Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

শিশুদের চাই বর্ণিল ছুটির দিন



.

সপ্তাহের শেষে ছুটির দিন মানেই শিশুদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর আনন্দ—একটা সময় এ রকমই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এখন শিশুদের কাছে ছুটির দিন মানেই যেন বিভীষিকা। সকালে গানের ক্লাস, দুপুরে ছবি আঁকা (ড্রয়িং) শেখা আর বিকেলে হয়তো আবার সাঁতারের কোচিং করতে হয়।

সারা সপ্তাহ স্কুল-কোচিং আর হোমওয়ার্ক বা বাড়িতে পড়াশোনার বাধ্যবাধকতা শেষে ছুটির দিনটাতেও এখনকার শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের বিশ্রাম নেই। তারা মা-বাবার উচ্চাকাঙ্ক্ষার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে নাজেহাল। এর সবটাই কি প্রয়োজনীয়, নাকি কখনো তা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় ?

গান বা ছবি আঁকা শেখা নিশ্চয় খারাপ নয়। কিন্তু তাতে শিশুটির আগ্রহ আছে কি না, তা অবশ্যই বুঝতে হবে। কোনো শিশুর হয়তো আগ্রহ ক্রিকেট খেলার দিকে, অথচ মা-বাবা চাইছেন সে ছবি আঁকাটাই শিখুক। যার যেদিকে আগ্রহ নেই, তাকে সেই বিষয়ে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। এতে শিশুরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে যায়। আর তার পরিণামে পরবর্তী জীবনে দেখা দিতে পারে মানসিক নানা সমস্যা। মা-বাবাদের বুঝতে হবে, কারও পক্ষে একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন আর শচীন টেন্ডুলকার হওয়া অসম্ভব। শিশুর মঙ্গলের জন্যই তার নিজস্ব চাওয়া ও আগ্রহের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

বর্তমানে অনেক মা-বাবাই চাকরিজীবী। তাই ছুটির দিনগুলোতে তাঁরা শিশুদের একটু বেশি করে সঙ্গ দিতে পারেন। কখনো শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যেতে পারেন প্রকৃতির কাছাকাছি, যেমন ধারেকাছের কোনো গ্রামে বা বাগানে। গাছপালা আর পশুপাখির সঙ্গেও সন্তানকে পরিচিত করিয়ে দিতে পারেন এই অবসরে। কখনো তাদের নিয়ে যেতে পারেন আত্মীয়-পরিজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছে। শিশুদের মেলামেশার সুযোগ করে দিন স্বজনদের সঙ্গে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, শৈশবে সামান্য ঘুড়ি ওড়ানো বা বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলার মতো ছোট ছোট সুখস্মৃতিগুলো পরবর্তী জীবনে বিষণ্নতা বা বিষাদগ্রস্ততা থেকে মানুষকে বাঁচিয়ে দিতে সক্ষম। তাই যত বেশি সুখময় স্মৃতি এই সময় জমা করা যায়, মস্তিষ্কের জন্য ততই মঙ্গল।

অনেক বাড়িতেই ছুটির দিন মানে দিনভর ঘুমানো কিংবা শিশুদের কম্পিউটার গেম খেলা বা টিভি দেখার অবাধ স্বাধীনতা। মাঝেমধ্যে তাকে বাইরে খেলার স্বাধীনতাটুকুও দিতে হবে। মুক্ত হাওয়া শিশুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, হাঁপানির ঝুঁকি কমায়। খোলা মাঠে ছুটোছুটি করলে শরীরের রক্ত সরবরাহ বাড়ে, আর সূর্যের আলো হচ্ছে ভিটামিন ডির সবচেয়ে ভালো উৎস, যা শিশুর হাড় গঠনে সাহায্য করে। সপ্তাহে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সূর্যের আলোতে থাকলেই শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডির চাহিদা পূরণ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণাকেন্দ্র সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানায়, গত দুই দশকে শিশুদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে, যার একটি বড় কারণ বাইরে খেলাধুলা না করা। ঘরে বন্দী জীবনযাপন শিশুদের ওজন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে অসময়ে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ইত্যাদির জন্য দায়ী।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শারীরিক কারণে নয়, মেধাবিকাশেও খেলাধুলার ভূমিকা আছে। আসলে ছুটির দিনের এই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস শিশুকে সারা সপ্তাহে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করার প্রেরণা দেয়। সে এই আশায় থাকে যে সপ্তাহজুড়ে ভালোভাবে পড়লে ছুটির দিনে মা-বাবার সঙ্গে মজা করতে পারবে।
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল








  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment