Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

পিরিয়ডকে একটা যন্ত্রণাদায়ক অসুখ বলে মনে হয়







কেরালার এক কারখানার বাথরুমে পাওয়া গেলো এক নারী শ্রমিকের স্যানিটারি প্যাড। ভারতীয় উপমহাদেশে নারীদের জন্যে নাকি এই চিত্রটি একেবারে সাধারণ। এখানকার নারীদের কাছে ঋতুস্রাব একটি অসুখের মতো।
হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি রোগের কারণ এবং রোগীর শুশ্রূষা নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকি সবাই। কিন্তু এখানকার রক্ষণশীল পরিবারে মেয়েদের পিরিয়ডের বিষয়টি বেশ গোপন রোগের মতো বিবেচিত হয় এবং এ বিষয়টি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র তাদেরই।
নারীদের পিরিয়ডের বিষয়টি প্রাকৃতিক ব্যাপার। কাজেই একে রোগ বলার কারণটি কি হতে পারে? এর কারণ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন এক বিশেষজ্ঞ। ঋতু চলাকালীন সময়ে নারীদের বেশ সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। তারা বাসায় থাকতে চান। তার স্বামী-সন্তান থেকে দূরত্ব রেখে চলেন। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেও তারা সাবধানে বসেন এবং বিছানায় শুয়ে থাকেন।
গবেষক নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানান, বিশেষ করে ছোটকালে প্রথম দিকে পিরিয়ডের ঘটনা সব মেয়ের জীবনে আশংকার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর কারণ হলো, একে ভয়ংকর রোগ বলেই মনে হয়। অনেকের নিদারুণ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় পিরিয়ড। প্রচণ্ড ব্যথা করে পেট। ছোটবেলায় দাদু বা নানু, মা-খালারা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আদরের মেয়েকে বোঝান। তার এখন কি করতে হবে, কি কি করা যাবে না এবং সমস্যা হলে তাদের জানাতে হবে ইত্যাদি। বাড়ির ছেলেদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলতে হবে। বাড়ির বাইরে যাওয়ার যেনো অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।
বলে চলেছেন বিশেষজ্ঞ, আমার প্রথম দিকে পিরিয়ডের তৃতীয় দিন মা বললেন চুল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে। গোসল করে রান্নাঘরে আসার অনুমতি দিলেন। আমাকে বোঝালেন, টানা পাঁচ দিন ধরে এই রক্ত আমাকে দেখতে হবে। এ বিষয়ে স্কুল থেকে, বান্ধবী বা শিক্ষিকাদের কাছ থেকে আমি কোনো সাহায্য পাইনি। তবে বান্ধবীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিতো। তা ছাড়া এ সময়ের কথা বুঝতে পারলে ছেলেরা নানা রসিকতা করবে, তাও জানা ছিলো আমাদের। তবে এক খালা তাকে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বোঝান। তিনি জানান যে, তাদের আমলে ঋতুকালীন সময়টি আরো কতো ভয়ঙ্কর ছিলো। তাদের আরো নানা ধরনের বাজে নিয়ম পালন করতে হতো। এ থেকে পরের প্রজন্ম বেশ স্বস্তিকর অবস্থায় আছেন।
আধুনিক যুগেও পিরিয়ড নিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন অহরহ চলছে। বিষয়টি একেবারে সাধারণ হয়ে গেছে। বাড়ির ছোট ছেলেরা পর্যন্ত এটি জানে। কিন্তু তারপরও এত সব নিয়ম-কানুন আর যন্ত্রণা যখন কোনো নারীর ওপর চেপে বসে, তখন একে একটি রোগ বলেই মনে হয়।
শহুরে সমাজে নারীরা পিরিয়ড ঘটিত সমস্যা নিয়ে কিছুটা আরামেই আছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের এ নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই। তাদের জন্যে এটি এখনো বেশ যন্ত্রণাদায়ক এক নিয়মিত রোগ। - See more at: http://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2015/01/08/172883#sthash.ZdtxNP9a.dpuf

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment