Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকার উপায়



ডায়াবেটিস নতুন কোন রোগ নয়, এর ইতিহাস অনেক দিনের। এই রোগটি খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালে শনাক্ত করা হয় মিসরে। সে সময় এর নাম দেওয়া হয় অতি দ্রুত মূত্র শেষ। অনেকটা একই সময়ে ভারতে এই রোগ শনাক্ত হয়। তখন এর নাম রাখা হয় মধুমেহ অর্থাৎ মধুমূত্র। ডায়াবেটিস রোগীর মূত্রে পিঁপড়া ভিড় জমায় বলেই এই নামকরণ। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডি এফ) একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫২ মিলিয়ন লোক, অর্থাৎ ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে। তাই যদি সত্যি হয় তাহলে দুই দশকের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে ২০০ মিলিয়ন বা এরও বেশি লোক আসবে নতুন স্বাস্থ্য- সমস্যা হিসেবে। ডঐঙ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) এর অনুমানে, বর্তমানে এ রোগে ভুগছে ৩৪৬ মিলিয়ন লোক।



জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ৬১/২২৫ নম্বর ঘোষনায় (২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর) ডায়াবেটিসকে দীর্ঘ মেয়াদি, অব্যয়ী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যা মানব দেহে মারাতœক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কেননা ডায়াবেটিস রোগী যে খাদ্য গ্রহন করছে তা থেকে তৈরি হচ্ছে গ্লুকোজ। আর এই গ্লুকোজের সবটুকু তার দেহে ব্যবহার হচ্ছে না, অর্থাৎ তার রক্তে মিশে থাকছে অতিরিক্ত গ্লুকোজ । এতে করে তার রক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন। এই ঘন রক্ত চিকন চিকন রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবং তা আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে রক্ত চলাচলের পথ। আর যে পথে রক্ত পৌঁছাবে না সে পথে কোনো অক্্িরজেনও পৌঁছায় না। ফলে অক্্িরজেনের অভাবে শরীরের ভিতরকার কোষ বাঁচতে পারে না। তার মানে কতগুলো টিস্যুর নির্ঘাৎ মৃত্যু। এমন করে অঙ্গহানির পথে এগোবে শরীর যন্ত্র। অতিরিক্ত গ্লুকোজ মেশা ঘন রক্ত ছাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একে একে সব অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে অসম্ভব দ্রুতগতিতে।



তাহলে করণীয় কি কিছুই নেই? আছে। সচেতনতা ও নিয়মানুবর্তিতাই ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনের সহজ উপায়। সচেতনতামূলক কর্মকান্ড হিসেবে ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের তি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা, এ সংক্রান্ত নিবন্ধ পাঠ্যপুস্তকে রাখা, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের প্যাকেটের গায়ে চর্বির পরিমাণ ও ক্যালরি ভ্যালু উল্লেখ করা। নতুন স্কুল-কলেজের অনুমতি দেয়ারেে ত্র একক বা যৌথ খেলার মাঠ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা, টিভি ও রেডিওতে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও শ্লোগান প্রচার করা, এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং কাব ও সুইমিং কাব গড়ে তোলা, নতুন বসতি গড়ে তোলার অনুমতিদানে রাস্তা রাখার বাধ্যবাধকতা করা, হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিার ব্যবস্থা রাখা, ধর্মীয় নেতাদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বক্তব্য দানে উৎসাহিত করা এবং মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে উৎসাহিত করা।



একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র পাঁচটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ। কী করা উচিতঃ ১. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ প্রচুর ফল ও শাকসবজি। ২. সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ২০ মিনিট করে হাঁটা। ৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝঁকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম। ৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করা। ৫. মদ্যপান না করা। এই ৫টি গাইডলাইন মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।



ডায়বেটিস নিয়ে গবেষণাঃ স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা অনেক বড় বড় রোগের কারণ নির্ণয় করেছেন এবং তদানুসারে ঔষুধও আবিষ্কার করেছেন। ম্যালেরিয়া, কলেরা, গুটি বসন্ত ইত্যাদি ভয়াবহ রোগগুলোর কারণ আবিষ্কৃত হওয়ায় এ অসুখগুলো নিয়ে মানুষ আর চিন্তিত নয়।‘হলে যা, নাই রা' -এ প্রবচন আজ মানুষ বিষ্মৃত প্রায়। কিন্তু প্রাণান্তকর চেষ্টা ও শত গবেষণা সত্বেও ডায়াবেটিসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এক সময় মানুষের ধারণা ছিল ডায়বেটিস রোগ হলে আর রা নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে আজ এই রোগটিকে মানুষ তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। যদিও ডায়বেটিস রোগের কোন নিরাময় নেই, এটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সারাজীবন সুস্থ সবল ভাবে বেঁচে থাকা যায়। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ে বেশ কয়েকটা আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের বেশ উৎসাহিত করেছে। উল্লেখ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণাগারের এক পরীায় দেখা গেছে ক্যান্সারের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত গ্লিভেক এবং সুটেন্ট টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস প্রতিরোধে সম। ইঁদুরের ওপর চালানো এ পরীায় দেখা গেছে গ্লিভেক এবং সুটেন্ট ইঁদুরের শরীরে টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস ছড়াতে বাধা দেয় এবং ৮০ ভাগেে ত্র তা ডায়বেটিস কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া ভারতের এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ডায়বেটিক রোগীদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় তারা দেখেছেন দুর্বাঘাসের নির্জাস রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অর্ধেক পর্যন্ত হ্রাস করতে সম। এ নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা চলছে। যদি এ গবেষণা সফল হয় তাহলে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসবে মাঠে ঘাটে অযতেœ বেড়ে ওঠা এই দুর্বাঘাস।



ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে। অতএব, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনই পারে আমাদের এ রোগ থেকে দুরে রাখতে।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ডায়বেটিস


আমাদের দেশে ডায়বেটিস হল এখন একটি সাধারন অসুখ। দেশের অধিকাংশ মানুষই এই রোগে ভুগে থাকেন। কিন্তু এই রোগটি হল, নানান অন্যান্য সমস্যার সুচনা স্বরূপ। তাই এই রোগটি প্রায় অধিকাংশেরই হয় বলে, সাধারন ভাবা উচিত নয়। এটি অবশ্যই একটি জটিল সমস্যা। তাই এই রোগের আশংকা হলে, দ্রুত তা নির্ণয় করা প্রয়োজন,

Fasting Blood Glucose: এই পরীক্ষাটি সকালে নাস্তার আগে খালি পেটে করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ৬.১ মিলি মোল/লিটার বা তার কম।   

2 Hour After Breakfast:
এই পরীক্ষাটি নাশতা করার দুই ঘন্টা পর করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ মিলি মোল/লিটার বা তার কম। 

Random: এই পরীক্ষাটি দিনের যেকোনো সময় করা যেতে পারে। এর স্বাভাবিক মাত্রা ৫.৫ থেকে ১১.১ মিলি মোল/লিটার। 

Oral Glucose Tolerance Test (OGTT): 
যাদের খানি পেটে  FBG ৬.১ এর বেশী কিন্তু ৭.০ মিলি মোল/ লিটারের কম কিংবা দিনে যে কোন সময় ৫.৫ এর বেশী কিন্তু ১১.১ মিলি মোল/ লিটারের কম, তাদের এ পরীক্ষাটি করা খুবই জরুরি। কারন এই পরীক্ষার মাধ্যমে কারো ডায়বেটিস আছে কি নেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই পরীক্ষার জন্য রোগীকে খালি পেটে রক্ত দিতে হবে। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে এবং ঠিক দুই ঘন্টা পর আবার রক্ত দিতে হবে। এই দুই ঘন্টা রোগী অন্য  এ পরীক্ষায় যে রোগীর খালী পেটে ৭.০ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি এবং দুই ঘন্টা পর ১১.১ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি হবে তাকে নিশ্চিত ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। গ্লাইকোলাইলেটেড হিমোগ্লোবিন এ পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রক্তে গত ৪ মাসের গ্লুকোজের মাত্রার একটা ধারণা পাওয়া যাবে। এ পরীক্ষাটি খালি পেটে অথবা খাওয়ার পর যে কোন অবস্থায় করা যায়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ৭% নিচে থাকা বাঞ্চনীয়।কোন খাবার খেতে পারবে না। 

দায়বেটিস একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা, তাই এর লক্ষন ধরা দিলে, বা নিজে আশংকা করলে দ্রুত নির্ণয়ের ব্যবস্থা নিন। এবং সুস্থ থাকুন।


ডায়বেটিস কি এবং প্রতিরোধে আমাদের করনীয়
ডায়বেটিস কি?

ডায়বেটিস হলো রক্তের উচ্চ গ্লুকোজ জনিত স্বাস্থ্য সমস্যা। তেল ছাড়া রেলগাড়ি নামের যন্ত্রটি চলে না। মানবদেহ এক ধরনের যন্ত্র। আর এই যন্ত্রের তেল হচ্ছে গ্লুকোজ নামের একটি পদার্থ। রেলগাড়ির তেল জ্বালাতে যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, তেমনি আমাদের দেহের গ্লুকোজকে কাজে লাগাতে হলে ইনসুলিন নামের একটি পদার্থের প্রয়োজন। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্ত থেকে গ্লুকোজের কণাগুলোকে টেনে এনে দেহের কোষে দেওয়া। এই ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয় থেকে। যখন অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা তৈরি হওয়া ইনসুলিন দেহ ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারে তখনই রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর এর ফলে দেহে তৈরি হয় নানা অসামঞ্জস্য। এর নাম ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ।

ডায়াবেটিস রোগী যে খাদ্য গ্রহন করছে তা থেকে তৈরি হচ্ছে গ্লুকোজ। আর এই গ্লুকোজের সবটুকু তার দেহে ব্যবহার হচ্ছে না, অর্থাৎ তার রক্তে মিশে থাকছে অতিরিক্ত গ্লুকোজ । এতে করে তার রক্ত হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন। এই ঘন রক্ত চিকন চিকন রক্তনালীর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এবং তা আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছে রক্ত চলাচলের পথ। আর যে পথে রক্ত পৌঁছাবে না সে পথে কোনো অক্সিজেনও পৌঁছায় না। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শরীরের ভিতরকার কোষ বাঁচতে পারে না। তার মানে কতগুলো টিস্যুর নির্ঘাৎ মৃত্যু। এমন করে অঙ্গহানির পথে এগোবে শরীর যন্ত্র। অতিরিক্ত গ্লুকোজ মেশা ঘন রক্ত ছাকতে গিয়ে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, একে একে সব অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে অসম্ভব দ্রুতগতিতে।
ডায়বেটিস যে শুধু বয়স্ক ব্যাক্তিদের হয় তা নয়। শিশুদেরও হতে পারে ডায়বেটিস।ইদানীংকালে শারীরিক কর্মকাণ্ড (খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি) কমে যাওয়ার কারণে অনেক অল্পবয়সী শিশু-কিশোরদেরও ডায়বেটিস হচ্ছে। সুষম খাদ্য এবং ব্যায়াম চর্চার অভাবে ডায়বেটিস এ আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু ডায়বেটিস বা বহুমুত্র রোগে ভুগছে। ডায়বেটিসে আক্রান্ত একজন বয়সী ব্যক্তির মধ্যে যে ধরণের উপসর্গ দেখা দেয় তার সবই শিশুরোগীদের মধ্যেও দেখা দেয়।

ডায়বেটিস এর প্রকারভেদঃ
ডায়বেটিস ২ রকম।

টাইপ ১ ডায়বেটিস খুব দ্রুত উপসর্গ দেখায় এবং খুব দ্রুত ডেভেলপ করে, সাধারণত সপ্তাহ দুই-তিনেকের মধ্যে। উপসর্গগুলো তাড়াতাড়ি চলেও যায় যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

টাইপ ২ ডায়বেটিস খুব ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে, কয়েক বছর ধরে। কেবলমাত্র নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করানোর মাধ্যমেই তা ধরা পড়া সম্ভব। নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখলে উপসর্গগুলো দূর করা সম্ভব।

উপসর্গঃ
প্রধান উপসর্গসমূহের মধ্যে যেগুলো সাধারণত দেখা যায়ঃ

- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, বিশেষ করে রাতে।
- ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া।
- খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া।
- হঠাৎ করে দ্রুতহারে ওজন হ্রাস পাওয়া।
- যৌনাঙ্গে চুলকানি এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশান দেখা দেয়া।
- শরীরের কোথাও কেটে ছিড়ে গেলে, খুব আস্তে ধীরে ক্ষত শুকানো।
- ঝাপসা দৃষ্টি।

ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা কাদের বেশীঃ
যাদের বংশে ডায়বেটিস রোগ আছে তাদের টাইপ ১ ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা বেশী। এছাড়া টাইপ ২ ডায়বেটিস হবার সম্ভবনা বেশী হয় বয়সের সাথে - বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী হয়।

ক. এশিয়ান এবং আফ্রিকানদের ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী।

খ. একজন মা যখন বেশী ওজনের সন্তান গর্ভে ধারন করেন তখন তার ডায়বেটিসের 
সম্ভবনা বেশী ....

গ. ওজন বেশী যেমন পুরুষের কোমড়ের মাপ ৩৫ ইন্চির বেশী এবং মহিলাদের ৪০ ইন্চির বেশী হলে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী দেখা যায়।

ঘ. অলস জীবনযাপন করলে ডায়বেটিসের সম্ভবনা বেশী থাকে।


প্রতিরোধঃ
কিছু কিছু নিয়ম পালন করলে ডায়বেটিস থেকে সাবধানে থাকা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েকটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ।
১.স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড (বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজা, শর্মা, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইজ ইত্যাদি), কোমল পানীয় এবং চকলেটসহ যেকোনো মিষ্টি খাবারেই ডায়বেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এগুলো থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন এবং তাদের এসব খেতে নিরুৎসাহিত করুন, সহজ ভাষায় এর অপকারিতা বর্ণনা করুন। ঘরের খাবার খাওয়ার অভ্যেস করুন। এবং প্রতিদিনের খাবারের চার্টে প্রচুর ফল ও শাকসবজি রাখুন। প্রতিদিন নির্দ্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২.নিজে নিয়ম করে দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন, সাথে আপনার সন্তানকেও বলুন আপনার সাথে যোগ দিতে। আপনার উৎসাহই পারে তাদের সুস্থ রাখতে।
৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝুকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম।
৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করুন এবং মদ্যপান পরিহার করুন।
৫.বাসায় একটি ডায়বেটিস পরিমাপের যন্ত্র কিনে নিতে পারেন, যাকে ইংরেজিতে বলে গ্লুকোমিটার। ইদানীং বাজারে সস্তায় এগুলো পাওয়া যায়। নিয়ম করে, মাসে অন্তত একবার পরিবারের সবার ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন।
অনেক ডায়বেটিস রোগীকেই দেখা যায় নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন নিতে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না! পুণরায় বলছি, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না!যাদের ইতোমধ্যে ডায়বেটিস আছে, এবং যারা প্রেস্ক্রাইবড ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে খালি পেটে থাকবেন না। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজ খুব বেশি কমে যাওয়া) হয়ে যেতে পারে যার ফলাফল খুব একটা সুখকর নয়।এই গাইডলাইনগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।

ভয়াবহতাঃ
ডায়াবেটিস স্বাস্থ্যের একটি বড় সমস্যা। কেউ কেউ একে অন্যান্য সকল মারাত্মক রোগের জননী বলে। কাঠের সাথে ঘুণের যে সর্ম্পক, শরীরের সাথে ডায়াবেটিসের সে সম্পর্ক। অর্থাৎ কাঠে ঘুণ ধরলে যেমন এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাড়াতাড়ি শরীর ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের হার্ট, কিডনী, চোখ, দাঁত, নার্ভ সিষ্টেম-এ গরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে।অন্যদের তুলনায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির হৃৎরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের আশংকা থাকে ৪ গুণ বেশি।

ঔষধঃ
ডায়বেটিসের যেসব পথ্য আছে এর মধ্যে ইনসুলিন এবং কিছু ওষুধ রয়েছে। এদের মূল কাজ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা। তবে এসব ওষুধ কিছুটা ব্যয় বহুল।   




ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকার উপায়:


ডায়বেটিস বা বহুমূত্র আজকের যুগের অন্যতম মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। এ রোগের সাথে খাদ্যের গভীর সর্ম্পক আছে সে কথাও সবাই জানেন। তাই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কি ধরণের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত সে ব্যাপারে আলোচনা করেছেন ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডায়বেটিক হাসপাতাল বা বারডেমের সিনিয়র পুষ্টিবিদ খালেদা খাতুন। 


আলোচনাটি পরিবেশন করা হলো : 
ডায়বেটিস রোগের প্রকোপ বর্তমান কালে বেড়েছে। কেউ কেউ মনে করেন আংশকাজনক ভাবেই বেড়েছে। শহর কেন্দ্রিক মানুষের তুলনামূলক অলস জীবন যাপন আর এর সাথে অতিরিক্তি কথিত 'সুখাদ্য' এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি করেছে। ডায়বেটিস হলে দেহে পরিমাণমতো ইনস্যুলিন তৈরি হয় না বা তার ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে দেহ চিনি জাতীয় খাদ্যকে ভেংগে আর হজম করতে পারে না। রক্তে চিনির মাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায়। বহুমুত্রের পথ ধরে রোগীর দেহে হৃৎরোগ, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ দেহে বাসা বাধতে পারে। এ কারণে ডায়বেটিসকে রোগের জননী বলা হয়। ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে, প্রথমেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অর্থাৎ চিনি জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত তেল চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। একই সাথে অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাওয়া যথাসাধ্য বন্ধ রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। তবে সাধারণভাবে চিকিৎসকরা মনে করেন, কেউ যদি খাদ্য গ্রহণে সতর্ক না হোন এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করেন তবে তিনি যতই ওষুধ গ্রহণ করুন না কেন, তার রক্তের চিনির মাত্রা হ্রাস পাবে না, বহুমুত্র নিয়ন্ত্রিত হবে না। একই সাথে ডায়বেটিসের পথ ধরে অন্যান্য রোগের আক্রমণের আশংকা কমবে না। একজন সাধারণ মানুষ যে পরিমাণ শর্করা জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ ভাত বা রুটি খান ডায়বেটিসের রোগী মোটেও সে পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করতে পারবেন না। তার যে পরিমাণ ক্যালোরির প্রয়োজন পড়ে তার মধ্যে ষাট থেকে সত্তর শতাংশ শর্করা খাদ্য হওয়া উচিত। এরপর বাকি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রোটিন বা আমিষ এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাবার থেকে অর্জন করা উচিত। বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে অনেকের জন্য খাদ্যের যোগাড় করাই মুশকিল হয়ে দাড়ায়। খাদ্য সমস্যার কথা মনে হলেই এ দেশে আমিষ বা প্রোটিন ঘাটতির কথাই বেশি আসে। তাই এ সব দেশের আমিষ সমস্যার কথা মনে রেখেই রোগীর খাদ্যের আমিষের কথাটি বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে একটি মাপকাঠিও পাওয়া গেছে। সাধারণ ভাবে পূর্ণ বয়সী মানুষের দেহের ওজন যতো কিলোগ্রাম হবে তত গ্রাম আমিষ তাকে খেতে দিতে দিতে হবে। অর্থাৎ কারো ওজন যদি ৭৫ কিলোগ্রাম হয় তবে তাকে ৭৫ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হবে। তবে শিশুদের বেলায় এই পরিমাণ একটু বাড়বে। অর্থাৎ তাকে প্রতি কিলো ওজনের জন্য ১ দশমিক ২ গ্রাম আমিষ সরবরাহ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো শিশুর ওজন যদি ১৮ কিলোগ্রাম হয় তবে তাকে ২১ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হবে। তবে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটবে। যে সব মায়ের ডায়বেটিস আছে তারা পরিপূর্ণ ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ না করে তাদের গর্ভ ধারণ করা মোটেও উচিত হবে না। গর্ভে সন্তান থাকাকালীন অবস্থায় এ ধরণের মায়ের খাদ্য তালিকায় চিনি জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ছাড়া আর কিছু খাবার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো দরকার নেই। অন্যদিকে সন্তান গর্ভে থাকার কারণে অনেকের মধ্যে বহুমুত্রের উপসর্গ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাবে সামান্য সতর্কতা ছাড়া বিশেষ কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে না। ডায়বেটিস রোগীর খাবারের সময় সূচি রক্ষা করা একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। এ ধরণের রোগীদের প্রতি ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর তাকে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যের এই সময় সূচি সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তার পরিণাম ভাল হবে না। ডায়বেটিস রোগী চিকিৎসা এবং আনুষাঙ্গিক নিয়ম মানার ফলে যে সুফল অর্জন করতে পারবেন কেবল মাত্র খাদ্যের নিয়ম না মানার কারণে তা ভেস্তে যেতে পারে। এ্ই নিয়ম না মানার কারণে ডায়বেটিসের রোগীর রক্তে চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় কমে যেতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে হাইপো গ্লাইসিমিয়া বলা হয়। অথবা খাদ্য গ্রহণের পর রক্তে চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে হাইপার গ্লাইসিমিয়া বলা হয়। তাই যদি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর পর যদি খাবার গ্রহণ করা হয় তবে রক্তে চিনির এই মাত্রা ওঠা-নামা করার সুযোগ পায় না। এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজনীয় মনে করছি, তা হলো বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও ভেষজ চিকিৎসার প্রতি অনেকের গভীর বিশ্বাস রয়েছে। গাছ-গাছড়ায় রোগ সারিয়ে তোলার মতো উপকরণ বা উপাদান রয়েছ এ কথা সবাই স্বীকার করবেন। তবে ভেষজ চিকিৎসার জন্য যে সব গাছ-গাছড়ার নাম বলা হয় তাদের কার্যকারিতা, রোগ সারিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রা এবং দেহের উপর এ সব ভেষজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সঠিক গবেষণা আজো হয় নি। কোনো ভেষজকে আধুনিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এরকম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে অনেকেই বলেন, মেথি, করলা, রসুন, পেঁয়াজ, জামের বিচি থেকে শুরু করে নানা উদ্ভিদের বহুমুত্র সারিয়ে তোলার বা নিয়ন্ত্রণ করার মতো উপাদান আছে। এ কথা কতোটি সত্যি তা আজও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুমোদিত ওষুধের বিকল্প হিসেবে এ ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা ঠিক নয়। বরং তা অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। মনে রাখতে হবে ডায়বেটিস কখনোই সারে না। এ রোগ সারাবার কোনো ওষুধ এখন পর্যন্ত কেউ উদ্ভাবন করতে পারেন নি। তবে ডায়বেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন মান সম্পন্ন জীবন যাপন করা সম্ভব। আজকের দিনে ডায়বেটিসের যে চিকিৎসা হয় তা রোগ নিরাময় বা রোগ সারিয়ে তোলা জন্য নয়। রোগী যেনো সুস্থ সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন তার জন্যেই এই চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে খাদ্য এবং জীবন আচারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ডায়বেটিসের রোগীকে সুস্থ জীবন যাপন করতে হলে নিয়ম মেনে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। আজকের যুগের অনেক চিকিৎসকই বলেন, নিয়ম মেনে খাবেন এবং দৈনিক ব্যায়াম করবেন তা হলেই ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকবেন। 




  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সর্বদা নীরোগ থাকার ৯টি সহজ অভ্যাস

long-life01-680x450


সুন্দর আর সহজ অভ্যাস গড়ে তুলে দূরে রাখুন যতো অসুখ বিসুখ। আমাদের কারো কারো এমন হয়, অসুখ বিসুখ যেন লেগেই থাকে। আজ সর্দি, কাল পেটের অসুখ, পরশু জ্বর তো তার পরদিন চর্মরোগ। অথচ মানুষটিকে দেখতে দিব্যি সুস্থ সবল। কিন্তু এই রোগগুলো হতে হতেই একদিন বড় ধরনের কোন স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে যেতে পারে। অথচ চাইলেই এসব নিত্যনৈমিত্তিক রোগগুলো থেকে দূরে থাকা সম্ভব। গড়ে তুলতে হবে কিছু সচেতন ছোট্ট অভ্যাস।
জেনে নিন সুস্থ থাকার ৯ টি সহজ অভ্যাস।
১। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুনঃ
হাত দিয়ে আপনই এটা ওটা ধরছেন, শুকনো খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু আপনই কি জানেন আপনার হাতই জীবানু ও ব্যাকটেরিয়ার সব চেয়ে বেশি জমে থাকার জায়গা? বিভিন্ন জিনিস যেমন, মোবাইল, টয়েলেটের দরজার হাতল, বেসিন যখন আপনই স্পর্শ করছেন আপনার হাতেই উঠে আসছে শত শত জীবানু, যা খুব সহজেই আপনার পেটেও চলে যেতে পারে ও সৃষ্টি করতে পারে রোগ? তাই দিনে কয়েক বার নিয়ম করে হাত ধুয়ে ফেলুন।
২। ব্যাগে হ্যান্ড ক্লিনার রাখুনঃ
অনেক সময় এমন হয় যে প্রয়োজনীয় সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ পাওয়া যায় না, ক্ষেত্রবিশেষে পানিও কিন্তু না পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাগে হ্যান্ড ক্লিনার রাখুন। যেকোন ওষুধের দোকানে পাবেন। একটুখানি হাতে নিয়ে ভালোভাবে ঘষে ফেললেই হাত জীবানুমুক্ত হয়ে যাবে।
৩। নখ দিয়ে দাঁত খোঁচানো ও চোখ ঘষা বন্ধ করুনঃ
শুকনো খাবার খাওয়ার সময় অনেকেই হাত না ধুয়ে বরং টীস্যু পেপারে জড়িয়ে খাবারটি খান, কিন্তু খাবারটির কোন আঠালো অংশ দাতে লেগে থাকলে কি করবেন। ভুলেও নখ বা আঙ্গুল দিয়ে তা দাঁত থেকে তোলার চেষ্টা করবেন না। এতে আপনার হাতে থাকা জীবানু মুখের মাধ্যমে পেটে গিয়ে রোগ ছড়াতে পারে।
৪। প্রতিদিন ভিতামিন সি যুক্ত ফল খানঃ
প্রতিদিন কমপক্ষে একটি আমলকী, লেবু, পেয়ারা বা যেকোন ভিটামিন সি যুক্ত ফল খান। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে ও আপনি সহজে অসুস্থ হবেন না।
৫। দোকানের দরজা খুলতে হাত নয়, কনুই ব্যবহারঃ
দোকানের দরজার হাতলে লেগে থাকে বিভিন্ন জীবানু। কেননা কোন চর্মরোগী যদি তার আক্রান্ত আঙ্গুল দিয়ে সেটি স্পর্শ করেন এবং তার ঠিক পর পরই আপনিও সেটি স্পর্শ করেন। সেই বিচ্ছিরি সংক্রামক রোগটি কিন্তু হতে পারে আপনারও!
৬। টয়লেটের দরজার হাতল বা অন্যকিছু টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুনঃ
কেননা এতে লেগেথাকে কোটি কোটি জীবানু যা আপনই খালি চোখে মোটেই দেখতে পান না। টয়লেটের দরজার হাতল, ফ্ল্যাশ যাই স্পর্শ করুন না কেন, খালি হাতের বদলে টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুন।
৭। অসুস্থ মানুষের খুব কাছে যাবেন নাঃ
হাসপাতালে বা কোথাও অসুস্থ মানুষকে দেখতে গেলে তার একেবারে কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরার প্রয়োজন নেই। একটুখানি দূরত্ব মেনে চলুন। সংক্রামক রোগ থেকে রেহাই পাবেন।
৮। আইসক্রীম ও পানীয় শেয়ার থেকে বিরত থাকুনঃ
একই আইস্ক্রীম (কোন) বা একই বোতল থেকে মুখ লাগিয়ে সবাই পানীয় পান থেকে বিরত থাকুন। নানা ধরনের বাজে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
৯। টয়লেটে খালি পায়ে বা ভেজা স্যান্ডেল নিয়ে ঢুকবেন নাঃ
খুব তাড়া আছে বলেই টয়লেটে খালি পায়ে ঢুকবেন না। অথবা টয়লেটের স্যান্ডেলটি চেষ্টা করুন শুকনো রাখার। টয়লেটের স্যাঁতসেঁতে জায়গা নোংরা জীবানুর প্রধান বসবাসের জায়গা। তাই কৃমি ও এই ধরনের নোংরা অসুখ থেকে দূরে থাকতে এটি করুন।



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

হলুদ সারিয়ে তুলবে মস্তিস্কের কোষ


hlud

জার্মান বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দাবি করছেন, মস্তিস্কের রোগ নিরাময়ে হলুদ খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। মস্তিস্কের ক্ষতিগ্রস্থ কোষ নিজে থেকে সারিয়ে তুলতে হলুদ খুবই কার্যকরী।
স্টেম সেল রিসার্চ এন্ড থেরাপি জার্নালে সম্প্রতি এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
জার্মান গবেষকদের এই গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, হলুদের মধ্যে এমন একটি উপাদান আছে, যা স্নায়ু কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এসব কোষ মস্তিস্কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ সারিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জার্মান বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি চালান ইঁদুরের ওপর। কিন্তু ভবিষ্যতে স্ট্রোক বা অ্যালঝেইমার রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ওষুধ তৈরিতে এই গবেষণা কাজে লাগবে বলে তারা আশা করছেন।
জার্মানীর ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এন্ড মেডিসিন এর গবেষকরা হলুদের একটি উপাদান ‘টারমেরোন’ ইনজেকশন দিয়ে ঢুকিয়ে দেন ইঁদুরের শরীরে।
এরপর তারা ইঁদুরের মস্তিস্ক স্ক্যান করে দেখতে পান যে অংশে স্নায়ু কোষ তৈরি হয়, সেটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ‘টারমেরোনে’র প্রভাবে ইঁদুরের মস্তিস্কে স্নায়ু কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।
একটি পচনরোধী উপাদান হিসেবে হলুদের খ্যাতি আছে। দক্ষিণ এশিয় রন্ধন প্রণালীতে হলুদ একটি ব্যাপক ব্যবহৃত মশলা। এর আগে অন্য কিছু গবেষণায় হলুদের ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণেরও সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রেম করে বিয়ের পর যে সত্য গুলো জানতে পারে মেয়েরা !



প্রেম করে নিজের স্বপ্নের রাজপুত্রকে বিয়ে করার স্বপ্ন কমবেশি সকল মেয়েই দেখে থাকেন। এবং অনেকেই নিজের মনের মানুষটিকে বিয়ে করতেও পারেন। কিন্তু তারপর কী হয়? তারপর যা ঘটে সেটার প্রত্যাশা কোন মেয়েই করেন না। কিন্তু হ্যাঁ, ঘটনাগুলো হয়। প্রেম করে বিয়ে করার পর প্রত্যেক মেয়েই এমন কিছু সত্য আবিষ্কার করতে পারেন, যেটা তিনি আগে কখনোই ভাবেন নি। এমনকি নিজের প্রেমিকের ব্যাপারেও বিচিত্র কিছু ব্যাপার আবিষ্কার করতে পারেন তারা!
১) জীবন মোটেও সিনেমা কিংবা রূপকথা নয়
বিয়ের আগে জীবনটাকে রূপকথাই মনে হয়। বিশেষ করে মনের মানুষটার সাথে প্রেম করে বিয়ে হওয়ার সময়ে।
কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই সব মেয়ে আবিষ্কার করেন যে জীবন রূপকথা নয়। এখানে “হ্যাপিলি এভার আফটার” হয় না। ভালো মন্দ মিলিয়েই জীবন।
২) পৃথিবীতে মা-বাবার চাইতে বেশী ভালো কেউ বাসে না
শুধু প্রেম করে বিয়ে কেন, যে কোন বিয়েতে কেবল শ্বশুর বাড়ি যাবার পরই অনুভব করা যায় মা-বাবার ভালোবাসা। প্রেমের জন্য পিতা-মাতার সাথে বেয়াদবি করে থাকলে আফসোসটা আরও বেশী হয়।
৩) মুখে যাই বলুক না কেন,ছেলেরা সব মেয়েকে একই ভাবে
প্রেমের সময় যে ছেলেটি বলত “তুমি সবার চাইতে আলাদা”, বিয়ের পর সেই পুরুষটি প্রায়ই বলেন যে-“তোমরা সব মেয়েরাই এক!” … হ্যাঁ নারীরা, এটাই বাস্তবতা! প্রেমিক যখন স্বামী হয়, পরিস্থিতি তখন অনেকটাই বদলে যায়।
৪) দারুণ স্মার্ট প্রেমিক মানুষটা প্রচণ্ড বোরিং আর অলস স্বামীও হতে পারে
প্রেমের সময় যে মানুষটাকে দারুণ আকর্ষণীয় আর চটপটে মনে হতো, বিয়ের পর একটানা দেখতে দেখতে তাকেই বোরিং মনে হয়। আর ছুটির দিনে তো রীতিমত আলসে। বিশেষ করে তখন, যখন ছুটির দিনেও মেয়েদের সংসার সামলাতে হয় আর পুরুষটি আরাম করে।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

দেহকে রাখুন ক্ষতিকর টক্সিনমুক্ত ৭ টি সহজ উপায়ে



প্রতিনিয়ত আমরা নানা ভুল কাজের মাধ্যমে নিজেদের দেহে প্রবেশ করাই মারাত্মক ক্ষতিকর টক্সিন। যা আমাদের দৈহিক ক্ষমতা দিনে দিনে কমিয়ে দেয়। এবং ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয় আমাদের কিডনি, লিভার ও হার্ট। এর প্রভাব পড়ে আমাদের পুরো দেহের ওপর।
কিন্তু খুব সহজেই এই মারাত্মক ক্ষতিকর টক্সিনসমূহ দেহ থেকে দূরে রাখা সম্ভব। আমরা চাইলেই আমাদের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে দেহটাকে সুস্থ রাখতে কাজ করতে পারি। আমাদের নিজেদের সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে নিজেদেরই।
টিনজাত সকল খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন
টিনজাত নানা খাবার ও ফ্রোজেন ফুড আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে ঠিকই কিন্তু এটি আমাদের দেহকে ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে। টিনজাত খাবার ও ফ্রোজেন খাবারে যে সকল প্রিজারভেটিভ, কালার এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তার মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে ক্ষতিকর টক্সিন যার ফলে ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারি আমারা। তাই টিনজাত নানা খাবার ও ফ্রোজেন ফুড থেকে দূরে থাকুন।
গ্রিন টী পান করুন
চা বা কফি পানের পরিবর্তে গ্রিন টী পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গ্রিন টীয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহের সুরক্ষায় কাজ করে। এবং নানা ধরণের ক্ষতিকর টক্সিন দেহে প্রবেশে বাঁধা দেয় এবং দেহে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে থাকেন।
শারীরিক ব্যায়াম করুন
শারীরিক ব্যায়ামের দিকে বিশেষ নজর দিন। বিশেষ করে স্ট্রেচিং এবং যোগব্যায়ামের দিকে। কারণ এতে করে দেহে অক্সিজেন প্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘামের মাধ্যমে দেহের ক্ষতিকর টক্সিন দেহ থেকে দূর হয়ে যায়।
প্রচুর পানি পান করুন
পানি দেহকে টক্সিন মুক্ত রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে। পানি পানের মাধ্যমে আমাদের পাকস্থলী ও লিভার পরিষ্কার থাকে। ক্ষতিকর কোনো টক্সিন থাকলেও তা বাড়তি পানিতে মিশে ইউরিন এবং ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
ষ্টীম বাথ নিন
ষ্টীম বাথের মাধ্যমে খুব সহজে দেহকে ক্ষতিকর টক্সিন মুক্ত করা যায়। এটি আমাদের দেহকে ডিহাইড্রেট করে যার মাধ্যমে টক্সিন দূর হয়ে যায়। তবে ষ্টীম বাথের পর দেহকে রিহাইড্রেট করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
বড় বড় নিঃশ্বাস নিন
সারাদিনে যখনই সময় পাবেন তখনই বড় বড় নিঃশ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এতে করে আপনার দেহে দ্রুত বেশি পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করবে এবং নিঃশ্বাস ছাড়ার মাধ্যমে দেহকে টক্সিন মুক্ত করতে সহায়তা করবে।
ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন
যতোটা সম্ভব ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। দেহে নানা ধরণের ক্ষতিকর টক্সিন প্রবেশের মূল কারণ হচ্ছে এই ধূমপান ও মদ্যপান। এতে করে দেহকে টক্সিন সহ নানা রোগ থেকেও মুক্ত রাখতে পারবেন।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মেদ ভুড়ি কমাবে লেবু



Untitled-1
 ভাবে জিবনকে উপভোগ করতে চাই সুঠাম সুস্থ্য দেহ। সুস্থ্য দেহ প্রশান্ত মন নিয়ে বেচে থাকতে চায় সবাই । মনের প্রভাব যেমন দেহের উপর পড়ে ঠিক তেমনই দেহের ব্যাপক প্রভাব আছে মনের উপর । দেহ সুস্থ্য ও সুন্দর থাকলে এর প্রশান্তি মন বয়ে বেড়ায়। এই দেহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আক্রমণের শিকার হয়। বর্তামানে সারা বিশ্বের সাস্থ্য হুমকি হচ্ছে এই মেদ সুস্থুলতা। এর প্রভাব আমাদের দেশেও কম না । ধেয়ে আসছে নদীর স্রোতের মত । কেন এই মেদ স্থুলতা?
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের অভিমত হল অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার,বেশী ফাস্টফুড ও শারীরিক প্ররিশ্রম ছাড়া শুয়ে বসে সময় পার করা , একটানা অনেক ক্ষন বসে, শুয়ে থাকা ইত্যাদি। বিশেষত ছাত্র-ছাত্রী , চাকরী জীবিরাই এখন বেশী ভুক্তভুগি।
চর্বি আমাদের শরীরে শক্তিরুপে জমা থাকে তা দুর্দিনে ব্যাবহার করে শরীরকে সচল রাখে। ব্যবহার না হওয়ায় আস্তে আস্তে তা জমে ক্ষতিকর মেদ ভুড়ি রূপে আপনার দেহে জমা হয় ।
যারা এর আক্রমণের শিকার তারা চেষ্টায় আছেন কমানোর, আর যাদের হয়নি তারা যেন না হয় এই চেষ্টায় ব্যাস্ত । তাদের জন্যে শান্তির বার্তা নিয়ে এলো লেবু। লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক এসিড আপনার চর্বি গলাতে সাহায্য করে । ভিটামিন সি ও এসিড এই দুই আপনার শান্তি নিশ্চিত করবে ফিরে পাবেন প্রশান্তি । লেবু বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায় , তবে প্রত্যেহ সকালে লবন পানি সহ খেলে ভালো ফল পাওয়া যায় । যাদের এসিডিটি আছে তারা সমস্যা হলে আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এভাবে নিয়মিত খেলে ভালো ফলাফল পাবেন।
দ্রুত ফল পেতে চাইলে এর সাথে আরো কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেনঃ
১। রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই ঘন্ঠা আগে শেষ করুন ।
২। খাবার খাওয়ার সময় বেশী পানি পান না করে অন্তত আধা ঘন্ঠা পরে পান করুন ।
৩। প্রত্যেহ অল্প কিছু না কিছু ব্যায়াম করুন।
৪। সম্ভব হলে মাসে ২-৩ দিন রোজা বা উপবাস থাকুন, যা আপনার হার্ট ও স্বাস্থ্য ভালো রাখবে।
সতর্কতা: বিজ্ঞাপনের প্রভাবে এক ফাইলে মেদ কমানোর ওষুধ গ্রহন থেকে বিরত থাকুন । মনে রাখবেন মেদ আপনার একদিনে তৈরি হয়নি , আর একদিনে কমবেনা ।



  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

চুল ঘন করার ২টি দারুণ কার্যকরী উপায়.......






ধুলো ময়লা, আবহাওয়া, রোদ এবং সঠিক যত্নের অভাবে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। যার ফলে নতুন করে চুল গজানোর হার একেবারেই কমে যায়। এবং চুল পড়ার হার অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। এসকল কারণে চুল হয়ে যায় পাতলা এবং একেবারে নিষ্প্রাণ।
কিন্তু ঘন, কালো ও লম্বা চুলের সৌন্দর্য সকলেরই কাম্য। এতোসব যন্ত্রণার পরও সামান্য যত্নে চুলের ঘনত্ব এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি সম্ভব। সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন খানিকটা সময় বের করে নিয়ে দুটো হেয়ার মাস্কের ব্যবহারেই পেতে পারেন ঘন, কালো ও উজ্জ্বল চুল।

সরিষার তেল ও মেহেদী পাতা
সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা চুল পড়া রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুন।
পদ্ধতিঃ
২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে।

ডিম ও অলিভ অয়েল
চুলের ঘনত্ব ব্রদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।
পদ্ধতিঃ
একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল(জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন( চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণ পেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বিয়ের প্রথম রাতের জন্য যেসব বিশেষ প্রস্তুতি নেবেন পুরুষ!



বিয়ের রাতটি জীবনের বিশেষ একটি রাত। নতুন জীবনে পা রাখার পর দুটি মানুষের একসাথে বসবাসের প্রথম মূহূর্তটি হলো বিয়ের রাত। আর এই বিশেষ রাতটিকে ঘিরে অধিকাংশ মানুষ অনেক রকমের স্বপ্ন বোনে। কিন্তু অনেক সময় ছোট্ট কিছু অজ্ঞতার জন্য বিয়ের রাতটির মধুরতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিয়ের রাতের আগেই প্রয়োজন কিছু প্রস্তুতির। জেনে নিন পুরুষদের কিছু প্রস্তুতি সম্পর্কে যেগুলো বিয়ের রাতের জন্য অবশ্যই নেয়া উচিত

মানসিক প্রস্তুতি
বিয়ের জন্য প্রতিটি পুরুষেরই মানসিক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। হুট করে নতুন জীবনে পা দেয়ার সময় অধিকাংশ পুরুষেরই আত্মবিশ্বাস থাকে না। কিন্তু নারীরা আত্মবিশ্বাসী পুরুষদেরকে বেশি ভালোবাসে। তাই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে একটি নতুন জীবনে পা দেয়ার আগে নানান রকম ভয় ভীতি থাকে মনে। সেগুলোও ঝেড়ে ফেলা প্রয়োজন বিয়ের আগেই।

ব্যায়াম
নারীরা সুঠাম দেহের পুরুষদেরকে পছন্দ করে। আর তাই সাড়া জীবন ব্যায়াম করার অভ্যাস না থাকলেও বিয়ের আগে কিছুদিন ব্যায়াম ডায়েটের মাধ্যমে ভুড়ি এবং অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করা উচিত।
স্টাইল, ত্বকের যত্ন পরিচ্ছন্নতা
বিয়ের আগে প্রয়োজন গ্রুমিং এর। চুলটাকে সুন্দর কোনো স্টাইলে ছাটুন। সেই সঙ্গে ত্বকের যত্নের জন্য ভালো কোনো পার্লারে ফেসিয়াল করিয়ে নিন। সেই সঙ্গে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। সুন্দর কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভুলবেন না বিয়ের রাতে

জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
যেহেতু বাংলাদেশের অনেক নারীই জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না এবং সেই ব্যাপারে খুব একটা সহজও না। তাই বিয়ের রাতে আপনার স্ত্রী উপর নির্ভর করবেন না জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কোনটি গ্রহণ করবেন সেটা আপনাকেই ভাবতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আপনাকেই।

সঙ্গীকে মানসিক ভাবে সহায়তা করার মনোভাব
বাংলাদেশের অধিকাংশ নারীই বিয়ের রাতেই শারীরিক মিলনের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে পারেন না। আর তাই তাঁরা স্বামীর কাছ থেকে মনে মনে এই ব্যাপারে একটু সহযোগীতা আশা করেন। বিয়ের রাতেই তাই স্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে জোর করা উচিত না। সেই সঙ্গে তাকে যথেষ্ট পরিমাণে মানসিক সহায়তা করা উচিত। দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা একটু সহজ হওয়ার আগেই শারীরিক মিলনের ব্যাপারে জোর করলে সম্পর্কটা সাড়া জীবনের জন্য তেঁতো হয়ে যেতে পারে।


স্ত্রী জন্য উপহার কিনে রাখা
বিয়ের রাতটি জীবনের বিশেষ একটি রাত। আর তাই এই রাতটিকে আরো বেশি রোমান্টিক স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্ত্রীর জন্য বিশেষ কোনো উপহার কিনে রাখতে পারেন। সেটা হতে পারে হীরের আঙটি অথবা ছোট কোনো ফটোফ্রেমে বন্দী করা নিজেদের প্রিয় কোনো মূহূর্তের ছবি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট/বড় যা খুশি উপহার দিন। নতুন জীবনের শুরুতেই আপনার এই ছোট্ট ভালোবাসা আপনার স্ত্রীকে মুগ্ধ করবে

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS