণ করা ঠিক হবে না। খুব বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলে বাড়ে রক্তচাপ। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বড় কারণ হলো প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন-হিমায়িত খাবার, স্ন্যাকস, নোনতা খাবার, ফার্স্ট ফুড, আচার, সালাদ ড্রেসিং, লাঞ্চমিট প্রভৃতি। সোডিয়ামমুক্ত ‘লো সল্ট' ‘নো সল্ট' বিকল্প খোঁজা উচিত।

বাঁধাকপি জাতীয় সবজি : এসব সবজি অনেকে এড়িয়ে চলেন। কারণ, এগুলো খেলে পেটে প্রচুর গ্যাস হয়। কুসিফেবাস সবজি যেমন-ব্রকোলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি-এসব খেলে গ্যাস হয় বটে তবে এগুলোয় আছে প্রচুর ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ফলেট। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সবজি খেলে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। তাই একেবারে বাদ নয়, কম কম করে যোগ করা যায় খাওয়ায়। সঙ্গে প্রচুর জল পান।
ফল : তাজা ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন, আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপকরণ। তবে দাঁতে অসুবিধা, চিবোতে সমস্যা। প্রতিদিন একটি আপেল বা পেয়ারা খেতে সমস্যা হয়। তাহলে খেতে হবে নরম ফল, যেমন-কমলা, জাম, কলা, তরমুজ প্রভৃতি। ফ্রুট জুস, ফুট স্মুথিও ভালো।
টাটকা অঙ্কুর : মুলা কুচি, মুগের অঙ্কুর ও অঙ্কুরিত ছোলায় উঁচুমাত্রায় ভিটামিন বি ও অন্যান্য পুষ্টি আছে। তবে বুড়োদের জন্য অঙ্কুুরিত খাবার মানানসই নাও হতে পারে। তাই খেতে হবে রয়ে-সয়ে।


অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।












  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS