চিত্র : ১. মুন্নি ও আজাদের বিয়ে হয়েছে ৪ বছর। বিয়ের পর থেকেই মুন্নিকে সন্দেহের চোখে দেখে আজাদ। কারণ মুন্নি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে তাকে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে উঠতে-বসতে হয়। কিন্তু মুন্নির এ ব্যাপারটা সানন্দে গ্রহণ করতে পারছে না আজাদ। সে প্রায়ই মনে করে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। অথচ তার সন্দেহের কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ অমূলক।
চিত্র : ২. লিসা ও শিরিন একটি কর্পোরেট হাউসে মানব সম্পদ বিভাগে কর্মরত। লিসা কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে। যোগ দেওয়ার পর নিজ যোগ্যতা বলে বান্ধবী শিরিনকেও এ কোম্পানিতে চাকরি পেতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, চাকরির শুরু থেকে শিরিনকে যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা করে আসছিল লিসা। কিন্তু কিছু দিন ধরে লিসাকে সহ্য করতে পারছে না শিরিন। কারণ অফিসের কিছু সহকর্মী লিসার বিরুদ্ধে তার কান ভারি করে দিচ্ছে। শিরিন মনে করছে, তার প্রমোশনের ক্ষেত্রে লিসা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অপরদিকে লিসা এখনো অমূলক সন্দেহ-প্রবণ শিরিনকে পরোক্ষভাবে সব সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
পর্যালোচনা : গল্পের কল্পিত চরিত্র আজাদ ও শিরিন প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে ভুগছে। এটি এক ধরনের মানসিক রোগের উপসর্গ। এ ধরনের মানুষ আশপাশের সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখে। তাদের ধারণা, সবাই তাদের ক্ষতি করতে চায়। তারা বুঝতে পারে না এ ধরনের সন্দেহের কারণে কর্মস্থলে এবং সাংসারিক জীবনে বিড়ম্বনা ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
রোগীর মূল্যায়ন : আগাগোড়াই রোগীকে বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করে দেখতে হবে। প্রথমে দেখতে হবে পার্টনারকে। পার্টনারের ইন্টারভিউর পরই রোগীকে মূল্যায়ন করতে হবে। সঙ্গীই জেলাসি রোগীর অনুপুঙ্খ তথ্য জানাতে পারবে। কৌশলের সঙ্গে মূল্যায়ন করে দেখতে হবে কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করে, কি পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করে বেড়াচ্ছে। হিংসাত্মক বা প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি রোগীর ভেতর ওঁত পেতে আছে কিনা খুঁটিয়ে জেনে নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। কী কী কারণে রোগী উন্মত্ত উত্তেজনায় ফেটে পড়ে কিংবা কেন সে পাল্টাপাল্টি প্রশ্নবাণে সঙ্গীকে বিপর্যস্ত করে তোলে, সবকিছুই তলিয়ে দেখতে হবে।
কিছু চিকিত্সা পদ্ধতি : প্যাথলজিক্যাল জেলাসি রোগীদের চিকিত্সা করা বেশ কঠিন। কারণ রোগী মনেই করে না যে, কোন রোগ ধারণ করছে। ফলে চিকিত্সার যে কোনো উদ্যোগই তার কাছে অনধিকারচর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হতে থাকে। চিকিত্সার ব্যাপারে নিম্নলিখিত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে— যদি উপসর্গের আড়ালে সিজোফ্রেনিয়া বা মুড ডিসঅর্ডার থাকে, সেটিই প্রথমে চিকিত্সা করতে হবে। যদি জেলাসিটি প্রকৃতই দৃঢ়ভাবে অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে তবে এন্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। (মুনরো ’৮৪)। ‘ওভার ভেল্যুড আইডিয়া’ই যদি জেলাসির মূল স্তম্ভ হয়, সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটেনিন বাড়ানোর ওষুধ যেমন ফ্লুওক্সিটিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে (ল্যান ’৯০)। যদি প্যাথলজিক্যাল জেলাসির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার সম্পর্কিত না থাকে তবে ক্রমান্বয়ে অবস্থার অবনতি হয়। তখন এন্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করা যায়।
সাইকোথেরোপি : নিউরোটিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে রোগীকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। যেন রোগী এবং সঙ্গী উভয়েরই টেনশন কমে।







0 comments:
Post a Comment