বয়সের তুলনায় ওজন অনেক বেশি হলে আমরা একে বলি অবেসিটি বা স্থূলতা। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থূলতা অনেক ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে।
স্থূলতার কারণ:
বংশানুক্রমিক ধারা: মা, বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকলে শিশুরা মোটা হতে পারে। শৈশবে শিশুদের ওজন বেশি থাকলে পরবর্তী সময়েও তারা মোটা হতে থাকে।
হরমোনজনিত কারণ: শরীরে কোনো কোনো হরমোনের তারতম্য হলে শিশুরা স্থূল হতে পারে।
পরিবেশগত কারণ: এর মধ্যে আছে শিশুর জীবনাচরণ; যেমন: দৈনন্দিন কাজ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক শ্রম। শিশুর জীবনাচরণ ওজন বাড়ার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। শিশুরা এখন মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পায় না। টেলিভিশন, ভিডিও গেম আর কম্পিউটারে সময় কাটায়। অনেক শিশু বিশেষ করে উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুরা আঁশযুক্ত খাবার, যেমন: শাকসবজি, ফলমূল খেতে চায় না। ফাস্টফুড, চকলেট, কোমলপানীয়, ফলের রস বেশি খায়।
স্থূলকায় শিশুদের জটিলতা:
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ডের সমস্যা
ডায়াবেটিস, হাড় ও গিঁটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঘুম ঘুম ভাব, ঘুমের মধ্যে নাকডাকা, ঘুমের ভেতর শ্বাসকষ্ট,
পিত্তথলিতে পাথর বা প্রদাহ, চর্বি জমে লিভারের স্থায়ী সমস্যা, অল্প বয়সে দাড়ি-গোঁফ ওঠা বা মেয়েশিশুদের মাসিক হওয়া, ঘাড় ও ভাঁজে ভাঁজে কালো দাগ, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ
স্থূলতা রোধে মা-বাবার করণীয়:
শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ দিতে হবে। কৌটার দুধ বা কৃত্রিম খাবার খেলে শিশু দ্রুত মোটা হয়ে যায়।
ছয় মাস বয়স থেকে পরিবারের স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে, যার মধ্যে অবশ্যই শাকসবজি, ফলমূল থাকবে। ভাত, আলু, মিষ্টি কম খেতে দিতে হবে, যদি শিশুর ওজন বেড়ে যেতে থাকে। ফাস্টফুড, কোমলপানীয়, চকলেট, আইসক্রিম কম খেতে দিতে হবে। শিশুকে নিজের কাজ করতে উৎসাহিত করতে হবে। বাইরে খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে।
মনে রাখবেন, স্থূলতা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। শিশুর ওজন বেড়ে গেলে তা বাড়তেই থাকে। শিশুর জীবনযাপন পরিবর্তনে মা-বাবার সচেতনতাই স্থূলতাকে প্রতিরোধ করতে যথেষ্ট।
মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল






0 comments:
Post a Comment