Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

প্রসাধনীর সঙ্গে যত স্বাস্থ্যহানি!



অনেক লিপস্টিকেই লিড ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আসলে এক ধরনের নিউরোটক্সিন এবং অল্প মাত্রাতেও এটা ক্ষতিকর হতে পারে। ছবিটি প্রতীকী। 




লিপস্টিক, মাশকারা, ফেয়ারনেস ক্রিম থেকে শুরু করে সাবান, শ্যাম্পু মায় টুথপেস্টেও যদি স্বাস্থ্যহানিকর সব রাসায়নিক মেশানো থাকে তাহলে আমরা যাব কোথায়? কসমেটিকস বা প্রসাধনী পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। এমনকি তথাকথিত হারবাল ও অর্গানিক প্রসাধনীও ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এমন প্রসাধনী ব্যবহারে নানা জটিল অসুখ-বিসুখ থেকে শুরু করে মরণব্যাধি ক্যানসারও হতে পারে! এক প্রতিবেদনে প্রসাধনীর সঙ্গে থাকা স্বাস্থ্যহানির নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

প্যারাবেনস: ময়েশ্চারাইজার, স্কিন স্ক্রাব ও ডিওডেরান্ট
প্রসাধনী শিল্পের বেশির ভাগ পণ্যেই স্থায়িত্বের জন্য বা ‘প্রিজারভেটিভ’ হিসেবে প্যারাবেনস নামের একটি স্বাস্থ্যহানিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। নানা ধরনের ময়েশ্চারাইজার, স্কিন স্ক্রাব ও ডিওডেরান্টে প্যারাবেনসের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
এ প্রসঙ্গে মুম্বাইয়ের দ্য স্কিন ক্লিনিকের ডারমাটোলজিস্ট ও কসমো ফিজিশিয়ান মাধুরী আগরওয়াল বলেন, ক্ষতিকর এই রাসায়নিকটি স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া রিপ্রোডাকটিভ টক্সিসিটি, ইমিউনো টক্সিসিটি ও নিউরো টক্সিসিটির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে প্যারাবেনস।
ডিওডেরান্ট ও ময়েশ্চারাইজারসহ নানা প্রসাধনীতে থাকা প্যারাবেনস আমাদের ত্বকের লোমকূপগুলো দিয়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে। সহজেই রক্ত প্রবাহের সঙ্গে মিশে যায় এই প্যারাবেনস। একদিকে লোমকূপ দিয়ে ঘামের সঙ্গে শরীরের দূষিত বর্জ্য বের হওয়া বন্ধ করে স্বাস্থ্য হুমকি তৈরি করে এবং অন্যদিকে রক্তে মিশে গিয়ে নিজেই মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে এই প্যারাবেনস।
 

হাইড্রোকুইনোন: ফেয়ারনেস ক্রিম ও স্কিন ব্লিচিং পণ্য
হাইড্রোকুইনোন একধরনের সুগন্ধি জৈব উপাদান। এটা এক প্রকার ফেনোল বা কার্বলিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী রাসায়নিক। সাধারণভাবে রং ফরসা করার ক্রিম হিসেবে পরিচিত ফেয়ারনেস ক্রিম এবং ত্বকের নানা প্রসাধনীতে এ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
নয়াদিল্লির ইশিরা স্কিন ক্লিনিকের ডারমাটোলজিস্ট অমিত লুথরা বলেন, ‘হাইড্রোকুইনোন মারাত্মক অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহার করলে এটা ত্বকে এক ধরনের নীলচে-ধূসর রঙের প্রলেপ ফেলে দিতে পারে, যা কখনোই চিকিৎসায়েও সারে না।’

শ্যাম্পু এবং বাবল-বাথ প্রোডাক্টস বা গোসলের নানা ধরনের পণ্যে বিপুলভাবে ব্যবহার করা হয় সোডিয়াম লরেথ সালফেট নামের স্বাস্থ্যহানিকর রাসায়নিক। ছবিটি প্রতীকী।


অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাসহ, বুকে ব্যথা এবং মুখ ও জিহ্বা ফুলে ওঠার সমস্যাও তৈরি হতে পারে হাইড্রোকুইনোনসমৃদ্ধ প্রসাধনীর নিয়মিত ব্যবহারের কারণে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই রাসায়নিকের প্রভাবে মেলানিন কমে গিয়ে ত্বকে অতি-বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি এ থেকে ত্বকের ক্যানসারের আশঙ্কাও আছে।
 

সোডিয়াম লরেথ সালফেট: শ্যাম্পু, সাবান, টুথপেস্ট
শ্যাম্পু এবং বাবল-বাথ প্রোডাক্টস বা গোসলের নানা ধরনের পণ্যে বিপুলভাবে ব্যবহার করা হয় এই সোডিয়াম লরেথ সালফেট নামের রাসায়নিকটি। সাবান-শ্যাম্পুতে ফেনা তৈরিকারী পরিষ্কারক উপাদান হিসেবে এটা ব্যবহার করা হয়। মেঝে পরিষ্কারক হিসেবে আমরা যেসব পণ্য ব্যবহার করি, সেগুলোর মতো এমনকি টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশেও থাকে মারাত্মক রাসায়নিক সোডিয়াম লরেথ সালফেট।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাধুরী আগরওয়াল বলেন, ‘মানুষ যা জানে না, তা হলো এটা ত্বকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে।’
 

প্যারা-ফেনিলেনেডিয়ামাইন, মারকারি ও লিড
হেয়ার ডাই, হেয়ার কালার, লিপস্টিক ও মাশকারায় ব্যবহার করা হয় এসব রাসায়নিক। সাধারণ দোকান থেকেই কিনুন কিংবা কোনো অভিজাত সেলুন থেকে, চুলের রং কেনার আগে দেখে নিন মোড়কের গায়ে প্যারা-ফেনিলেনেডিয়ামাইন (পিপিডি) উপাদান ব্যবহারের কথা লেখা আছে কি না, থাকলে সেটা না কেনারই পরামর্শ দেবেন চিকিৎসকেরা। আজকাল এমনকি বাজারের নানা মেহেদিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে এ রাসায়নিক।
মুম্বাই স্কেচ ক্লিনিকের ডারমাটালোজিস্ট স্বাতী শ্রীবাস্তব বলেন, ‘পিপিডির মতো মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়ানিক চুলের রঙে ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন এসব পণ্য ব্যবহারে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, লিপস্টিকের দিকে নজর রাখুন। কেননা অনেক লিপস্টিকেই লেড ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আসলে এক ধরনের নিউরোটক্সিন এবং অল্প মাত্রাতেও এটা ক্ষতিকর হতে পারে। লিপস্টিকে এই উপাদানের ব্যবহার থেকে ভাষা ও আচরণগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া মাশকারাতে থাকা পিজারভেটিভের কারণে কিডনির অসুখ হতে পারে।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মেনিনজাইটিস









জামালপুর শহরের ১০ বছরের রিয়া ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীহঠাৎ তার কানে, গলায় নাকে প্রচণ্ড ব্যথা হল এবং ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে ভালো হয়ে গেলপরের দিন আবারও সেই ব্যথাশরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে নারিয়ার আত্মীয়স্বজন তাকে নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলেনপরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন রিয়ার মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছেদেরি না করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানমেনিনজাইটিসের চিকিৎসা শুরু হল

লক্ষণ : অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মেনিনজাইটিসের রোগী মারা যায়তীব্র মাথা ব্যথার সঙ্গে থাকে স্মৃতি বিভ্রম, বমি-বমি ভাব, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, অস্বস্তি, শরীরে বিশেষ দাগমূর্ছা যাওয়া, ঘুম পাওয়া, শরীরের ভারসাম্য হারানো এবং গলার মাংস শক্তি হয়ে যাওয়াও মেনিনজাইটিসের লক্ষণ

কারণ প্রকারভেদ : অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের কারণ হল বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাশ, প্রোটোজোয়া প্রভৃতিবিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় বা ক্যান্সারের কারণেও মেনিনজাইটিস হতে পারে

ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস : বয়সভেদে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের জন্য দায়ীসদ্যজাত থেকে শুরু করে মাস বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে প্রধানত গ্র-বি স্ট্রেপটেকক্কাই লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনেসিস দ্বারা মেনিনজাইটিস হয়ে থাকে

ভাইরাল মেনিনজাইটিস : ভাইরাসজনিত মেনিনজাইটিস ব্যাকটেরিয়াজনিত মেনিনজাইটিসের চেয়ে কম ক্ষতিকারকভাইরাল মেনিনজাইটিসের জীবাণু এন্টেরোভাইরাসের বাইরেও কিছু ভাইরাস রোগ সৃষ্টি করে যা মশার মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যজনের কাছে ছড়াতে পারে

ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিস : ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জীবাণু ক্রিপটোকক্কাস নিউফরমান্সরোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা হ্রাসের ওষুধ সেবনকারী, এইডস/এইচআইভি আক্রান্ত রোগী বয়স্ক মানুষ ফাংগাল মেনিনজাইটিসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণফাংগাল মেনিনজাইটিসের প্রকোপ আফ্রিকা মহাদেশে বেশি
প্যারাসাইটিক মেনিনজাইটিস : মেরুদণ্ডের হাড় থেকে সংগৃহীত রসে বা সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে ইসোনোফিল পাওয়া যায়

জীবাণুবিহীন মেনিনজাইটিস : জীবাণুর বাইরেও কিছু কারণে মেনিনজাইটিস হতে পারেএর মধ্যে ক্যান্সারের কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন (ব্যথা প্রদাহবিরোধী ওষুধ, ইমিউনোগ্লোবিন, জীবাণুবিরোধী ওষুধ), সারকোডিয়াসিস, কানেকটিভ টিস্যু ডিজঅর্ডার, সিস্টেমিক লুপাস ইরাথে মেটাসাস উল্লেখযোগ্যকোনো কোনো ক্ষেত্রে মাইগ্রেন থেকেও মেনিনজাইটিস হতে পারে যদিও হার অনেক কম

কীভাবে হয় : তিন স্তর বিশিষ্ট মেনিনজেস এবং সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্ক স্পাইনালকর্ডকে আবরণ প্রদান করে প্রতিরক্ষা দেয়ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে রক্ত প্রবাহ বা নাসারন্ধ্রের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া মেনিনজেসের সংস্পর্শে আসে এবং পরে প্রদাহ সৃষ্টি করে ।  নবজাতকের রক্ত গ্র-বি স্ট্রেপটোকক্কিতে আক্রান্ত হলে শতকরা ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে মেনিনজাইটিস হওয়ার আশংকা থাকেরক্ত প্রবাহে ব্যাকটেরিয়া প্রবশ করলে তা সাবএরাকনয়িড স্পেসে চলে যায় এবং এই স্পেসটি হল ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ারের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্পেস
মেনিনজাইটিসে যে মারাত্মক প্রদাহ হয় তার কারণ ব্যাকটেরিয়ার সরাসরি আক্রমণ নয় বরং ব্যাকটেরিয়া কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে অনুপ্রবেশের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেমের প্রতিরোধের চেষ্টা হয় ।  মস্তিষ্কে ব্যাকটেরিয়ার কোষের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সিস্টেম বেশি পরিমাণ সাইটোকাইন হরমোন জাতীয় পদার্থ নিঃসরণ করে- এতে ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ার দুর্ভেদ্য থেকে ভেদ্য হয়ে উঠে এবং রক্তনালি থেকে তরল নির্গত হয়ে মস্তিষ্ক ফুলে ওঠে অবস্থায় শ্বেত রক্ত কণিকা সেরেব্রো স্পাইনাল ফ্লুইডে প্রবেশ করে এবং প্রদাহ আরও তীব্রতর হয়ে ওঠেএকবারে শেষ পর্যায়ে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেন প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হয় এবং তখন রোগী মৃত্যুবরণ করে

কীভাবে ছড়ায় : সংস্পর্শে মেনিনজাইটিস দ্রুত ছড়াবে না, ভাইরাল ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস নাক গলার নিঃসরণের সরাসরি সংস্পর্শে একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ছড়াতে পারেমেনিনজাইটিস রোগের কোনো উপসর্গ ছাড়াই রোগের জীবাণু কেউ বহন করতে পারে এবং তার ব্যবহৃত গ্লাস, থালা-বাসন বা সিগারেট ভাগাভাগির মাধ্যমে অন্যজন সংক্রমিত করতে পারেভাইরাল মেনিনজাইটিস মলের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে

টিকা : হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি-এর টিকা অন্তর্ভুক্ত করেছেকারণ জীবাণু ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি মেনিনজাইটিস সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখেমাম্পস ভ্যাকসিন মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ করেমেনিনগোকক্কাস ভ্যাকসিনগ্রুপ-, সি, ডাব্লিও-১৩৫ এবং ওয়াইমেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তোলে যা সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে। 







  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS