ডায়বেটিস রোগের সঙ্গে পরিচিত না এমন মানুষ খুব কম। ডায়বেটিসের আবার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস খুব বেশি খারাপ অবস্থায় চলে গেলে তখনই দেখা দেয় টাইপ-৩ ডায়াবেটিস। দুঃখজনক বিষয় হলো- টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের ব্যাপারে জানেন খুব কম মানুষ।
টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ে যতো গবেষণা করা হয়েছে, ততোটা গবেষণা করা হয়নি টাইপ-৩ ডায়াবেটিস নিয়ে। তাই বিষয়টি নিয়ে সচেতনতাও খুব কম।
ভারতের ডায়াবেটিস বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'রিসার্চ সোসাইটি ফর দ্যা স্টাডি অব ডায়াবেটিস ইন ইন্ডিয়া'র (আরএসএসডিআই) সচিব ডা. এসভি মধু জানান, টাইপ-৩ ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ও এর লক্ষণগুলো নিশ্চিত করার জন্য প্রথমেই জানা দরকার টাইপ-৩ ডায়াবেটিস সম্পর্কে বিস্তারিত।
টাইপ-৩ ডায়াবেটিস কী
টাইপ-১ ডায়াবেটিস বংশগতভাবে হয়ে থাকে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে হয়ে থাকে। আর টাইপ-৩ ডায়াবেটিস সম্পর্কিত মস্তিষ্কের সঙ্গে।
চিকিৎসকরা জানান, দেহের কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গোপনে ইনসুলিন হরমোন জমা হয়। যখন শরীরে উৎপাদিত ইনসুলিনের বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে মস্তিষ্ক, তখনই এর ফলে দেহে সৃষ্ট অবস্থাকে টাইপ-৩ ডায়াবেটিস বলা হয়।
টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের কারণ
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের কারণ খুঁজে পায়নি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। এখনো এই বিষয়ে নিশ্চিত নন কেউই, তাই অস্পটতা রয়েই গেছে।
টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
অন্যান্য ডায়াবেটিসের দৃশ্যমান এবং খুব সাধারণ লক্ষণগুলোই টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কিন্তু যখন সেসবের সঙ্গে যোগ হয় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস, তখনই তা টাইপ-৩ ডায়াবেটিস হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।
তাই ডায়াবেটিস রোগীর স্মৃতিশক্তি কমার প্রবণতা শুরু হলেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা
অন্যান্য ডায়াবেটিসের চিকিৎসার সঙ্গে টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ভিন্নতা নেই। অর্থাৎ টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের যেসব চিকিৎসা দেয়া হয়, সেগুলোই প্রযোজ্য টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রেও।
টাইপ-৩ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ হলো দেহের স্থূলতা। এই স্থূলতার সাথে টাইপ-৩ ডায়াবেটিসেরও সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত যাদের মধ্যে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে এবং যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস রয়েছে, তারাই টাইপ-৩ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
দেহে রোগ বাসা বাঁধার আগেই তা সম্পর্কে সচেতন হলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় অনেকটাই। তাই সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন। ডায়াবেটিস, বিশেষ করে টাইপ-২-তে আক্রান্ত হলে অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সচেতন হোন এবং নিয়ম মেনে জীবনযাপন করুন। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।







0 comments:
Post a Comment