Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে


মেনিনজাইটিস জীবাণু দ্বারা বা অন্য কোনো উপায়ে সৃষ্ট মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের পর্দা_ মেনিনজেসের তীব্র ইনফেকশন। মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে প্রদাহ মস্তিষ্কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি। বিনা চিকিৎসায় মেনিনজাইটিসে মৃত্যুহার ৭০ শতাংশেও বেশি। বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজন রোগী মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয় আর প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মারা যায় ১৩৭ জন। মেনিনজাইটিসের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া প্রতি পাঁচজন রোগীর অন্তত একজনের চিরস্থায়ী অঙ্গহানি বা মস্তিষ্কের সমস্যা বা বধিরতা বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়।




মেনিনজাইটিসের লক্ষণ : অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মেনিনজাইটিসের রোগী মারা যায়। তবে সব ক্ষেত্রে এ রকম হয় এমনটি বলা যাবে না। মেনিনজাইটিসের প্রধান লক্ষণগুলো হলো_ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, গলার মাংস শক্ত হয়ে যাওয়া, স্মৃতি বিভ্রম, বমি বা বমি বমি ভাব, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, অস্বস্তি, শরীরের বিশেষত পায়ের পেছনে ও নিতম্বে ঘায়ের মতো বিশেষ দাগ, অচেতন অবস্থা, তন্দ্রাভাব, শরীরের ভারসাম্য হারানো প্রভৃতি। উল্লেখ্য, বয়সভেদে এ উপসর্গগুলোর কিছুটা ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।

রোগের কারণ : অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের কারণ হলো বিভিন্ন প্রকারের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি। তবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বা ক্যান্সারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস : বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের জন্য দায়ী। সদ্যোজাত থেকে শুরু করে ৩ মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে প্রধানত গ্রুপ-বি স্ট্রেপটেকক্কি ও লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনেসিস দ্বারা মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে। ২ বছরের পরবর্তী শিশুদের মেনিনজাইটিসের জন্য দায়ী নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস, স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি। বড়দের ৮০ শতাংশ ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের কারণ নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস ও স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া। পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তির ক্ষেত্রে লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনেসিসজনিত মেনিনজাইটিসের হার অনেক বেশি। যক্ষ্মা রোগীদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং রোগ জটিলতার কারণে টিবি মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে।

ভাইরাল মেনিনজাইটিস : ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসের চেয়ে কম ভয়ঙ্কর। কম বয়সী শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ভাইরাল মেনিনজাইটিস মাম্পস, মিসেলস, পক্স ভাইরাস এবং বিশেষ ধরনের মশাবাহিত ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
ফাংগাল মেনিনজাইটিস : রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা হ্রাসের ওষুধ সেবনকারী, এইডস বা এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ও বয়স্করা ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফাংগাল মেনিনজাইটিসের প্রকোপ আফ্রিকা মহাদেশে সবচেয়ে বেশি এবং তা ২০-২৫ শতাংশ এইডস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর কারণ।

প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস : এ ধরনের মেনিনজাইটিস পরজীবী জীবাণুর প্রভাবে দেখা দিয়ে থাকে।

জীবাণুবিহীন মেনিনজাইটিস : জীবাণুর বাইরেও কিছু কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারে। ক্যান্সারের বিস্তৃতি, কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন (ব্যথানাশক ওষুধ, ইমিউনোগ্গ্নোবিন), সারকোডিয়াসিস, কানেকটিভ টিস্যুর সমস্যাজনিত রোগ, সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটোসাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাইগ্রেন থেকেও মেনিনজাইটিস হতে পারে, যদিও এ হার অনেক কম।

মেনিনজাইটিস শনাক্তকরণ : রোগের লক্ষণের পাশাপাশি মেনিনজাইটিস থাকার ব্যাপারে সন্দেহ হলে ব্লাড কালচার এবং রক্তের রুটিন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। সেরেব্রো স্পাইনাল ফু্লইড (সিএসএফ) মস্তিষ্কের রসের রু.টিন, বায়োকেমিক্যাল এবং কালচার টেস্ট করার মাধ্যমে মেনিনজাইটিস সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া যায়। যক্ষ্মা থেকে মেনিনজাইটিস হলে এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ তদনুযায়ী পরীক্ষার পাশাপাশি সিএসএফ কালচার, পিসিআর পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।

যেভাবে ছড়ায় : সংস্পর্শে মেনিনজাইটিস খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায় না। তবে ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল, টিবি মেনিনজাইটিস কফ এবং নাক ও গলার নিঃসরণের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। একজন স্বাভাবিক মানুষ মেনিনজাইটিস রোগের কোনো উপসর্গ ছাড়াই এ রোগের জীবাণু বহন করতে পারে, যা তার ব্যবহৃত গ্গ্নাস, থালা-বাসন বা সিগারেট ভাগাভাগির মাধ্যম অন্যজনের কাছে সংক্রমিত হতে পারে। ভাইরাল মেনিনজাইটিস মলমূত্রের মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।

মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ ও টিকা : মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে বাংলাদেশে শিশুদের দেড় মাস বয়সের পর থেকে টিকাদান কর্মসূচিতে হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি-এর টিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মেনিনগোকক্কাস ভ্যাকসিন 'গ্রুপ-এ, সি, ডবি্লউ-১৩৫ এবং ওয়াই' মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা সর্বোচ্চ রকমের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে। যেসব দেশে মেনিনগোকক্কাস গ্রুপ-সি-এর ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে মেনিনজাইটিসের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছে। বাংলাদেশেও মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কার্যকর ও মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন (গঊঘঠঊঙ, ঘড়াধৎঃরং) বাজারে প্রচলিত আছে, যা সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা দেয়। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত রোগীর নিকটতম আত্মীয়স্বজন, সেবাদানকারী সেবিকা, চিকিৎসকদের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে রোগ প্রতিরোধে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন অথবা রিফামপিসিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।





  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মেনিনজাইটিস : প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসা

মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের বাইরের দিকে তিন স্তরের ঝিল্লি বা পর্দা থাকে। এটি মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে রক্ষা করে। এর নাম মেনিনজেস। এই পর্দায় ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস। যদি এই প্রদাহ শুধু মস্তিষ্ককোষে হয়, তবে সেটি এনকেফালাইটিস নামে পরিচিত। যা মূলত একই অসুখ। বহু ক্ষেত্রে এ রোগের পরিণতি মৃত্যু।
লক্ষণ ও উপসর্গ
* জ্বর
* তীব্র ও একটানা মাথাব্যথা
* বমি ও বমিভাব
* রোগীর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* অস্বাভাবিক আচরণ করা
* খিঁচুনি হওয়া
* ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
* গায়ে র‌্যাশ দেখা দেওয়া
* কথা বলতে অসুবিধাবোধ
* আলোর দিকে তাকাতে না পারা
ইত্যাদি।
সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ ঠিকমতো থাকেও না। যেমন-
* খুব কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর থাকে, সঙ্গে শিশু অস্থিরতা বোধ করে, খেতে চায় না, অনবরত কাঁদতে থাকে।
* স্কুলগামী শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভোগে, কাশি হয়, গায়ে জ্বর জ্বর বোধ হয়।
কেন হয়?
যে জীবাণুগুলো দিয়ে মেনিনজাইটিস হয়, তার প্রায় সবগুলোই সাধারণত মানুষের শরীরে বসবাস করে। এগুলো পরিপাকতন্ত্র, নাক-কান-গলার মধ্যে কোনো ধরনের অসুখ সৃষ্টি না করেই থাকতে পারে। কিন্তু এরাই যদি মেনিনজেসকে আক্রান্ত করে, তখন তা রোগ হিসেবে দেখা দেয়।
ভাইরাস দিয়ে সবচেয়ে বেশি মেনিনজাইটিস হয়। সাধারণত নবজাতক ও শিশুরা এতে আক্রান্ত হয়। ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস অন্য জীবাণুঘটিত মেনিনজাইটিসের চেয়ে কম ভয়ংকর। ভাইরাসের মধ্যে আছে এন্টারোভাইরাস, আরবোভাইরাস, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। এর মধ্যে হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা দিয়ে প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে রোগটি সাধারণত সাইনোসাইটিস বা আপার রেসপিরেটরি অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পর দেখা দেয়।
ব্যাকটেরিয়াঘটিত মেনিনজাইটিস মারাত্মক হতে পারে। যে ধরনের ব্যাকটেরিয়া দায়ী তার মধ্যে আছে নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস, মেনিনজোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি, মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস ইত্যাদি।
ফাঙ্গাস বা ছত্রাক দিয়েও মেনিনজাইটিস হতে পারে। এ ধরনের ছত্রাকের মধ্যে আছে ক্রিপ্টোকক্কাস, হিস্টোপ্লাজমা। সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে স্পোর হিসেবে এগুলো ফুসফুসে প্রবেশ করে। যারা আগে থেকেই রোগে আক্রান্ত, বিশেষ করে ডায়াবেটিস- ক্যান্সারে; তারা সহজেই ফাঙ্গাস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।
কিছু পরজীবীও মেনিনজাইটিস করতে পারে। এর মধ্যে আছে অ্যানজিওস্ট্রনজাইলাস ক্যানটোনেসিস। এটি সাধারণত খাদ্য, পানি ও মাটির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
মেনিনজাইটিস যে কারো হতে পারে, তবে যাদের কান পাকা রোগ, গলা বা নাকে অথবা সাইনাসে ইনফেকশন থাকে তাদের বেশি হয়। এর কারণ এ ধরণের ইনফেকশন সাধারণত যে ধরণের জীবাণু দিয়ে হয়, সেগুলো আবার মেনিনজাইটিসও করতে পারে।

রোগ নির্ণয়
রোগীর মেরুদণ্ডের ভেতর থাকা কশেরুকা থেকে সিএসএফ (এক ধরনের তরল পদার্থ, যা মস্তিষ্ক ও কশেরুকার ভেতর থাকে) বের করে তা পরীক্ষা করা হয়। সিএসএফে সেল কাউন্ট, প্রোটিন, গ্লুকোজ দেখে এবং সিএসএফের গ্রাম স্টেইন, কালচার পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়। সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তের কালচার এবং সিবিসি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা
উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক (সেফট্রায়াক্সোন, ভ্যানকামাইসিন), সঙ্গে স্টেরয়েড এবং খিঁচুনি হলে অ্যান্টিকনভালস্যান্ট দিতে হবে। রোগ নির্ণয়ের আগে শুধু লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে, কারণ দ্রুত চিকিৎসা না শুরু করলে জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে।

পরিণতি
সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
* ভাইরাসঘটিত মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেও ভালো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা না নিলেও চলে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যথেষ্ট পানি ও তরল পান, জ্বর ও মাথা ব্যথার জন্য ওষুধ সেবন করলেই চলে।
* ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসে বহু ক্ষেত্রে মৃত্যু হতে পারে। তবে রোগাক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
* মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেশি নবজাতক ও শিশুর, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তির, বেশি বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের আগে থেকেই অসুখ-বিসুখ আছে, মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাদের খিঁচুনি হয়, হাসপাতালে আনার আগেই শক বা কোমায় চলে গেছে এমন ব্যক্তির।
* মেনিনজাইটিস সেরে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে কানে শুনতে না পাওয়া, চোখে দেখতে না পাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, স্থায়ীভাবে মানসিক বৈকল্য দেখা যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা স্থায়ীভাবে দেখা দিতে পারে।

মেনিনজাইটিস কী ছড়ায়?
সাধারণত যে ধরনের জীবাণু দিয়ে মেনিনজাইটিস হয়, তা একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়াতে পারে।
* ব্যাকটেরিয়াঘটিত মেনিনজাইটিস,
যেমন মেনিনজোকক্কাল মেনিনজাইটিস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি-লালার মাধ্যমে অন্যজন আক্রান্ত হতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীর সংস্পর্শে আসার আগে থেকেই প্রতিরোধক হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়।
* ভাইরাসঘটিত মেনিনজাইটিসও রোগীর সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংক্রমিত নতুন ব্যক্তির মেনিনজাইটিস না হয়ে সাধারণত জ্বর-সর্দি-কাশি-এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। ভাইরাস সাধারণত শরীরে প্রবেশ করে খাবার, পানি ও ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে।

মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ
মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকা আছে। আবার শিশু বয়সে আরো কিছু টিকা নিলে পরোক্ষভাবে তা মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করতে পারে। এগুলো হচ্ছে- এমএমআর বা মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা, চিকেনপক্স, এইচআইবি বা হিব, নিউমোনিয়ার টিকা ইত্যাদি।
- See more at: http://www.kalerkantho.com/feature/doctor-asen/2015/01/08/172671#sthash.fHvhq3HR.dpuf
মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের বাইরের দিকে তিন স্তরের ঝিল্লি বা পর্দা থাকে। এটি মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে রক্ষা করে। এর নাম মেনিনজেস। এই পর্দায় ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় মেনিনজাইটিস। যদি এই প্রদাহ শুধু মস্তিষ্ককোষে হয়, তবে সেটি এনকেফালাইটিস নামে পরিচিত। যা মূলত একই অসুখ। বহু ক্ষেত্রে এ রোগের পরিণতি মৃত্যু।
লক্ষণ ও উপসর্গ
* জ্বর
* তীব্র ও একটানা মাথাব্যথা
* বমি ও বমিভাব
* রোগীর অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* অস্বাভাবিক আচরণ করা
* খিঁচুনি হওয়া
* ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
* গায়ে র‌্যাশ দেখা দেওয়া
* কথা বলতে অসুবিধাবোধ
* আলোর দিকে তাকাতে না পারা
ইত্যাদি।
সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ ঠিকমতো থাকেও না। যেমন-
* খুব কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর থাকে, সঙ্গে শিশু অস্থিরতা বোধ করে, খেতে চায় না, অনবরত কাঁদতে থাকে।
* স্কুলগামী শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভোগে, কাশি হয়, গায়ে জ্বর জ্বর বোধ হয়।
কেন হয়?
যে জীবাণুগুলো দিয়ে মেনিনজাইটিস হয়, তার প্রায় সবগুলোই সাধারণত মানুষের শরীরে বসবাস করে। এগুলো পরিপাকতন্ত্র, নাক-কান-গলার মধ্যে কোনো ধরনের অসুখ সৃষ্টি না করেই থাকতে পারে। কিন্তু এরাই যদি মেনিনজেসকে আক্রান্ত করে, তখন তা রোগ হিসেবে দেখা দেয়।
ভাইরাস দিয়ে সবচেয়ে বেশি মেনিনজাইটিস হয়। সাধারণত নবজাতক ও শিশুরা এতে আক্রান্ত হয়। ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস অন্য জীবাণুঘটিত মেনিনজাইটিসের চেয়ে কম ভয়ংকর। ভাইরাসের মধ্যে আছে এন্টারোভাইরাস, আরবোভাইরাস, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। এর মধ্যে হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা দিয়ে প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে রোগটি সাধারণত সাইনোসাইটিস বা আপার রেসপিরেটরি অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পর দেখা দেয়।
ব্যাকটেরিয়াঘটিত মেনিনজাইটিস মারাত্মক হতে পারে। যে ধরনের ব্যাকটেরিয়া দায়ী তার মধ্যে আছে নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস, মেনিনজোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি, মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস ইত্যাদি।
ফাঙ্গাস বা ছত্রাক দিয়েও মেনিনজাইটিস হতে পারে। এ ধরনের ছত্রাকের মধ্যে আছে ক্রিপ্টোকক্কাস, হিস্টোপ্লাজমা। সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে স্পোর হিসেবে এগুলো ফুসফুসে প্রবেশ করে। যারা আগে থেকেই রোগে আক্রান্ত, বিশেষ করে ডায়াবেটিস- ক্যান্সারে; তারা সহজেই ফাঙ্গাস দিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।
কিছু পরজীবীও মেনিনজাইটিস করতে পারে। এর মধ্যে আছে অ্যানজিওস্ট্রনজাইলাস ক্যানটোনেসিস। এটি সাধারণত খাদ্য, পানি ও মাটির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
মেনিনজাইটিস যে কারো হতে পারে, তবে যাদের কান পাকা রোগ, গলা বা নাকে অথবা সাইনাসে ইনফেকশন থাকে তাদের বেশি হয়। এর কারণ এ ধরণের ইনফেকশন সাধারণত যে ধরণের জীবাণু দিয়ে হয়, সেগুলো আবার মেনিনজাইটিসও করতে পারে।

রোগ নির্ণয়
রোগীর মেরুদণ্ডের ভেতর থাকা কশেরুকা থেকে সিএসএফ (এক ধরনের তরল পদার্থ, যা মস্তিষ্ক ও কশেরুকার ভেতর থাকে) বের করে তা পরীক্ষা করা হয়। সিএসএফে সেল কাউন্ট, প্রোটিন, গ্লুকোজ দেখে এবং সিএসএফের গ্রাম স্টেইন, কালচার পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়। সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তের কালচার এবং সিবিসি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা
উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক (সেফট্রায়াক্সোন, ভ্যানকামাইসিন), সঙ্গে স্টেরয়েড এবং খিঁচুনি হলে অ্যান্টিকনভালস্যান্ট দিতে হবে। রোগ নির্ণয়ের আগে শুধু লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে, কারণ দ্রুত চিকিৎসা না শুরু করলে জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে।

পরিণতি
সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
* ভাইরাসঘটিত মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেও ভালো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা না নিলেও চলে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যথেষ্ট পানি ও তরল পান, জ্বর ও মাথা ব্যথার জন্য ওষুধ সেবন করলেই চলে।
* ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসে বহু ক্ষেত্রে মৃত্যু হতে পারে। তবে রোগাক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
* মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেশি নবজাতক ও শিশুর, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তির, বেশি বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের আগে থেকেই অসুখ-বিসুখ আছে, মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাদের খিঁচুনি হয়, হাসপাতালে আনার আগেই শক বা কোমায় চলে গেছে এমন ব্যক্তির।
* মেনিনজাইটিস সেরে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে কানে শুনতে না পাওয়া, চোখে দেখতে না পাওয়া, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, স্থায়ীভাবে মানসিক বৈকল্য দেখা যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা স্থায়ীভাবে দেখা দিতে পারে।

মেনিনজাইটিস কী ছড়ায়?
সাধারণত যে ধরনের জীবাণু দিয়ে মেনিনজাইটিস হয়, তা একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়াতে পারে।
* ব্যাকটেরিয়াঘটিত মেনিনজাইটিস,
যেমন মেনিনজোকক্কাল মেনিনজাইটিস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি-লালার মাধ্যমে অন্যজন আক্রান্ত হতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীর সংস্পর্শে আসার আগে থেকেই প্রতিরোধক হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়।
* ভাইরাসঘটিত মেনিনজাইটিসও রোগীর সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংক্রমিত নতুন ব্যক্তির মেনিনজাইটিস না হয়ে সাধারণত জ্বর-সর্দি-কাশি-এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। ভাইরাস সাধারণত শরীরে প্রবেশ করে খাবার, পানি ও ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে।

মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ
মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকা আছে। আবার শিশু বয়সে আরো কিছু টিকা নিলে পরোক্ষভাবে তা মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করতে পারে। এগুলো হচ্ছে- এমএমআর বা মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা, চিকেনপক্স, এইচআইবি বা হিব, নিউমোনিয়ার টিকা ইত্যাদি।
- See more at: http://www.kalerkantho.com/feature/doctor-asen/2015/01/08/172671#sthash.fHvhq3HR.dpuf

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্তন ক্যানসার: গন্ধনাশক ও বক্ষবন্ধনী



স্তন ক্যানসারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং এ রোগে আক্রান্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বানে প্যারিসের এক সমাবেশে ব্রা ছুড়ে ফেলছেন নারীরা। ১৫ মার্চ, ২০১৪। ছবি: এএফপিব্রা বা বক্ষবন্ধনী পরলে কি স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়? কিংবা বাহুমূলে নিয়মিত গন্ধনাশক ব্যবহার থেকে কি স্তন ক্যানসার হতে পারে? এমন আরও অনেক প্রশ্নই আসতে পারে মনে। সাম্প্রতিক নানা গবেষণা ও চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে ‘অর্গানিক হেলথ ডটকম’ এক প্রতিবেদনে স্তন ক্যানসারের নানা প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে জানিয়েছে। 

আসলে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে জেতার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ক্যানসারের কারণগুলো সম্পর্কে ভালো করে জানা। শুধু নিজে জানলেই হবে না। বিষয়গুলো জানাতে হবে চারপাশের মানুষজনকেও। আপনি নারী বা পুরুষ যা-ই হোন না কেন, আপনার কাছের মানুষদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলুন। তাহলেই সামাজিক পরিসরে সচেতনতা বাড়বে। সবাই মিলে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইটাও সহজ হবে। 

গন্ধনাশক ও স্তন ক্যানসার
আমাদের দেশেও শহর-নগরের বিপুলসংখ্যক নারী প্রায় প্রতিদিনই বাহুমূলে ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ ও ‘ডিওডেরান্ট’ বা গন্ধনাশক ব্যবহার করেন। এটা নিয়ে হয়তো কেউই মাথা ঘামান না। কিন্তু মাথা ঘামানো প্রয়োজন। কেউ যদি নিয়মিত এমন গন্ধনাশক ব্যবহার করেন এবং তাতে যদি অ্যালুমিনিয়াম থাকে, তাহলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। 
বাজারি গন্ধনাশক বা অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট আসলে ঘাম ঝরানোর লোমকূপগুলোকে বন্ধ করে বা আটকে রাখার মধ্য দিয়ে কাজ করে। আর এ কাজে গন্ধনাশকগুলোর প্রধন উপাদান হলো অ্যালুমিনিয়াম। শরীর তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় লোপকূপ দিয়ে ঘাম ঝরিয়ে দেয়। এই ঘাম ঝরানোর মধ্য দিয়ে আসলে শরীর নিজেকে দূষণমুক্ত করে। বাহুমূল শরীরকে দূষণমুক্ত করার, ঘাম ঝরানোর অন্যতম স্থান। কিন্তু বিষয়টা শুধু লোপমকূপ আটকে ঘাম বন্ধ করারই না। চিন্তা করতে হবে বাহুমূলে ব্যবহার করা গন্ধনাশকের ধাতব উপাদান বা অ্যালুমিনিয়ামগুলো কোথায় যায়?

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে স্তন ক্যানসারের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। আর এটা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় শেভ করার পরপরই এমন গন্ধনাশক ব্যবহার করলে। এ ছাড়া আগে এমন একটা ধারণা ছিল যে, ডিওডেরান্ট ব্যবহার অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের চেয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ‘প্যারাবেনস’-এর সঙ্গে স্তন ক্যানসারের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। প্রসাধনী সামগ্রীগুলোর স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রিজারভেটিভ হিসেবে এই রাসায়নিকের বিপুল ব্যবহার রয়েছে। প্রায় সব ডিওডেরান্টেই প্যারাবেনসের পরিমাণ অনেক। বিষয়টা সাধারণ একটা উদাহরণ থেকেই বোঝা যেতে পারে। স্তন ক্যানসার থেকে মারা গেছেন এমন এক নারীর স্তনের টিস্যুতে বিপুল পরিমাণ প্যারাবেনসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে অটোপসি বা ময়নাতদন্ত থেকে।

বক্ষবন্ধনী ও স্তন ক্যানসার
অনেক চিকিৎসক ও গবেষকই একমত যে, শরীরে চেপে বসা খুব আঁটসাঁট ব্রা বা বক্ষবন্ধনী দেহকোষগুলোতে শ্বেত-রক্তকণিকাবাহী তরল বা লিম্ফের চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই সমস্যা থেকে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কেননা এমন হলে দেহ থেকে দূষিত উপাদান বের করে দেওয়ার প্রাত্যহিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এ ছাড়া দেহের লিম্ফ বা এই তরল সঞ্চারের পথ রুদ্ধ হলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট থেকে আসা অ্যালুমিনিয়াম দেহের ভেতরেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

নিয়মিত ব্রা পরার সঙ্গে স্তন ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে। তবে, নৃ-বিজ্ঞানী সিডনি সিঙ্গার ও সোমা গ্রিসমাইজারের করা একটা গবেষণার কথা এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক। ওই গবেষণা থেকে স্তন ক্যানসারের ধাপসমূহ। ছবি: অর্গানিক হেলথ ডটকম‘ড্রেসড টু কিল: দ্য লিঙ্ক বিটউইন ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যান্ড ব্রাস’ শিরোনামে একটা বইও প্রকাশ করেছেন এ দুই গবেষক। চার হাজার নারীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনোই ব্রা পরেন না, এমন নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়মিত ব্রা পরেন এমন নারীদের তুলনায় অনেক কম।

সিঙ্গার ও গ্রিসমাইজারের গবেষণার উল্লেখযোগ্য কিছু ফল:
দিনে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ব্রা পরে থাকেন এমন নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ৪ ভাগের ৩ ভাগ।
দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্রা পরেন কিন্তু ঘুমানের সময় পরেন না, এমন নারীদের ঝুঁকি ৭ ভাগের ১ ভাগ।
দিনে ১২ ঘণ্টার কম ব্রা পরে থাকেন এমন নারীদের ঝুঁকি ৫২ ভাগের ১ ভাগ।
খুব কমই ব্রা পরেন কিংবা একেবারেই পরেন না এমন নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ১৬৮ ভাগের ১ ভাগ।
অন্যান্য ঝুঁকি বা প্রভাবকগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে হয়তো এই গবেষণার ফল অনেকটাই পাল্টে যেত। কিন্তু অন্যান্য গবেষণায়ও ব্রা পরা এবং স্তন ক্যানসারের যোগসূত্র নিয়ে এমন সব ফল পাওয়া গেছে, যা প্রকারান্তরে এই গবেষণার ফলকেই সমর্থন করে। উদাহরণ হিসেবে জাপানের একটা গবেষণার কথা বলা যেতে পারে। যাতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্রা পরা দেহে মেলাটোনিনের পরিমাণ প্রায় ৬০ ভাগ কমিয়ে ফেলতে পারে। মেলাটোনিন হরমোনটি আমাদের প্রাত্যহিক ঘুম-জাগরণের দেহঘড়ির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। আর বহু গবেষণাতেই দেখা গেছে, মেলাটোনিন ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মেনিনজাইটিস : প্রয়োজন দ্রুত চিকিৎসা





ঢাকা: ১০ বছরের রিয়া জামালপুর শহরের নামকরা একটি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা দেশের একটি প্রথম সারির ওষুধ কোম্পানির জেলা বিক্রয় ব্যবস্থাপক।

একদিন রিয়ার কানে, গলায় ও নাকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। তবে প্রচলিত ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে তা সঙ্গে সঙ্গে ভালোও হয়ে গেল।

কিন্তু পরের দিন আবারও দেখা গেল সেই ব্যথা, সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারার সমস্যা।

রিয়ার বাবা মা তাকে স্থানীয় নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলেন। কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানালেন রিয়ার মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার মত উপসর্গ আছে, তাই দেরি না করে দ্রুত তাকে যেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ-হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সঙ্গে সঙ্গেই রিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রাত পেরোবার আগেই খবর এলো রিয়া চলে গেছে না ফেরার দেশে।

প্রিয় পাঠক, রিয়ার মত বিশ্বে প্রতি মিনিটে ১ জন মানুষ মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়, আর প্রতি ২৪ ঘণ্টায় মারা যায় ১৩৭ জন।

মেনিনজাইটিসের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া প্রতি ৫ জন রোগীর অন্তত ১ জনের চিরস্থায়ী অঙ্গহানি,মস্তিষ্কের সমস্যা, বধিরতা বা দৃষ্টি শক্তি হারানোর মত করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়।
এবার চলুন দেখি জানা যাক, মেনিনজাইটিস কি ধরনের রোগ।
মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে আচ্ছাদনকারী পর্দা মেনিনজেসের তীব্র প্রদাহ।মূলত জীবানুর সংক্রমণের কারণেই এ প্রদাহের সৃষ্টি।

এই প্রদাহ মস্তিষ্কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। আর বিনা চিকিৎসায় মেনিনজাইটিসে মৃত্যুর হার শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি।

মেনিনজাইটিসের লক্ষণ: অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের ১২ ঘন্টার মধ্যেই মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত রোগী মারা যায়। তবে সব ক্ষেত্রে এ রকম হয় এমনটি বলা যাবে না। মেনিনজাইটিসের প্রধান লক্ষণগুলো হলো, তীব্র মাথা ব্যথা, গলার মাংস শক্ত হয়ে যাওয়া, স্মৃতি বিভ্রম, বমি, বমি বমি ভাব, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, অস্বস্তি, শরীরে বিশেষ দাগ, মূর্ছা যাওয়া, প্রচণ্ড ঘুম পাওয়া, শরীরে ভারসাম্য হারানো প্রভৃতি। তবে বয়সভেদে এই উপসর্গগুলোর কিছুটা ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।

কারণ ও প্রকারভেদ: অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের কারণ হল বিভিন্ন প্রকারের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি।

তবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বা ক্যান্সারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে।

ক) ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস: বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের জন্য দায়ী। সদ্যজাত থেকে শুরু করে ৩ মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে প্রধানত গ্রুপ-বি স্ট্রেপটেকক্কি ও লিস্টেরিয়া।

সাধারণত মনোসাইটোজিনেসিস দ্বারা মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে। পরিণত শিশুদের মেনিনজাইটিসের জন্য দায়ী নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস, স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি।

বড়দের শতকরা ৮০ ভাগ ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের কারণ নাইসেরিয়া মেনিনজাইটিডিস ও স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া। পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনেসিস জনিত মেনিনজাইটিসের হার অনেক বেশি।

খ) ভাইরাল মেনিনজাইটিস: ভাইরাস জনিত মেনিনজাইটিস ব্যাকটেরিয়া জনিত মেনিনজাইটিসের চাইতে কম ভয়ংকর। ভাইরাল মেনিনজাইটিসের প্রধান জীবানু এন্টেরোভাইরাস। এর বাইরেও কিছু ভাইরাস এই রোগের সৃষ্টি করে যা মশার মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে অন্য জনে ছড়াতে পারে।

ঘ)ফাংগাল মেনিনজাইটিস: ফাংগাল মেনিনজাইটিসের প্রধান জীবানু ক্রিপটোকক্কাস নিউফরমান্স। রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা হ্রাসের ওষুধ সেবনকারী, এইডস/এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ও বয়স্ক মানুষ ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ফাংগাল মেনিনজাইটিসের প্রকোপ আফ্রিকা মহাদেশে সবচাইতে বেশি এবং তা ২০-২৫% এইডস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর কারণ। অন্য যেসব ফাংগাস মেনিনজাইটিস ঘটায় সেগুলো হলো হিস্টোপ্লাজমা ক্যাপসুলাটাম, কক্কিডায়োআইডেস ইমিটিস, ব্লাস্টোমাইসেস ডার্মাটাইটিস, ক্যানডিডা স্পেসিস প্রভৃতি।


ঘ) প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস: এই ধরনের মেনিনজাইটিসের প্রধান প্রধান জীবানু হলো এ্যাংজিও স্ট্রংগিলাস, ক্যান্টোনেনসিস, গ্যান্থোসটোমা স্পিনিজেরাম, সিস্টোসোমা প্রভৃতি।
প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিসে সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে ইসোনোফিল (এক ধরনের শ্বেত কনিকা) পাওয়া যায়।

ঙ) জীবানুবিহীন মেনিনজাইটিস: জীবানুর বাইরেও কিছু কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারে যার মধ্যে ক্যান্সারের বিস্তৃতি, কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন (ব্যথা ও প্রদাহ বিরোধী ওষুধ, ইমিউনোগ্লোবিন, জীবানু বিরোধী ওষুধ), সারকোডিয়াসিস, কানেকটিভ টিস্যু ডিজঅর্ডার, সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটাসাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোন কোন ক্ষেত্রে মাইগ্রেন থেকেও মেনিনজাইটিস হতে পারে যদিও এ হার অনেক কম।


কিভাবে হয়: তিন স্তর (ডুরামাটের, আর্কনয়েডমাটের ও পিয়ামাটের) বিশিষ্ট মেনিনজেস এবং সেরেব্রোস্পাইনি‍য়াল ফ্লুইড মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডকে আবরণ প্রদান করে প্রতিরক্ষা দেয়। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে রক্ত প্রবাহ বা নাসা রন্ধ্রের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া মেনিনজেসের সংস্পর্শে আসে এবং পরবর্তীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। নবজাতকের রক্তের গ্রুপ-বি স্ট্রেপটোকক্কিতে আক্রান্ত হলে শতকরা ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উল্লেখ্য, রক্ত প্রবাহে ব্যাকটেরিয়া প্রবশ করলে তা সাবএরাকনয়িড স্পেসে চলে যায় আর এই স্পেসটি হলো ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ারের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ন স্পেস।
মেনিনজাইটিসে যে মারাত্মক প্রদাহ হয় তার কারণ ব্যাকটেরিয়ার সরাসরি আক্রমণ নয় বরং ব্যাকটেরিয়ার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অনুপ্রবেশের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেমের প্রতিরোধের চেষ্টা। মস্তিষ্কে ব্যাকটেরিয়ার কোষের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেম বেশি পরিমাণ সাইটোকাইন ও হরমোন জাতীয় পদার্থ নিঃসরণ করে, এতে করে ব্লাড ব্রেইন রেরিয়ার দুর্ভেদ্য থেকে ভেদ্য হয়ে উঠে এবং রক্তনালী থেকে তরল নির্গত হয়ে মস্তিষ্ক ফুলে উঠে। এমতাবস্থায় বেশি বেশি শ্বেত রক্ত কণিকা সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে প্রবেশ করে এবং প্রদাহ আরও তীব্রতর হয়ে উঠে। একেবারে শেষ পর্যায়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয় এবং শেষে মারা যায়।

মেনিনজাইটিস সনাক্তকরণ: কারও মেনিনজাইটিস থাকার ব্যাপারে সন্দেহ হলে ব্লাড কালচার, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), সি-রিয়াকটিভ প্রোটিন টেস্ট প্রভৃতি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। লাম্বার পাঙ্কচার দ্বারা সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড টেস্ট করার মাধ্যমেও মেনিনজাইটিস সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া যায়।

কিভাবে ছড়ায়: সংস্পর্শে মেনিনজাইটিস খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায় না, তবে ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস নাক ও গলার নিঃসরণে সরাসরি সংস্পর্শে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ছড়াতে পারে।

একজন স্বাভাবিক মানুষ মেনিনজাইটিস রোগের কোন উপসর্গ ছাড়াই এই রোগের জীবাণু বহন করতে পারে যা তা‍র ব্যবহৃত গ্লাস, থালা-বাসন বা সিগারেট ভাগাভাগির মাধ্যমে অন্যজনের নিকট সংক্রমিত হতে পারে।

এছাড়া ভাইরাল মেনিনজাইটিস মলের মাধ্যমেও একজনের থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।
মেনিনজাইটিসের টিকা: ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি’র টিকা অর্ন্তভুক্ত করেছে, কারণ এই জীবাণু ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি মেনিনজাইটিস সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

মাম্পস ভ্যাকসিন (টিকা) মাম্পস ও মাম্পস-মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করে। মেনিনগোকক্কাস ভ্যাকসিন গ্রুপ-এ, সি, ডাব্লিও-১৩৫ এবং ওয়াই মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কার্য্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তোলে যা সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে।

এখানে লক্ষ্য করা যেতে পারে যে, যে সব দেশে মেনিনগোকক্কাস গ্রুপ-সি এর ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হচ্ছে সেখানে মেনিনজাইটিসের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছে।

বাংলাদেশেও মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কার্য্যকর ও মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন বাজারে প্রচলিত আছে যা সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা দেয়।


মেনিনগোকক্কাস ভ্যাকসিন গ্রুপ-এ, সি, ডাব্লিও-১৩৫ এবং ওয়াই-এর সুবিধা:

১। শরীরে মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
২। ২ বছর বয়স থেকে ব্যবহার করা যায়।
৩। বার বার দিতে হয় না।
৪। ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর পাশাপাশি নিকটবর্তী প্রিয়জনকে মেনিনজাইটিস থেকে রক্ষা করে।

কারা ঝুঁকিপূর্ণ: শিশু-কিশোর, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী, ছাত্র/ছাত্রী নিবাসে অবস্থানকারী, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সৈনিকসহ অনেক শ্রেণি পেশার মানুষই মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

করণীয়: আসুন সবাই মিলে ডাক্তারের পরামর্শে মেনিনজাইটিসের টিকা গ্রহণ করে মেনিনজাইটিস মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।





  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্তন ক্যানসার: গন্ধনাশক ও বক্ষবন্ধনী



স্তন ক্যানসারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং এ রোগে আক্রান্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বানে প্যারিসের এক সমাবেশে ব্রা ছুড়ে ফেলছেন নারীরা। ১৫ মার্চ, ২০১৪। ছবি: এএফপি


ব্রা বা বক্ষবন্ধনী পরলে কি স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়? কিংবা বাহুমূলে নিয়মিত গন্ধনাশক ব্যবহার থেকে কি স্তন ক্যানসার হতে পারে? এমন আরও অনেক প্রশ্নই আসতে পারে মনে। সাম্প্রতিক নানা গবেষণা ও চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে ‘অর্গানিক হেলথ ডটকম’ এক প্রতিবেদনে স্তন ক্যানসারের নানা প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে জানিয়েছে। 

আসলে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে জেতার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ক্যানসারের কারণগুলো সম্পর্কে ভালো করে জানা। শুধু নিজে জানলেই হবে না। বিষয়গুলো জানাতে হবে চারপাশের মানুষজনকেও। আপনি নারী বা পুরুষ যা-ই হোন না কেন, আপনার কাছের মানুষদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলুন। তাহলেই সামাজিক পরিসরে সচেতনতা বাড়বে। সবাই মিলে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইটাও সহজ হবে। 

গন্ধনাশক ও স্তন ক্যানসার
আমাদের দেশেও শহর-নগরের বিপুলসংখ্যক নারী প্রায় প্রতিদিনই বাহুমূলে ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ ও ‘ডিওডেরান্ট’ বা গন্ধনাশক ব্যবহার করেন। এটা নিয়ে হয়তো কেউই মাথা ঘামান না। কিন্তু মাথা ঘামানো প্রয়োজন। কেউ যদি নিয়মিত এমন গন্ধনাশক ব্যবহার করেন এবং তাতে যদি অ্যালুমিনিয়াম থাকে, তাহলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। 
বাজারি গন্ধনাশক বা অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট আসলে ঘাম ঝরানোর লোমকূপগুলোকে বন্ধ করে বা আটকে রাখার মধ্য দিয়ে কাজ করে। আর এ কাজে গন্ধনাশকগুলোর প্রধন উপাদান হলো অ্যালুমিনিয়াম। শরীর তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় লোপকূপ দিয়ে ঘাম ঝরিয়ে দেয়। এই ঘাম ঝরানোর মধ্য দিয়ে আসলে শরীর নিজেকে দূষণমুক্ত করে। বাহুমূল শরীরকে দূষণমুক্ত করার, ঘাম ঝরানোর অন্যতম স্থান। কিন্তু বিষয়টা শুধু লোপমকূপ আটকে ঘাম বন্ধ করারই না। চিন্তা করতে হবে বাহুমূলে ব্যবহার করা গন্ধনাশকের ধাতব উপাদান বা অ্যালুমিনিয়ামগুলো কোথায় যায়?

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে স্তন ক্যানসারের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। আর এটা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় শেভ করার পরপরই এমন গন্ধনাশক ব্যবহার করলে। এ ছাড়া আগে এমন একটা ধারণা ছিল যে, ডিওডেরান্ট ব্যবহার অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের চেয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ‘প্যারাবেনস’-এর সঙ্গে স্তন ক্যানসারের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। প্রসাধনী সামগ্রীগুলোর স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রিজারভেটিভ হিসেবে এই রাসায়নিকের বিপুল ব্যবহার রয়েছে। প্রায় সব ডিওডেরান্টেই প্যারাবেনসের পরিমাণ অনেক। বিষয়টা সাধারণ একটা উদাহরণ থেকেই বোঝা যেতে পারে। স্তন ক্যানসার থেকে মারা গেছেন এমন এক নারীর স্তনের টিস্যুতে বিপুল পরিমাণ প্যারাবেনসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে অটোপসি বা ময়নাতদন্ত থেকে।

বক্ষবন্ধনী ও স্তন ক্যানসার
অনেক চিকিৎসক ও গবেষকই একমত যে, শরীরে চেপে বসা খুব আঁটসাঁট ব্রা বা বক্ষবন্ধনী দেহকোষগুলোতে শ্বেত-রক্তকণিকাবাহী তরল বা লিম্ফের চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এই সমস্যা থেকে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কেননা এমন হলে দেহ থেকে দূষিত উপাদান বের করে দেওয়ার প্রাত্যহিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এ ছাড়া দেহের লিম্ফ বা এই তরল সঞ্চারের পথ রুদ্ধ হলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট থেকে আসা অ্যালুমিনিয়াম দেহের ভেতরেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

নিয়মিত ব্রা পরার সঙ্গে স্তন ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে। তবে, নৃ-বিজ্ঞানী সিডনি সিঙ্গার ও সোমা গ্রিসমাইজারের করা একটা গবেষণার কথা এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক। ওই গবেষণা থেকে স্তন ক্যানসারের ধাপসমূহ। ছবি: অর্গানিক হেলথ ডটকম‘ড্রেসড টু কিল: দ্য লিঙ্ক বিটউইন ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যান্ড ব্রাস’ শিরোনামে একটা বইও প্রকাশ করেছেন এ দুই গবেষক। চার হাজার নারীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনোই ব্রা পরেন না, এমন নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়মিত ব্রা পরেন এমন নারীদের তুলনায় অনেক কম।

সিঙ্গার ও গ্রিসমাইজারের গবেষণার উল্লেখযোগ্য কিছু ফল:
দিনে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ব্রা পরে থাকেন এমন নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ৪ ভাগের ৩ ভাগ।
দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্রা পরেন কিন্তু ঘুমানের সময় পরেন না, এমন নারীদের ঝুঁকি ৭ ভাগের ১ ভাগ।
দিনে ১২ ঘণ্টার কম ব্রা পরে থাকেন এমন নারীদের ঝুঁকি ৫২ ভাগের ১ ভাগ।
খুব কমই ব্রা পরেন কিংবা একেবারেই পরেন না এমন নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ১৬৮ ভাগের ১ ভাগ।
অন্যান্য ঝুঁকি বা প্রভাবকগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে হয়তো এই গবেষণার ফল অনেকটাই পাল্টে যেত। কিন্তু অন্যান্য গবেষণায়ও ব্রা পরা এবং স্তন ক্যানসারের যোগসূত্র নিয়ে এমন সব ফল পাওয়া গেছে, যা প্রকারান্তরে এই গবেষণার ফলকেই সমর্থন করে। উদাহরণ হিসেবে জাপানের একটা গবেষণার কথা বলা যেতে পারে। যাতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্রা পরা দেহে মেলাটোনিনের পরিমাণ প্রায় ৬০ ভাগ কমিয়ে ফেলতে পারে। মেলাটোনিন হরমোনটি আমাদের প্রাত্যহিক ঘুম-জাগরণের দেহঘড়ির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। আর বহু গবেষণাতেই দেখা গেছে, মেলাটোনিন ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। 






  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ঠান্ডায় শরীর হবে মেদহীন!


.

নিয়মিত ঠান্ডার মধ্যে থাকলে শরীর মেদহীন হয়। কারণ, এতে করে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। গবেষকদের মতে, শীতের মধ্যে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য ‘শ্বেত’ চর্বি দ্রুত ‘বাদামি’ চর্বিতে রূপান্তরিত হতে থাকে। ‘শ্বেত’ চর্বির কারণে শরীর স্থূল হয়। তাই এটি বেশি ক্ষতিকর। সেই তুলনায় ‘বাদামি’ চর্বি শরীরের জন্য কম ক্ষতিকর।
গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, বাদামি চর্বি গঠনে জেডএফপি৫১৬ নামের একটি আমিষের জোরালো ভূমিকা আছে। আর যেসব ইঁদুরের শরীরে এই আমিষ বেশি আছে, অন্য ইঁদুরের তুলনায় তাদের ওজন অন্তত ৩০ শতাংশ কম। যদিও সব ইঁদুরকেই একই ধরনের উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়েছিল। 

ইনডিপেনডেন্ট|

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

শীতে কানে তালা ?

.


শীতে ঠান্ডা লেগে কানে তালা লাগতে পারে। মানে কান বন্ধ হয়ে থাকে, কিছু শোনা যায় না। কখনো কানে অস্বাভাবিক শব্দ হয়। কেন হয় এমন?

কানের সঙ্গে গলার সংযোগ রক্ষা করে অডিটরি টিউব। মধ্যকর্ণ ও আবহাওয়ার বায়ুর চাপের ভারসাম্য রক্ষা করে এই টিউব। টিউবটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যকর্ণে প্রদাহ দেখা দেয়। এ কারণে কান বন্ধ মনে হয়। শিশু ও বয়স্ক, যাদের ঘন ঘন শ্বাসনালির প্রদাহ বা সংক্রমণ হয়, প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ হয় ও এডিনয়েড বা টনসিলের সমস্যা আছে, তারা এতে বেশি ভোগে। সাধারণ সমস্যা হলেও এ থেকে মধ্যকর্ণে প্রদাহ, পুঁজ, এমনকি পর্দা ফুটো হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
কানে তালা লাগলে প্রদাহ কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ, প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। বয়স উপযোগী নাকের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। যাঁদের ঠান্ডার ধাঁচ ও অ্যালার্জি আছে, তাঁরা সহজে ঠান্ডা লাগাবেন না। 

 মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ|




  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS