
এক রাতে ৭০ বৎসর বয়স্ক এক ভদ্রলোক জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে চিকিৎসককে বললেন, ‘আমি মাঝে মাঝে কয়েক মুহূর্তের জন্য অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি। নিউরোলজিষ্টের পরামর্শে ব্রেন-এর CT Scan করালাম। উনি জানালেন মাথা ঠিক আছে। ডাক্তার ভাই, আমার সমস্যা কোথায়? ইসিজি বিশ্লেষণ করে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার বললেন, ‘আপনার হার্ট ব্লক আছে যা হৃদপিন্ডের বৈদ্যুতিক সার্কিটের সমস্যা, আপনাকে আমরা ভর্তি করে দেখব, পেসমেকার দরকার হতে পারে।
স্বল্প মাত্রার অবিচ্ছেদ্য বিদ্যুৎ প্রবাহ আমাদের হৃদপিন্ডের সংকোচন প্রসারণের নিয়ামক শক্তি, মানব হৃদপিন্ডের ডান এট্রিয়ামের উপরের অংশে অবস্থিত এসএ নোড থেকে এই বিদ্যুৎ স্বাধীনভাবে উৎপাদিত হয়ে এভি নোড, হিজ বান্ডেল ও ডান ও বাম হিজ বান্ডেল দিয়ে সমগ্র হৃদপিন্ডে প্রবাহিত হয়। হৃদপিন্ডের কিছু মাংসপেশী পরিবর্তিত হয়ে এই সঞ্চালন লাইন তৈরী হয়। হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক গভীর (৬০-১০০/মি) নিয়মিত ছন্দের স্পন্দনের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকা আবশ্যক।
প্রতিটি বাড়ীর পানির ও বৈদ্যুতিক লাইনের মতই হৃদপিন্ডের পানির লাইন (রক্ত সরবরাহ) ও বৈদ্যুতিক লাইন (বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা) থাকে। এ দুটি ব্যবস্থা পারস্পরিক সহযোগীতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহ প্রক্রিয়ার বাধা বা সমস্যাকে হার্ট ব্লক বলে। হার্ট ব্লক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রবাহ জনিত অসুবিধা। নিজস্ব রক্তনালীর মাধ্যমে পরিচালিত রক্ত প্রবাহের সমস্যাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলা হয়। হৃদপিন্ডের রক্তনালীর সংকোচনের জন্য এই ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ হয়ে থাকে।
তাই সহজ ভাবে বলা যায়-
১. হৃদপিন্ডের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা-হার্ট ব্লক
২. হৃদপিন্ডের রক্ত সরবরাহের সমস্যা- ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ (ইসকেমিয়া/ইনফার্কসন)
হার্ট ব্লকের কারণ : ১. ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ ২. হৃদপিন্ডের প্রদাহ ৩. বাধর্ক্য ৪. হৃদপিন্ডের অনুপ্রবেশ (সারকোয়ডোসিস, নিওপ্লাজম) ৫. ওষুধ ৬. হৃদপিন্ডে আঘাত ৭. জন্মগত
হার্ট ব্লকের চিহ্ন/অসুবিধা : ১. মাথা হালকা লাগা ২. অল্প সময়ের জন্য অজ্ঞান হওয়া ৩. পালপিটেশন
কি কি পরীক্ষা প্রয়োজন : ১. ইসিজি ২. ইকোকার্ডিওগ্রাফি ৩. হলটার মনিটরিং ৪. ইপিষ্টাডি ৫. রুটিন পরীক্ষা
চিকিৎসা
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ধারাবাহিক চিকিত্সা নিতে হয়।
চিকিৎসার দুটি ধাপ-
১. হার্ট ব্লকের কারণের চিকিৎসা
২. সহায়ক চিকিৎসা-প্রয়োজনমত পেসমেকার স্থাপন।
প্রতিরোধ
চিকিত্সার অর্থনৈতিক ঝুকি মুক্তির উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ, পরিবর্তিত জীবনযাত্রা হার্ট ব্লকের সম্ভাবনা অনেক কমিয়ে আনে। হার্ট ব্লকের প্রতিরোধের জন্য যা করণীয়-
১. প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করবেন।
২. তেল-চর্বি-মিষ্টি কম খাবেন।
৩. সুষম খাবার খাবেন
৪. প্রচুর শাকসব্জী খাবেন
৫. পরিমিত পানি পান করবেন
৬. ধূমপান, মদ্যপান করবেন না
৭. হার্ট ব্লকের কোন কারণ জানা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা করাবেন
৮. উত্তেজনা পরিহার করুন।
৯. শরীরের ওজন আদর্শ মাত্রায় রাখুন
১০. চিকিৎসকের পরমর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাবেন না।
শেষকথা
ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ হার্টের রক্তনালীতে সমস্যা, হার্ট ব্লক হার্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা। ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ-এ হৃদপিন্ডের নিজের সরবারহ লাইন বা রক্তনালীতে আংশিক বা পূর্ণ সংকোচন হয়। IHD এবং হার্ট ব্লক ২টি চিকিৎসা যোগ্য সমস্যা। এসব রোগের রিস্ক ফ্যাক্টর বা কারণ উপস্থিত থাকলে বা রোগের চিহ্ন বা অসুবিধা অনুমিত হলেই দ্রুত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে।






0 comments:
Post a Comment