Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

ঘ্রাণের অনুভূতি যখন ভোঁতা

.

     
জগতে কত রকমের গন্ধ আর সুবাস। কোনোটি মন ভরিয়ে দেয়। যেমন ফুলের সুবাস। আবার কোনোটা দম বন্ধ করে দেয়। যেমন ঢাকা শহরের ডাস্টবিন বা পুঁতিগন্ধময় বুড়িগঙ্গার তীর। কিন্তু কেউ কেউ আছেন, যাঁরা এসব গন্ধের কোনোটাই টের পান না। হ্যাঁ, এটা একটা রোগ বটে। কেননা দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তির মতো ঘ্রাণশক্তিও মানুষের এক বিশেষ ক্ষমতা বা চেতনা। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জটিল স্নায়বিক ও শারীরবৃত্তীয় ঘটনা।

আমরা কেন গন্ধ পাই?
আমাদের নাক, মুখ ও গলার সামনের দিকে আছে অনুভূতি উদ্দীপক অজস্র কোষ বা সেনসরি সেল। চারপাশের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গন্ধ উৎপাদনকারী পদার্থ এই কোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করে তোলে। তারপর তা সরাসরি স্নায়ুবাহিত হয়ে চলে যায় মস্তিষ্কে। এই কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুটি হলো অলফ্যাকটরি। এটি থাকে নাকের পেছন দিকে। এটির যোগাযোগ সরাসরি মস্তিষ্কের সঙ্গে। ঘ্রাণশক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে স্বাদের অনুভুতিও। বলা হয়, আলাদা আলাদা খাবারের আলাদা স্বাদ ও গন্ধ মিলে সৃষ্টি হয় ফ্লেভার। অলফ্যাকটরি কোষ আর স্নায়ু না থাকলে বোঝাই মুশকিল হতো, কমলার রস খাচ্ছেন নাকি কফি খাচ্ছেন।

ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের নানা রোগ
কারও ঘ্রাণ পাওয়ার অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যেতে পারে। সমস্যাটির নাম হাইপোসমিয়া। কেউ কেউ একেবারেই গন্ধ টের পান না। একে বলে অ্যানোসমিয়া। আবার কেউ ঠিক জিনিসের ঠিক গন্ধ না পেয়ে অন্য কোনো গন্ধ পান, যা অস্বাভাবিক। নানা কারণেই গন্ধের অনুভূতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্বাভাবিক বিষয়টি হলো ভাইরাস সংক্রমণ বা সাধারণ ঠান্ডা ও সর্দি-জ্বর। সাময়িকভাবে সর্দি-জ্বর আপনার স্বাদ ও গন্ধ দুই রকমের অনুভূতিই কমিয়ে দিতে পারে। যেকোনো কারণে মাথায় আঘাত পেলে ঘ্রাণের অনুভূতি স্থায়ীভাবে চলে যেতে পারে। এ ছাড়া নাকের পলিপ, সাইনোসাইটিস, হরমোনজনিত কয়েকটি রোগ, নাক বা মাথায় রেডিওথেরাপির পর গন্ধের অনুভূতি নষ্ট হতে পারে। মস্তিষ্কের আঘাত ছাড়াও মস্তিষ্কের কিছু রোগ—যেমন পারকিনসনস, আলঝেইমারস, মালটিপল স্কে¬রসিস ইত্যাদিতে এবং কিছু মানসিক রোগের প্রভাবে গন্ধের অনুভূতি ভ্রান্ত হয়। এমনকি স্থূলতা ও ডায়াবেটিসও নাকি খানিকটা সমস্যার জন্য দায়ী।

সমস্যা কি গুরুতর?
প্রায় স্থায়ীভাবে একেবারেই গন্ধের অনুভূতি না পাওয়া অবশ্যই একটি গুরুতর সমস্যা। কেননা বাকি ছয় ধরনের অনুভূতির মতো গন্ধ পাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। আর মস্তিষ্ক বা স্নায়ুর জটিল সমস্যা বা নাক ও মাথার সমস্যায়ই এমনটা হতে দেখা যায় বেশি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।






  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment