রমজান মাস প্রায় শেষ হয়ে এল। অনেকে বলেন, রমজানে আবার ডায়েট কিসের? সারা দিন তো না খেয়েই থাকি। আবার ঈদের দিন এমনও বলেন অনেকে, ‘আজ ঈদ, এক দিনই তো খাব...। এ দিন আবার কিসের ডায়েট?’ আসুন জেনে নিই এই সময়ে ডায়েট কেমন হওয়া উচিত?
যাঁরা আগে থেকেই ডায়েট করতেন, তাঁদের এ সময়ও ডায়েট করা উচিত। রমজান আর ঈদ বলে ডায়েট ছেড়ে দিয়ে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ মোটেও উচিত হবে না। আবার অনেকেই নিজের অজান্তেই বেশি বেশি খাবার গ্রহণ করে থাকেন। সারা দিন ক্ষুধার্ত থেকে সন্ধ্যায় বা সারা দিন না খেয়ে থাকতে হবে ভেবে এত বেশি খেয়ে ফেলেন যে তা শরীরের দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়। অনেকেই ঈদের কয়েক দিনে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করে থাকেন। রোগীদেরও এই সময়ে ডায়েট করা উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীদের এই সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বলেন, এই সময়ে বেশি বেশি তেলে ভাজা খাবার ও চিনি মিশ্রিত শরবত খাওয়া হয়, যা ডায়েটের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই এসব এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ওজন স্থির রাখতে হলে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরির খাবার গ্রহণ করলে, তা ব্যায়াম করে কমিয়ে ফেলতে হবে। তাই ডায়েটের উদ্দেশ্য অনুযায়ী খাবার গ্রহণ ও ব্যায়াম করতে হবে।
ডায়েট কেমন হবে?
রমজান মাসে কম তেলে ভাজা খাবার খেতে হবে। ইফতার ও সেহ্রিতে সহজপাচ্য ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে তরল খেতে হবে। তবে তা অতিরিক্ত চিনি মেশানো শরবত হওয়া যাবে না। সকালের ব্যায়ামের পরিবর্তে ইফতারের পরে ব্যায়াম করা যেতে পারে। তাহলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকবে না।
ঈদের দিনের ডায়েট কেমন হবে?
ঈদের দিনের দিন খাওয়াদাওয়াটা শুধু বেশিই হয় তা না, ঈদের দিন দফায় দফায় খাওয়া হয়। ঈদের দিনের খাওয়া মানেই রিচ ফুড—এর ফলে যা হয় দিনশেষে শরীরটা খারাপ করে। যেহেতু ঈদের দিন বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হয় এবং কিছু না কিছু খেতেই হয়, সে ক্ষেত্রে তেল-জাতীয় খাওয়াদাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। একবারে এড়ানো না গেলে একদম অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত। ডায়াবেটিসের রোগীরা এ দিন সবই অল্প অল্প করে খাবেন, তবে মিষ্টি-জাতীয় খাবার কম বা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো বা ঝাল-জাতীয় খাবার বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।
ঈদ সবার সুন্দর ও সুস্থভাবে হোক।






0 comments:
Post a Comment