
শিশুদের রাগ, অভিযোগ আর হতাশা প্রকাশের উপায় হল নানা উপায়ে বাবা-মাকে জালাতন করা। নিউ ইয়র্কের বার্নার্ড কলেজ সেন্টার ফর টডলার ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. টোভা পি ক্লেইন বলেন- শিশুর অশান্তি সৃষ্টির বিপরীতে আপনি বিরক্ত হলে তার আচরণ প্রকট হবে। একে পাত্তা না দিলেও শিশু অপমান বোধ করবে। নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকবে, সুস্থ মানসিকতা বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই শিশুর মানসিকতার সুষ্ঠ বিকাশে দরকার কিছু সঙ্গত আচরণ। যেমন-
বকাঝকা নয়
ক্লেইন বলেন, শিশু বয়সে কান্নাকাটি, হাত-পা ছোড়া, জিনিস আছড়ে ভাঙার ব্যাপারে আবেগের জোয়ার বয়ে থাকে। ঘুমের অভাবে তাদের মধ্যে ক্রোধ জন্মে। এ ক্ষেত্রে কৌশল হলো- তাকে মানুষের ভিড়ে নিয়ে যান, ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। বকাবকি না করে শিশুকে বুকে জড়িয়ে নিন। তার আচরণে মা-বাবা হিসেবে যথেষ্ট মনোযোগী হোন।
শিশুকে সঙ্গ দেয়া
কোনো কিছু না বুঝেই ভালো বা মন্দ, সব কিছুতে ‘না’ বলার প্রবণতা থাকে শিশুদের। এর মাধ্যমে তারা নিজের ইচ্ছার প্রতিষ্ঠা চাই। প্রত্যেক মানুষই কিছু সময় বা কাজ নিজের মতো করে করতে চায়। শিশুরাও ব্যতিক্রম নয়। কাজেই তাকে কিছুক্ষণ নিজের মতো থাকার সুযোগ দিন। কোনো ব্যাপারে অযথা জোরাজুরি না করাই তার জন্য মঙ্গল। তাহলে সে স্বাধীন ভাবে চিন্তা করতে শিখবে।
সব কাজে ‘না’ নয়
পছন্দের খেলনা দেখামাত্র শিশুরা তা চাইতে পারে। এ অবস্থায় নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার হলে তার জিদ আরও বেড়ে যায়। এ ধরনের জিদের প্রকাশ ঘটে ধাক্কা, লাথি বা কামড়ের মাধ্যমে। এসব ক্ষেত্রে সংযত হোন। যেমন- সে যদি তার পুতুলে লাথি দিয়ে রাগ কমাতে চায়, তাহলে মানা করবেন না। দেখবেন একটু পরে এমনিতেই রাগ কমে আসবে।
ধৈর্যের চর্চা
শিশুদের মস্তিষ্কে অপেক্ষার বিষয়টি থাকে না। চাওয়ামাত্রই সব চলে আসবে বলে মনে করে তারা। কিছুটা সময় নিয়ে তার হাতে প্রিয় জিনিসটি তুলে দিন। তবে খুব বেশি দেরি করবেন না। এতে সে তৃপ্ত হবে। কোনো জিনিস চোখের পলকে দেওয়া সম্ভব হলেও, কয়েক মিনিট দেরি করুন। আস্তে আস্তে তার মধ্যে ধৈর্যের চর্চ হবে।
ভদ্র আচরণ
শিশুর আচরণে ‘প্লিজ’ ‘সরি’ বা ‘থ্যাংক ইউ’ শব্দগুলো ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। যে বোধ থেকে এসব বলা হয়, তা ধীরে ধীরে শিশুর অনুভূতির মধ্যে প্রবেশ করান। তার নম্র-ভদ্র আচরণ গড়ে উঠবে আপনার ও পরিবারের অন্যদের আচরণ দেখে। এ জন্য শিশুর সামনে অন্যদের সঙ্গে কখনোই অভদ্র আচরণ করবেন না।






0 comments:
Post a Comment