Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

Happy wife, happy life!



3-2
To all the husbands out there: the key to a quality marital life is to keep your wife happy no matter what.
When it comes to a happy marriage, says an interesting study, the more content the wife is with the long-term union, the happier the husband is with his life no matter how he feels about their nuptials.
"I think it comes down to the fact that when a wife is satisfied with the marriage she tends to do a lot more for her husband, which has a positive effect on his life," explained Deborah Carr, a professor at the school of arts and science, Rutgers University.
"Men tend to be less vocal about their relationships and their level of marital unhappiness might not be translated to their wives," Carr added.
Along with Vicki Freedman, a research professor at the University of Michigan's Institute for Social Research, Carr examined the personal feelings of both spouses to determine how these marital appraisals influence their psychological well-being.
They analysed data of 394 couples who were part of a national study of income, health and disability in 2009 on older adults.
In order to assess marital quality, participants were asked several questions such as whether their spouse appreciates them, argues with them, understands their feelings or gets on their nerves.
Most of the participants rated their general life satisfaction high - with husbands rating their marriage slightly more positive than their wives.
"For both spouses being in a better-rated marriage was linked to greater life satisfaction and happiness," Carr noted.
Researchers also found that while wives became less happy if their spouses became ill, the husbands' happiness level did not change or reflect the same outcome if their wives got sick.
"We know that when a partner is sick it is the wife that often does the care giving which can be a stressful experience. But often when a women gets sick it is not her husband she relies on but her daughter," Carr stated.
"The quality of a marriage is important because it helps couples manage difficult decisions regarding health and medical decision making," researchers concluded.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

৫ মিনিটে মাথাব্যথা দূর করার প্রাকৃতিক পদ্ধতি


14522

মাথা ব্যথার যন্ত্রণা অনেক ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের এই যন্ত্রণা টানা ২-৩ দিন ভোগ করতে হয়। মাথাব্যথা এমন একটি সমস্যা যে এটা নিয়ে কোনো ধরণের কাজ ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না। যারা অতিরিক্ত মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন তারা খুব ভালো করেই জানেন এর ভয়াবহতা।
অনেকেই মাথাব্যথার কারণে ডিসপ্রিন জাতীয় ঔষধ খেয়ে থাকেন যার রয়েছে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এই ধরণের ঔষধ না খেয়ে প্রাকৃতিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন পদ্ধতি ব্যবহার করে মাথাব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন আজকে শিখে নেয়া যাক এমনই ৩ টি প্রাকৃতিক পদ্ধতি, যা মাথাব্যথা সারাবে মাত্র ৫ মিনিটেই।
লেবুর খোসার পেস্ট
লেবুর খোসা মাথাব্যথা সারাতে বেশ কার্যকরী একটি জিনিস। লেবুর খোসার পেস্ট তৈরি করে হাতের কাছে রেখে দিতে পারেন।
– প্রথমে ২/৩ টি লেবুর খোসা কেটে আলাদা করে নিন।
– এবার শুধুমাত্র লেবুর খোসা বেটে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করে নিন।
– মাথাব্যথা শুরু হলে এই পেস্টটি কপালে লাগান বামের মতো করে। এতে তাৎক্ষণিক মাথাব্যাথা উপশম হবে।
গ্রিন টি ও লেবুর পানীয়
গ্রিন টী এর অ্যান্টিইনফ্লেমেশন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান খুব দ্রুত মাথাব্যথার হাত থেকে মুক্তি দেয়।
- ২ কাপ পানি চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে ১ কাপ পরিমাণ করে নিয়ে তা কাপে ঢালুন।
– ১ টি গ্রিন টির টি-ব্যাগ কাপে দিয়ে গ্রিন টি তৈরি করে নিন।
– এবার ১ টি গোটা লেবুর অর্ধেকটা রস চিপে গ্রিন টিতে মেশান
– এই পানীয়টি ছোটো ছোটো চুমুকে পান করুন। ৫ মিনিটে মাথাব্যথা দূর হয়ে যাবে।
দারুচিনি গুঁড়ো ও পুদিনার পেস্ট
দারুচিনি দাঁতের ব্যথার পাশাপাশি মাথাব্যথা সারাতেও বেশ কার্যকরী।
- ২ টেবিল চামচ দারুচিনি গুঁড়ো নিন।
– এতে পুদিনা পাতার রস চিপে দিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিন।
– এই পেস্টটি মাথাব্যথা শুরু হলে কপালে এবং নাকের উঁচু অংশে লাগান। খুব দ্রুত মাথাব্যথা থেকে......

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

এশিয়ান স্কেটিংয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে অংশ নিতে যাওয়া তিন স্কেটার


বাংলাদেশ থেকে অংশ নিতে যাওয়া তিন স্কেটার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চীনের হাইনিং শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬তম এশিয়ান রোলার স্কেটিং চ্যাম্পিয়নশীপ। এই আসরে অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশের তিন সদস্যের স্কেটিং দল আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে। 



বাংলাদেশ দলে টিম কোচ ও দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম মাসুম। খেলোয়াড় হিসেবে যাচ্ছেন মো. নওসীফ হোসেন, স্মিথ সাবিও গোমেজ।

এই প্রতিযোগিতা ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে দেশ ত্যাগ করবেন স্কেটাররা। তাদের শুভকামনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আসিফুল হাসান।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

হতে হবে আশাবাদী



বিল গেটস
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে যুক্ত আছেন।

অভিনন্দন, ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷ মেলিন্ডা ও আমি আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত৷ তোমাদের এই ক্যাম্পাস অনেক দিক থেকেই অসাধারণ৷ তবে আমাদের যদি একটি শব্দে বলতে হয় স্ট্যানফোর্ডের কোন বিষয়কে আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি, তা হবে আশাবাদী মনোভাব৷
১৯৭৫ সালে এই আশা নিয়েই আমি বোস্টনের এক কলেজ ছেড়ে এসে কাজে নেমে পড়েছিলাম৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারবে, পৃথিবীকে আরও অনেক উন্নত করে তুলবে৷ কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে৷ আমরা যা শিখেছি, আজ সেসব তোমাদের বলতে চাই৷ আর জানাতে চাই, কীভাবে আমরা সবাই আরও অনেক মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে পারি৷

যখন পল অ্যালেন আর আমি মাইক্রোসফট শুরু করেছিলাম, তখন আমদের লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো৷ ১৯৯৭ সালে আমি ব্যবসার কাজে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাই৷ একদিন আমি কৌতূহলবশত শহরের একটু দূরে সোয়েটো নামে একটা জায়গায় যাই; এমন জায়গা আমি জীবনে কখনো দেখিনি৷ মাইক্রোসফট সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কম্পিউটার ও সফটয়্যার বিতরণ করেছিল, যেভাবে আমেরিকায় আমরা কাজ করতাম৷ কিন্তু আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বুঝে গেলাম, এটা আমেরিকা নয়৷ এর আগে আমি দারিদ্র্যকে দেখেছিলাম পরিসংখ্যানে, নিজের চোখে নয়৷ সেখানে গিয়ে আমি দেখলাম, কীভাবে মানুষ বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেট ছাড়াই বস্তিতে থাকছে৷ বেশির ভাগের পায়েই কোনো জুতা ছিল না, জুতা পায়ে হাঁটার মতো রাস্তাও ছিল না৷ যে কমিউনিটি সেন্টারে আমরা কম্পিউটার দান করেছিলাম, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ছিল না৷ তাই তারা ২০০ ফুট লম্বা তার দিয়ে ডিজেলচালিত একটি জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে কম্পিউটার চালিয়ে রেখেছিল৷ অবস্থা দেখে আমি ভালোভাবেই বুঝলাম, যে মুহূর্তে আমি আর আমার সঙ্গের লোকজন চলে যাব, তৎক্ষণাৎ এই জেনারেটরও অন্য কোথাও চলে যাবে৷ আর কমিউনিটি সেন্টারের লোকেরাও তাদের জীবনের অন্য হাজার সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত হয়ে পড়বে; সেসব সমস্যা কখনো কম্পিউটার দিয়ে সমাধান করা যায় না৷

গণমাধ্যমের সামনে এসে আমি আগে থেকে তৈরি করে রাখা বক্তৃতা পড়ছিলাম৷ বলছিলাম, ‘সোয়েটো প্রযুক্তির বিভাজনকে ঘুচিয়ে দেওয়ার যাত্রায় একটি মাইলফলকের নাম৷’ কিন্তু মুখে যা-ই বলি, আমি বুঝতে পারছিলাম, এসব কথার কোনো অর্থ নেই৷ 
সোয়েটোতে যাওয়ার আগে আমি ভাবতাম, আমি পৃথিবীর সমস্যা বুঝি, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়েই আমার কোনো ধারণা ছিল না৷ আমার এত অসহায় লেগেছিল যে আমি নিজের বিশ্বাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলাম, আদৌ কি উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব? আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, দ্বিতীয়বার আফ্রিকায় পা দেওয়ার আগে আমাকে বুঝতে হবে দারিদ্র্য আসলে কী৷
অনেক পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি একটি যক্ষা হাসপাতাল দেখতে গিয়েছিলাম৷ সেটি একটি বিশেষ ধরনের যক্ষা রোগীদের জন্য, যাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগেরও কম৷ গোটা হাসপাতাল রোগীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে৷ রোগীদের মধ্যে আমি এক নারীর সঙ্গে কথা বললাম, তার বয়স মাত্র ত্রিশের কোঠায়৷ সে আগে এক যক্ষা হাসপাতালে কাজ করত, একদিন তার নিজেরও যক্ষা ধরা পড়ে, সঙ্গে এইডস৷ সে জানত, তার দিন ফুরিয়ে এসেছে৷ আর তার মৃত্যুর পর যখন সেই বিছানা খালি হয়ে যাবে, সেখানে জায়গা করে নিতেও রোগীদের এক বিশাল লাইন অপেক্ষা করে আছে৷ তারা অপেক্ষা করছে সেই দিনের৷
আমি গাড়িতে উঠে সেখানকার এক ডাক্তারকে বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি জানি এ ধরনের যক্ষা সারিয়ে তোলা মুশকিল৷ কিন্তু কোনো না কোনো উপায় নিশ্চয়ই আছে৷ এসব মানুষের জন্য আমাদের কিছু করতেই হবে৷’
আমি আজ আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি এ বছর আমরা যক্ষার এক নতুন ধরনের ওষুধের পরীক্ষা করতে যাচ্ছি৷ আগে যেখানে ১৮ মাস ধরে প্রায় দুই হাজার ডলার খরচের পরও শতকরা ৫০ জনের বেশি রোগীকে সুস্থ করা যেত না, এখন সেখানে ছয় মাসের চিকিৎসায় ১০০ ডলারের কম খরচেই শতকরা ৮০ থেকে ৯০ জন রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে৷ এখানেই আশাবাদের শক্তি নিহিত৷ কে বলেছে আমরা দারিদ্র্য কিংবা রোগব্যাধিকে মির্মূল করতে পারব না? আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

আমি হতাশাবাদীদের দলে নই৷ কিন্তু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে যদি আমরা বৈষম্য দূরীকরণের কাজে না লাগাই, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা এমন সব উদ্ভাবন নিয়ে বসে থাকব, যা পৃথিবীকে আরও বিভক্ত করে ফেলবে৷ উদ্ভাবন দিয়ে কী হবে, যদি তা স্কুলে শিক্ষার মান না বাড়ায়? যদি ম্যালেরিয়া নির্মূল করা না যায়, দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব না হয়, দরিদ্র কৃষকের অন্নের নিশ্চয়তা না থাকে?

তোমরা স্নাতকেরা অসংখ্য উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে, পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ তোমাদের বয়সে আমি পৃথিবীকে যতটা চিনতাম, আমি বিশ্বাস করি, আজ তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি জানো৷ আমি যা করেছি, তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করতে পারবে, যদি তোমরা এতে তোমাদের মনপ্রাণ ঢেলে দাও৷ আমি সেই প্রত্যাশায় রইলাম৷


সূত্র: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
১৫ জুন, ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বিল গেটসের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশের অনুবাদ: 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্বাস্থ্যসম্মত চুলের যত্ন





চুল সৌন্দর্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুন্দর চেহারা বলতে সুন্দর চুলও বোঝায়। ত্বকের রঙ, মসৃণতা এবং সেই সাথে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল থাকলে তাকে সুন্দরী বলা যায়।

চুলের গঠন
চুলের ফলিকল জন্মের আগে তৈরি হয়। গড়ে মাথায় ৮০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ ফলিকল থাকে। চুলের ফলিকল বংশগতভাবে নির্ণয় হয় এবং জন্মের পর আর বাড়ে না।
প্রতিমাসে চুল গড়ে ১ ইঞ্চির মতো বাড়ে। ১৪ থেকে ৪০ বছর বয়সী মহিলাদের চুল দ্রুত বাড়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে। চুল তিনটি স্তর দিয়ে তৈরি হয়- মেডুলা, কর্টেক্স ও কিউটিকল।
মেডুলা পুরো চুলের শ্যাফটজুড়ে থাকে। আবার খুব ভালো ও সুন্দর চুলে মেডুলা নাও থাকতে পারে। এর কাজ প্রকৃতভাবে জানা যায়নি।
চুলের শ্যাফটের ৭৫ থেকে ৯০ ভাগ তৈরী হয় কর্টেক্স দিয়ে। কর্টেক্সে যেসব কোষ থাকে তারাই চুলের স্থিতিস্থাপকতা, রঙ এবং দৃঢ়তার জন্য দায়ী।
চুলের সবচেয়ে বাইরের স্তর হচ্ছে কিউটিকল। প্রতিরক্ষাকারী একটি স্তর এটি। এর জন্য চুল ঝকঝকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায়।
হেয়ার ফলিকল থেকে চুল জন্মায়। চুল মূলত একধরনের প্রোটিন কেরাটিন দিয়ে তৈরী। রাসায়নিকভাবে চুল অক্সিজেন, আয়রন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, সালফার, কার্বন এবং ফসফরাস দিয়ে তৈরি হয়।
স্ক্যাল্পের কাছে চুলের যে বেস থাকে তাকে প্যাপিলা বলে। প্যাপিলা ‘নব’-এর মতো দেখতে এবং ফলিকলের মাথায় থাকে। প্যাপিলাতেই রক্তনালী থাকে যা দ্বারা চুল তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
চুল বড় হওয়ার একটি সাইকেল বা চক্র রয়েছে। যদি কখনো চুল নাও কাটেন তবুও কতটা বড় হবে তা সাইকেল বা চক্র এবং জেনেটিক বা বংশগতি হিসেবে নির্ধারিত। বড় হওয়ার পর প্রতিটি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে যায় দুই থেকে চার মাসের জন্য। এরপর সেই চুলগুলো ঝরে যায়। একেক জনের চুলবৃদ্ধির চক্র একেক রকম বলেই চুল লম্বা বা ছোট হয়। চুলের গোড়ায় মেলানোসাইট কোষ থাকে যা চুলের রঙ নির্ধারণ করে। মেলানিন চুলের রঙ কালো, বাদামি করে এবং ফেনোমেলানিন চুল হলদেটে, সোনালি ও লালচে রঙ করে থাকে।

বিভিন্ন ধরনের চুলের যত্ন
প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে আপনার চুল কোন প্রকৃতির। সাধারণত তিন ধরনের চুল হয়। তৈলাক্ত, শুষ্ক ও স্বাভাবিক। স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত সেবাশিয়াস গ্রন্থির নিঃসরণের কারণে মাথা ও চুল তৈলাক্ত হলে তাকে তৈলাক্ত চুল বলে।
আর সেবাশিয়াস গ্রন্থি কম থাকলেও নিঃসরণ না হলে চুল শুষ্ক হয়ে থাকে। শুষ্ক চুলে খুশকি বেশি হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্বাভাবিক চুল হচ্ছে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল। এ রকম চুল না শুষ্ক, না তৈলাক্ত। জন্মগতভাবেই আপনার চুল এমন হতে পারে কিংবা যত্নের মাধ্যমে আপনার চুলে স্বাভাবিক ভাব ধরে রাখতে পারেন।

শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্ন
শুষ্ক চুল নানা কারণে হতে পারে-
* বংশগত কারণে।
* খুব বেশি হেয়ার স্টাইল, চুল রঙ করা ইত্যাদির কারণে।
* হেয়ার ড্রায়ার বা রোলার ব্যবহারের কারণে।
* খুব বেশি রোদে গেলে এবং লবণাক্ত বা কোরিন সমৃদ্ধ পানিতে চুল ধুলে।
* যথাযথ শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার না ব্যবহার করার কারণে।

যত্ন কিভাবে করবেন
* ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শ্যাম্পু সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন। যদি প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে চান তবে অবশ্যই হালকা বা মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।
* চুলে সপ্তাহে একবার গভীরভাবে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
* ভেজা চুল হেয়ার ড্রায়ার বা ব্লোয়ার দিয়ে শুকাবেন না। প্রয়োজনে ঠাণ্ডা বাতাসে চুল শুকাবেন।
* সূর্যরশ্মি থেকে চুল রক্ষার জন্য স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকবেন।
* প্রোটিনযুক্ত খাবার নিয়মিত খাবেন।
* মাঝে মাঝে মাথা ম্যাসাজ করবেন এতে করে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং সেবাশিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে উঠবে।
* শুষ্ক চুলের জন্য উপযুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।
 
লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম






কম্পিউটার বা কম্পিউটারের মতো এমন যন্ত্রপাতিতে নিয়মিত ও অনেকক্ষণ ধরে কাজ করলে চোখের বিভিন্ন সমস্যা ও উপসর্গ দেখা দিতে পারে- এই অবস্থাকে বলা হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে- আমেরিকার ১৪৩ মিলিয়ন লোক প্রতিদিন কম্পিউটারে কাজ করে থাকেন এবং তাদের ৮৮ শতাংশ লোকেরই সামান্য থেকে বেশি- বিভিন্ন মাত্রায় চোখের উপসর্গ রয়েছে। সুতরাং কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম সারা বিশ্বে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিগণিত।
কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের উপসর্গগুলো
মাথাব্যথ্যা, চোখে ব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখের কান্তি রোধ করা, ঝাপসা দেখা বা মাঝে মাঝে দু’টি দেখা, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের কারণ।
কম্পিউটারের অক্ষরগুলো ছাপার অক্ষরের মতো নয়। ছাপার অক্ষরগুলোর মধ্যভাগ এবং পার্শের ঘনত্ব একই রকম- এগুলো দেখার জন্য সহজেই  চোখের ফোকাস করা যায়, অন্যদিকে কম্পিউটারের অক্ষরগুলোর মধ্যভাগ ভালো দেখা যায়; কিন্তু পার্শ্বভাগের ঘনত্ব কম হওয়ায় পরিষ্কার ফোকাসে আসে না। কম্পিউটারের অক্ষরগুলোর এই ফোকাসের অসমতার জন্য চোখের নিকটে দেখার যে প্রক্রিয়া বা অ্যাকোমোডেশন ঠিকমতো  কাজ করতে পারে না। এভাবে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
কম্পিউটারের চশমা
সাধারণ লেখাপড়ার সময় ১র্৪র্ -১র্৬র্  দূরে পড়ার জন্য যে পাওয়ারের চশমা লাগে কম্পিউটারে কাজ করার সময় ১র্৮র্ -২র্৮র্  দূরে মনিটর রেখে সে পাওয়ার দিয়ে ভালো দেখা যায় না। চুবিশেষজ্ঞরা  কম্পিউটারে কাজ করার জন্য বিশেষ পাওয়ারের চশমা দিয়ে থাকেন যার নাম কম্পিউটার চশমা বা  Computer Eye Glass। পঁয়ত্রিশ বছরের কমবয়সী ব্যক্তিদের ইউনিফোকাল  (Unifocal) বা শুধু একটি পাওয়ারের চশমা দিলেই চলে কিন্তু পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য কোনো কোনো সময় ওই ইউনিফোকাল চশমা দিয়ে তুলনামূলক নিকটে কপি পড়তে অসুবিধা হতে পারে, তাদের জন্য মাল্টি ফোকাল চশমা দিলে কপি পড়া এবং কম্পিউটার মনিটরে কাজ করার সুবিধা হয়।
কম্পিউটারে ভিশন সিনড্রোম থেকে মুক্তি পাওয়ার ৯টি উপায় 
১) চক্ষু পরীক্ষা: কম্পিউটার ব্যবহারে আগে চক্ষু পরীক্ষা করে, চোখের কোন পাওয়ার থাকলে অবশ্যই চশমা ব্যবহার করতে হবে। চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে তৈরী কম্পিউটার আই গ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
২) সঠিক আলোর ব্যবহার : রুমের ভেতরে বা বাইরে থেকে আসা অতিরিক্ত আলো চোখের ব্যথার কারণ হতে পারে। বাইরে থেকে আলো এসে চোখে না লাগে বা কম্পিউটার স্ক্রিনে না পড়ে সে জন্যে পর্দা, ব্লাইন্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের আলো টিউবলাইট বা ফোরেসেন্ট  বাল্বের আলো হলে এবং স্বাভাবিক অফিসের আলোর চেয়ে কিছুটা কম হলে চোখের জন্য আরামদায়ক। 
৩) গ্লেয়ার কমানো : কম্পিউটার মনিটরের অ্যান্টি গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার করে ও চশমায় অ্যান্টি রিফেকটিভ প্লাস্টিকের কাঁচ ব্যবহার করলে গ্লেয়ার কমানো যায়।
৪) কম্পিউটার মনিটরের ‘ব্রাইটনেস’ বাড়ানো বা কমানো:  ঘরের আলোর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কম্পিউটার মনিটরের আলো কমানো বা বাড়ানো যাতে মনিটরে লেখাগুলো দেখতে আরামদায়ক হয়।
৫) ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন : কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের পলক পড়া কমে যায়। এর ফলে চোখের পানি কমে যায় ও চক্ষু শুষ্কতা বা ড্রাই আই হতে পারে। এ অবস্থায় চোখ শুষ্ক মনে হবে। কাঁটাকাঁটা লাগবে। চোখের অস্বস্তি ও ক্লান্তি আসবে। কম্পিউটারে কাজের সময় ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। এর পরও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চোখের কৃত্রিম পানি  (Artificial Tears)  ব্যবহার করুন। 
৬) চোখের ব্যায়াম : ৩০ মিনিট কম্পিউটারে কাজ করার পর অন্যদিকে দূরে তাকান। সম্ভব হলে ঘরের বাইরে কোথাও দেখুন এবং আবার নিকটে অন্য কিছু দেখুন। এভাবে চোখের বিভিন্ন ফোকাসিং মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। এভাবে কয়েকবার করে আবার কিছুক্ষণ কাজ করুন।
৭) মাঝে মধ্যে কাজের বিরতি দিন: কাজের মাঝে মধ্যে কয়েক মিনিটের জন্য বিরতি দিন। এক ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বিরতি দিয়ে অন্য কোনো দিকে দেখুন বা অন্য কোনো কাজে সময় কাটিয়ে আবার কম্পিউটারের কাজ শুরু করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২ ঘণ্টা একটা কম্পিউটারে কাজ করে ১০-২০ মিনিটের বিরতি দিলেও একই রকম ফল পাওয়া যায়।
৮) কাজের জায়গায় কিছু পরিবর্তন : কম্পিউটারে কাজ করার চেয়ারটি হাইড্রোলিক হলে ভালো হয়, যাতে কাজের সময় চোখের উচ্চতা কম্পিউটার মনিটরের চেয়ে সামান্য  উঁচুতে থাকে। মনিটর চোখের বরারব থাকতে হবে। মনিটর বাকা থাকলে অক্ষরগুলোর পরিবর্তন  (distortion) হতে পারে যা চোখের ব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক সময় টাইপ করার কপিটি এখানে সেখানে রেখে বার বার মনিটর থেকে অনেকখানি দূরে কপি দেখতে হয়। এতেও মাথাব্যথা ও চোখব্যথা হতে পারে। মনিটরের পাশেই পরিমিতি আলো ফেলে কপি স্ট্যান্ডে এই লেখাগুলো রাখা যেতে পারে। তাতে বারবার চোখের একোমোডেশনের পরিবর্তন কম হবে ও কাজ আরামদায়ক হবে।
৯) কাজের ফাঁকে ফাঁকে ব্যায়াম : কম্পিউটারে কাজের সময় শুধু চোখের বা মাথার ব্যথা হয় না- অনেকেরই ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা, কোমরে ব্যথা- এসব উপসর্গ হতে পারে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে যদি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাত-পা ও কাঁধের নাড়াচাড়া করা হয় বা ব্যায়াম করা হয়,  তাহলে ওপরের উপসর্গগুলো থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। 
 
লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, ধানমন্ডি,

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মাছ না গোশত



যদিও কথায় বলে মাছে-ভাতে বাঙালি। তার পরও অভিজাত বাঙালিরা মাছের চেয়ে গোশতকেই মর্যাদার খাবার হিসেবে গণ্য করে থাকে। গোশতের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে অনেকেরই। গোশত মানেই অধিক পুষ্টি, অধিক শক্তি, অধিক আমিষ এমন একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। মাছ খাবেন না গোশত খাবেন? পছন্দের এই প্রশ্নে অনেকেই হয় তো গোশতকেই বেছে নেবেন। কিন্তু খাদ্যশক্তি, আমিষ এবং ক্যালসিয়াম ইত্যাদির কথা চিন্তা করলে গোশতের প্রতি এতটা দুর্বলতা দেখানোর কোনো কারণ নেই। সামান্য আলোচনাতেই বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে উঠবে। মাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায় ইলিশ মাছে। ইলিশের খাদ্যশক্তি (প্রতি ১০০ গ্রামে) ২৭৩ কিলোক্যালরি। এ জন্যই হয়তো ইলিশকে মাছের রাজা বলা হয় থাকে। এ ছাড়া পাঙ্গাস ও সরপুঁটির খাদ্যশক্তি ১৬১ কিলোক্যালরি, কই মাছের ১৬৫ কিলোক্যালরি, বাইন মাছের ১৫৫ কিলোক্যালরি, ভাঙন মাছের ১৫৪ কিলোক্যালরি, বাচা মাছে ১৪৭ কিলোক্যালরি, মহাশোল মাছে ১২৬ কিলোক্যালরি এবং শিং মাছে ১২৪ কিলোক্যালরি, আর  গোশতের মধ্যে হাঁসের গোশতে খাদ্যশক্তি সবচেয়ে বেশি এবং তা হচ্ছে ১৩০ কিলোক্যালরি, আর এই খাদ্যশক্তি মুরগিতে আছে ১৩৯ কিলোক্যালরি, খাসির গোশতে ১১৮ কিলোক্যালরি, গরুর গোশতে ১১৪ কিলোক্যালরি এবং কচ্ছপ ও মহিষের গোশতে ৮৬ কিলোক্যালরি। কাজেই দেখা যাচ্ছে গোশতের চেয়ে অনেক মাছেরই খাদ্যশক্তি বেশি রয়েছে। এবার আসা যাক আমিষ বা প্রোটিন প্রসঙ্গে। গোশতে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ অবশ্য একটু বেশি। মাছের সাসে গোশতের প্রোটিন ব্যবধান কতটুকু এবার সেটাই দেখা যাক।
মুরগির গোশতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন যার পরিমাণ (প্রতি ১০০ গ্রাম) ২৫.৯ গ্রাম, গরুর গোশতে প্রোটিন বা আমিষ ২২.৬ হাঁসের গোশতে ১.৬ গ্রাম, খাসিতে ২১.৪ গ্রাম, মহিষের ১৯.৪ গ্রাম। আর মাছের মধ্যে সর্বাধিক প্রোটিনসমৃদ্ধ মাছ হচ্ছে মহাশোল। এতে আমিষ বা প্রোটিনের পরিমাণ (প্রতি ১০০ গ্রামে) ২৫.২ গ্রাম। অন্যান্য মাছের মধ্যে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিনের পরিমাণ হচ্ছে শিং মাছে ২২.৮ গ্রাম, ইলিশ মাছে ২১.৮ গ্রাম, ফলি মাছে ১৯.৮ গ্রাম, কাতল মাছে ১৯.৫ গ্রাম, বাইন মাছে ১৯.১ গ্রাম, চিতল মাছে ১৮.৬ গ্রাম। দেখা যাচ্ছে গোশত ও মাছের প্রোটিন ব্যবধান খুব বেশি নয়। মাছে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ গোশতের তুলনায় অনেক বেশি। শরীরে হাড় ও দাঁত গঠনে ক্যালসিয়ামের ভূমিকাই মুখ্য। বিভিন্ন মাছের (প্রতি ১০০ গ্রাম) ক্যালসিয়ামের পরিমাণ হচ্ছে বাটা মাছে ৭৯০ মিলিগ্রাম, শিং মাছে ৬৭০ মিলিগ্রাম, ফলি মাছে ৫৯০ মিলিগ্রাম, বাচা মাছে ৫২০ মিলিগ্রাম এবং বেলে মাছে ৩৭০ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে গোশতের ক্যালসিয়াম মাছের তুলনায় কোনো ধর্তব্যের মধ্যেই আসে না। যেমন মুরগির গোশতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ২৫ মিলিগ্রাম, গরুতে ১০ মিলিগ্রাম, খাসিতে ১২ মিলিগ্রাম। সুতরাং অযথা গোশতের প্রতি ঝোঁক দেখানোর কোনো যুক্তি নেই। কারণ মাছের পুষ্টিমান গোশতের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়। বাড়ন্ত বয়সের শিশুর জন্য গোশতের চেয়ে মাছই বেশি প্রয়োজন। এ ছাড়া লাল গোশতে রয়েছে ক্ষতিকর চর্বি (এলডিএল) যা হৃদরোগের একটি কারণ। তবে গোশতের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ পুষ্টিসম্পন্ন গোশত হচ্ছে মুরগির গোশত। আরেকটি তুলনায় দেখা যাচ্ছে, শিংমাছ খাদ্যশক্তি, আমিষ ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণের দিক থেকে গরু ও মহিষের গোশতের চেয়ে উচ্চমানসম্পন্ন ও নিরাপদ। সবদিক বিবেচনা করলে বলতে হয়, গোশতের চেয়ে মাছই ভালো। বিশেষ করে গরু, খাসি ও ভেড়ার গোশতের চর্বিতে রয়েছে হৃদরোগের আগমনবার্তা, যা কোনো মাছে নেই।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মেয়েদের তলপেটে ব্যথা



জরায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্ববাহী নালীসহ আশপাশের অন্যান্য অঙ্গ যদি বিভিন্ন প্রকার বায়বীয় ও অবায়বীয় জীবাণু যেমন নাইসেরিয়া, গনোকক্কাস, স্ট্রেকটোকক্কাস, ব্যাকটেরয়েড, বিশেষ করে কামাইডিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে তবে তাকে পেলভিক ইনফামেটরি ডিজিজ সংক্ষেপে পিআইডি বলা হয়। এ রোগটি এমন যন্ত্রণাদায়ক, জীবন ধ্বংসকারী নয়, তবে রোগী অনেক দিন ভুগে থাকেন।

উপসর্গ 
- তলপেটে ব্যথা
- কোমরে ব্যথা
- অনিয়মিত, অতিরিক্ত মাসিক
- অতিরিক্ত সাদা স্রাব
- বন্ধ্যত্ব
- স্বামী সহবাসে কষ্ট
- জ্বর বা জ্বরভাব
- পুঁজ মিশ্রিত স্রাব
- মানসিকভাবে অস্থির থাকা।

কারণ
- বারবার ও ঘনঘন এমআর ও গর্ভপাত করালে।
- অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গর্ভপাত, প্রসব করালে।
- যৌনরোগ থাকলে, (৬০ শতাংশ-৭০ শতাংশ)
- একের অধিক যৌন সঙ্গী থাকলে।
- জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী কপারটি ব্যবহারের কারণে।
- জরায়ু বা ডিম্বনালীর যক্ষার কারণে।
- অল্প বয়সে বিয়ে এবং মাসিকের সময় সহবাস করলে।

একিউট বা তাৎক্ষণিক
হঠাৎ করে তলপেটে ও কোমরে খুব ব্যথা অনুভূত হয়। সাধারণত মাসিকের সময় বেশি হয়। গর্ভপাত বা তলপেটের কোনো অপারেশনের পর এটা হতে পারে। ব্যথার সাথে জ্বর থাকতে পারে।
ক্রনিক বা পুরনো
অনেক দিন ধরে তলপেটে অল্প অল্প ব্যথা, কোমরে ঝিনঝিন অনভূতি, অনিয়মিত, অতিরিক্ত মাসিক, মাথা ব্যথা, জ্বরভাব, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, খাবারে অনীহা, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ইত্যাদি হতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
যোনিপথের রস পরীক্ষা করে জীবাণু নির্ণয় ও আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গের প্রদাহজনিত পুঁজ বা প্রদাহ নির্ণয় করা সম্ভব।

পিআইডির সামঞ্জস্য অন্যান্য রোগ
- এপেন্ডিসাইটিস।
- জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ।
- ওভারিয়ান সিস্ট যদি ফেটে যায়।
- পেঁচানো ওভারিয়ান সিস্ট।
- জরায়ুর টিউমার।
- অন্ত্রের প্রদাহ।
- মূত্রথলিতে সংক্রমণ।
- কিডনিতে প্রদাহ।
- সংক্রমিত গর্ভপাত।

চিকিৎসা
যোনিপথের রস পরীক্ষা করে জীবাণু নির্ণয় করে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা দিতে হবে। ভেতরে কোনো পুঁজ থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। যদি গনোরিয়ার জীবাণু পাওয়া যায় তবে গনোরিয়ার চিকিৎসা দিতে হবে। 
বর্তমানে যা দেয়া হয়
- ট্যাব সিপ্রোফক্সাসিন-৫০০ মি.গ্রা- এর ২টা একত্রে ১ দিন। অথবা, ট্যাব স্পারফক্সাসিন ৪০০ মি.গ্রাম একত্রে ১ দিন।
কোনো জীবাণু না পাওয়া গেলে
ইনজেকশন কেফোক্সিটিন-২ গ্রাম মাংসপেশিতে এবং ১ গ্রাম প্রবোনসিড মুখে ১ বার খেতে দিতে হবে। বা ইনজেকশন সেফট্রিয়েক্সন ২৫০ মি. গ্রাম মাংসপেশিতে ১ বার এবং ক্যাপসুল ইরাথ্রোমাইসিন ৫০০ মি. গ্রাম মুখে ৬ ঘণ্টা পর পর ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত দিতে হবে।
এগুলোর পাশাপাশি ব্যথার জন্য অ্যান্টিইনফামেটরি ট্যাব ডাইকোফেনাক, সোডিয়াম ট্যাব মেফেনামিক এসিড একটি করে দিনে দুই-তিন বার ভরা পেটে দেয়া হয়।
ডিম্বনালী বা ডিম্বাশয়ে পুঁজ জমা হলে তা অস্ত্রোপচার বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে বের করতে হবে। রোগটি বেশি পুরনো হলে, মাসিকের অনিয়ম হলে জরায়ু অপসারণ করা হয়।
জটিলতা
১. বন্ধ্যত্ব
২. মাসিকে পর্যাপ্ত ব্যথা।
৩. সহবাসে ব্যথা।
৪. জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ।


লেখক : সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার, সানোলেজিস্ট, এসএসএস হাসপাতাল, সাচালিয়া, টাঙ্গাইল। 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অ্যাসপিরিন : সুবিধা-অসুবিধা



অ্যাসপিরিন (এসিটাইল সেলিসাইলিক এসিড) বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বরনাশক, ব্যথানাশক, প্রদাহনিরোধী ওষুধ। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই বছরে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টন অ্যাসপিরিন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কারণ হিসেবে এটি সহজলভ্য, সস্তা অথচ বহুমুখী কার্যকরী ওষুধ হিসেবে প্রমাণিত।

উৎস 
প্রাকৃতিক : ১. উইলো গাছের ছাল
২. অর্জুন গাছের ছাল (কয়েক প্রজাতি)
সিনথেটিক উৎস (ল্যাবরেটরি)
অ্যাসপিরিন বস্তুত সেলিসাইলিক এসিডের একটি উপজাত কম্পাউন্ড। সেলিসাইলিক এসিড উত্তেজক ওষুধ বিধায় এটা সরাসরি মুখে খাওয়া যায় না, একে ল্যাবরেটরি সিনথেসিসের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাত প্রস্তুত করে শরীরের অভ্যন্তরে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। ১৮৫৩ সালে অ্যাসপিরিন আবিষ্কৃত হয় এবং ১৮৯৯ সালের পর থেকে এটা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আগেই ধারণা দেয়া হয়েছে যে, অ্যাসপিরিন (এসিটাইল সেলিসাইলিক এসিড) একটি প্রাক-ওষুধ, শোষণের পর সেলিসাইলিক এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা ওষুধের  active form অর্থাৎ এই সেলিসাইলিক এসিডই ওষুধের কার্যাবলি সম্পন্ন করে। পৃথিবীতে হাতেগোনা কয়েকটি ওষুধের মধ্যে অ্যাসপিরিনই প্রধানতম ওষুধ যার রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা।
১. ব্যথানাশক হিসেবে (হালকা থেকে মাঝারি)
* মাথাব্যথা * মাংসপেশির ব্যথা * হাড় ও হাড়সন্ধির ব্যথা * দাঁতের ব্যথা
২. প্রদাহনিরোধী হিসেবে- * রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (বাত), * রিউম্যাটিক ফিভার (বাতজ্বর), * এনকাইলোজিং স্পনডাইলোসিস, * অস্টিওআর্থ্রাইটিস, * একিউট অ্যান্ড ক্রোনিক গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস
৩. জ্বরনাশক হিসেবে- (ডেঙ্গুসহ যেসব রোগে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে সেসব রোগ ছাড়া) * বাতজ্বরসহ অন্যান্য জ্বরনাশক হিসেবে
৪. রক্ত জমাটরোধক হিসেবে- * ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হৃদরোগ) * আর্টারিয়াল থ্রোমবোএমবোলিজম * পালমোনারি এমবোলিজম * এথেরোস্কেরোটিক ডিজিজ * পোস্ট-অপারেটিভ ডিপ ভেন থ্রোমবোসিস
৫. লোকাল ব্যবহার- * অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে, * ছত্রাকনাশক হিসেবে, * চর্মরোগ- কেরাটোলাইটিক এজেন্ট হিসেবে
৬. অন্যান্য উপকারিতা- ক. মেয়েদের মাসিকের ব্যথায় অ্যাসপিরিন খুবই কার্যকর ও ফলপ্রসূ ওষুধ হিসেবে প্রমাণিত।
খ. অন্ত্রে সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়। যেমন- কলেরা, ইনফেকটিভ ডায়রিয়া ইত্যাদি।
গ. চোখের রোগ ক্যাটারেক্ট রোধে ভূমিকা পালন করে। ঘ. পুরুষের বীর্য সিনথেসিসে কার্যকর বলে ধারণা করা হয়। ঙ. জটিল চর্মরোগ-সিসটেমিক লুপাস ইরাইথেমেটোসাসে ব্যবহৃত হয়। চ. বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে গর্ভকালীন খিঁচুনিতে ব্যবহৃত হয়। ছ. রোগ নির্ণয়- জরায়ুর মুখে ক্যান্সার নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

প্রয়োগপথ ও প্রক্রিয়া 
সাধারণত মুখে খাওয়ার ওষুধ হিসেবে ও চর্মে স্থানিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পাকস্থলীতে (stomach) প্রদাহ করে বিধায় ওষুধটি অবশ্যই ভরাপেটে বা আহারের মাঝে সেবন জরুরি।
কয়েকটি রোগে ওষুধের মাত্রা : ১। সাধারণ মাত্রা : ৩০০ মিগ্রা করে প্রতিদিন তিনবার ২। বাতজ্বর : ৫০ মিগ্রা/ কে জি দৈহিক ওজন/ প্রতিদিন
৩. হৃদযন্ত্র ও ধমনী রোগে মাত্রা : ক. একিউট মারোকার্ডিয়াল ইনফার্কশন ষ প্রাথমিকভাবে-৩০০ মিগ্রা প্রতিদিন
* ধারাবাহিকভাবে ১০০ মিগ্রাম--১৫০ মিগ্রা প্রতিদিন
খ. বাতজ্বর- মাত্রা : ৭৫ মিগ্রা থেকে ১০০ মিগ্রা/কে জি দৈহিক ওজন/প্রতিদিন
কয়েকটি ওষুধের সাথে অ্যাসপিরিেিনর আন্তঃক্রিয়া 
১. অ্যাসপিরিনের সাথে যদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া হয় তবে অ্যাসপিরিন দ্রুত শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, যার ফলে অ্যাসপিরিনের কার্যকারিতা কমে যায়।
২. অ্যাসপিরিনের সাথে যদি মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয় তবে অ্যাসপিরিনের কার্যকারিতা কমে যায়।
৩. অ্যাসপিরিন গ্রহণের সাথে এন্টাসিড গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ এন্টাসিড অ্যাসপিরিন শোষণে বাধা দেয়, এমনকি অ্যাসপিরিনের ব্যথানাশক গুণ কমিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে এন্টাসিডের বদলে রেনিটিডিন, ফেমোটিডিন, ওমিপ্রাজল ইত্যাদি অ্যান্টিআলসার ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।
৪. অ্যাসপিরিনের সাথে পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে পেনিসিলেনের কার্যকাল বৃদ্ধি পায়, সে ক্ষেত্রে পেলিসিলিনের বিষক্রিয়া হতে পারে।

সতর্কতা 
অ্যাসপিরিন অত্যন্ত জনপ্রিয় ওষুধ বিধায় এর ব্যবহার অনেক বেশি। সে জন্য অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে কিছু সতর্কতার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। ডেঙ্গুসহ যেসব রোগে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে সেসব রোগে অ্যাসপিরিন ব্যবহার নিষেধ। অ্যাসপিরিন পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরণ বাড়ায় বিধায় হাইপারএসিডিটিম ও পেপটিক আলসার রোগীদের এ ওষুধ ব্যবহার নিষেধ। এ ছাড়া লিভার ও কিডনি রোগ, হাঁপানি, গেঁটে বাত, গর্ভাবস্থায় (বিশেষ শেষ তিন মাস) এ ওষুধ ব্যবহার নিষেধ।

লেখক : সিনিয়র লেকচারার, ফার্মাকোলজি বিভাগ, মওলানা ভাসানী মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধে ভিটামিন সি

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষজ্ঞ দল গবেষণা করে দেখেছেন যে, যাদের রক্তে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি থাকে তাদের পিত্তথলির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। বিজ্ঞানীরা আরো প্রমাণ করেছেন, প্রতি লিটার রক্তে যদি এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি-এর পরিমাণ পাঁচ মিলিগ্রাম বাড়ানো যায় তাহলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অন্তত ১৩ শতাংশ কমানো যাবে। সে জন্য আমাদের নিত্যদিনের খাবারে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার যেমন- লেবু, কমলালেবু, আমলকী, টমেটো, পেয়ারা, আনারস, কাঁচালঙ্কা এবং টাটকা শাকসবজি ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি খাওয়ার পাশাপাশি সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবারো এড়িয়ে চলা উচিত।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

জরুরি গর্ভনিরোধে ২ বড়ি


অসুরক্ষিত যৌন সহবাসের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দু’টি বড়ি খেলেই গর্ভনিরোধ করা যায়। কোনো কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তিন দিন বা তার বেশি না খেলে এবং তারপরে যৌন সহবাস করলে, কনডম ফেটে গেলে বা ঠিকমতো ব্যবহার না হলে এই বড়ি দু’টি খেতে হয়। প্রথম বড়িটি খেতে হবে সহবাসের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এবং দ্বিতীয় বড়িটি প্রথম বড়ি খাওয়ার ১২ ঘণ্টা পরে। বড়ি দু’টি খাওয়ার ফলে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্ব বের হতে পারে না বা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে নষ্ট করে ফেলে অথবা জরায়ুর ভেতরের স্তরে এমন পরিবর্তন করে যাতে জাইগোট সেখানে থাকতে পারে না। এভাবে জরুরি গর্ভনিরোধক বড়ি গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে। এর ফলে সাধারণত গর্ভপাতের কোনো প্রয়োজন হয় না। আর যদি কোনো মহিলা গর্ভধারণ করেই ফেলেন তখন আর এই বড়ি দু’টি খেলে কাজ করে না। তবে মাসে চারটির বেশি এই ট্যাবলেট খাওয়া যাবে না।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

গুড় খাওয়া ভালো, তবে..



কুয়াশা ঢাকা শীতের সকালে মোড়ের দোকানে বা রাস্তার পাশেই বানানো হচ্ছে ভাপা পিঠা। চুলার ওপর থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে গরম ভাপ বের হচ্ছে পিঠা থেকে। এমন পিঠা খাওয়ার লোভ কার না লাগে। চালের গুঁড়ার মাঝখানে গুড়ের পুর দিয়ে বানানো ভাপা পিঠার মজাই আলাদা। গুড় দিয়ে দুধ-ভাত, সে-ও মজা! শুধু গুড় খাওয়াও কম মজার নয়। আখের গুড়, খেজুরের গুড়, তালের গুড়_ একটার চেয়ে আরেকটা বেশি স্বাদের! 
গুড় গাঢ় রঙের শর্করা জাতীয় খাবার। এতে আছে সুক্রোজ, গ্গ্নুকোজ এবং ফ্রুকটোজ। এগুলো ছাড়াও গুড় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও লৌহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এক টেবিল চামচ বা ১৫ গ্রাম গুড়ে আছে প্রায় ৫.৮ গ্রাম সুক্রোজ, ২.৩৮ গ্রাম গ্গ্নুকোজ আর ২.৫৬ গ্রাম ফ্রুকটোজ। সেই সঙ্গে আছে প্রায় ৪১ মিলিগ্রাম ক্যালমিয়াম, ৪৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম ও ২৯৩ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। দেখা যাচ্ছে, গুড়ে আছে প্রচুর পটাশিয়াম। এ ছাড়া আছে কিছু ভিটামিন বি-৬। গুড়ে কোনো আমিষ নেই। চর্বি নেই, কোলেস্টেরল নেই। খাদ্য আঁশও নেই।
গুড় থেকে আমরা মূলত শক্তি পাই। প্রতি গ্রাম গুড় দেয় প্রায় চার ক্যালরি শক্তি। চিনি থেকেও আমরা এরূপ শক্তিই পাই। তবে চিনিতে ওই একটু শক্তি ছাড়া আর কোনো পুষ্টি উপাদান নেই। গুড়ের স্বাদ ও সুগন্ধ অতুলনীয়। শুধু স্বাদ ও সৌরভের কারণে নয়, গুড়ে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও লৌহের কারণে চিনির চেয়ে গুড় ভালো। শরীরের জন্য উপকারী। চিনিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম বা লৌহ নেই।
পেশি, হাড়-হাড্ডি ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। মহিলাদের রজঃনিবৃত্তির পর পেশির খিঁচুনি প্রশমনে ক্যালসিয়াম উপকারী। উপকারী এ সময়ে হাড়ের ক্ষয়রোগ অস্টিওপোরোসিসেরও। রজঃনিবৃত্তিকালে মন-মেজাজ ভালো রাখতে, হাত-পা-মাথার গরম কমাতেও ক্যালসিয়াম প্রয়োজনীয়। গুড়ে যে পটাশিয়াম আছে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে উপকারী। গুড়ের লৌহ রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক।
প্রতিদিন এক টেবিল চামচ গুড় খাওয়া স্বাস্থ্যকর। ওপরের উপকারগুলো পাওয়া যাবে। তবে বাজার থেকে কিনে এমনিই গুড় খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। গুড়ে লেগে থাকতে পারে হাজারো জীবাণু আর ময়লা। কারণ মিষ্টি খাওয়ার লোভে বাজারে গুড়ের ওপর বসে প্রচুর মাছি। মাছি গুড়ের মিষ্টি খায়, গুড়ের ওপর বমি করে এবং মলত্যাগ করে। ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কৃমি ইত্যাদি নানা রোগের বাহক হচ্ছে মাছি। এভাবে মাছির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের জীবাণু গুড়ের ওপর লেগে যায়। তা ছাড়া খোলা গুড়ে ধুলাবালিও পড়ে বেশ। তাই গুড় 'কাঁচা' না খেয়ে তা ফিরনি, পায়েস, পিঠা, সেমাই, ইত্যাদিতে দিয়ে রান্না করে খাওয়াই ভালো, স্বাস্থ্যসম্মত। কাঁচা খেতে চাইলে গুড়ের টুকরার বাইরের দিকটা ভালো করে নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তাতে মোটামুটি বেশ জীবাণু কমে যাবে। অসুখ হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
অেধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ্, 
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ বেজড কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

গর্ভবতীর বিপদ চিহ্ন



রায়না (২৬) বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা। ৬ মাসের গর্ভবতী। অফিসের কাজে অনেক চাপ। মেটারনিটি লিভ নিলেন। নতুন অতিথিকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আনন্দের সীমা নেই। রায়নাকে কাজ করতে দেখলেই রাগ করেন শাশুড়ি। স্বামীও বেশ খোঁজখবর নেন। নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ছোট ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ছেদ পড়ল নিয়মিত চেকআপে। বাড়ির ছোট ছেলের বিয়ে নিয়ে মশগুল হয়ে পড়ল পুরো পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই রায়না অনুভব করলেন তার গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কম হচ্ছে। দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। অনিয়মিত চেকআপের জন্য রাগ করলেন চিকিৎসক। আর কয়েকদিন দেরি হলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হতো না বলে জানান তিনি। আল্লাহর রহমতে এ যাত্রায় রক্ষা পেলেন রায়না। চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র মেনে চলায় নির্দিষ্ট সময়ে প্রসব করেন একটি সুস্থ-সবল শিশু। সবাই চান একটি সুস্থ শিশু। কিন্তু গর্ভকালীন সমস্যা হলে একটি সুস্থ শিশু অধরাই থেকে যায়। গর্ভাবস্থায় সমস্যা হচ্ছে কি-না তা বোঝার জন্য বেশকিছু লক্ষণ বা চিহ্ন আছে। এ লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। 
মাসিকের রাস্তায় রক্তপাত : গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময় মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত পড়া কিন্তু সমূহ বিপদের লক্ষণ। বিভিন্ন কারণে রক্তপাত হতে পারে। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে অ্যাবরশন বা গর্ভপাত, একটোপিক প্রেগনেন্সি বা ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপিত না হয়ে অন্যত্র স্থাপিত হলে ও মোলার প্রেগনেন্সির কারণে রক্তপাত হতে পারে। শেষ তিন মাসে রক্ত গেলে হতে পারে অ্যাবরাপশিও প্লাসেন্টা। এ ক্ষেত্রে অমরা আগেই আলাদা হতে শুরু করে। অমরা বা প্লাসেন্টা ভ্রূণের জন্য অপরিহার্য। এটির মাধ্যমেই ভ্রূণ মায়ের শরীর থেকে পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন পায় এবং নিজের বর্জ্য মায়ের দেহে অবমুক্ত করে। অমরা আলাদা হয়ে গেলে গর্ভস্থ শিশুর বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই রক্তপাত যখনই হোক না কেন, দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন । 
বমি বমি ভাব ও বমি : বারবার বমি ও বমি বমি ভাব হলে গর্ভবতীরা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন না। এতে করে তারা সহজেই পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভোগেন। ফলে গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুর বৃদ্ধি কমতে পারে ও জন্মগত সমস্যা হতে পারে, নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে। তবে গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস গর্ভবতীদের একটু একটু বমি বমি ভাব হতেই পারে। যেটিকে মর্নিং সিকনেস বলে। তিন মাস পর এ সমস্যা আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। কিন্তু তিন মাসের পরও সমস্যা ভালো না হলে বা অতিরিক্ত বমি বমি ভাব কিংবা বমি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তিনি আপনার অবস্থা বুঝে ওষুধ দেবেন। 
গর্ভস্থ শিশুর কম নড়াচড়া : গর্ভের শিশু যদি আগের তুলনায় নড়াচড়া কম করে বা নড়াচড়া একবারেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে শিশুর বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়েছে। ঠিকমতো অক্সিজেন বা খাবার না পেলে কিংবা শিশু ডিসট্রেস বা চাপের মধ্যে থাকলে এমনটি হতে পারে। খাবার ও পুষ্টি সরবরাহকারী প্লাসেন্টা ঠিকমতো পুষ্টি সরবরাহ না করলে এ সমস্যা হয়। আপনার শিশুর নড়াচড়া কম হচ্ছে কি-না বোঝার জন্য খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ূন। পেটে হাত রেখে বোঝার চেষ্টা করুন ভ্রূণ কতবার নড়াচড়া করছে। যদি ২ ঘণ্টায় শিশুর নড়াচড়া ১০ বারের কম হয় তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 
সময়ের আগেই প্রসব ব্যথা : অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রসব ব্যথা শুরু হয়ে শিশু ভূমিষ্ঠ হতে পারে। ৩৭ সপ্তাহ পুরো হলে প্রসবের সময় হয়েছে বলে ধরা হয়। ৩৪ সপ্তাহের আগে প্রসব হলে ফুসফুস গঠিত হয় না বলে শিশুকে বাঁচানো কষ্টকর হয়ে যায়। এ জন্য প্রসব ব্যথা সময়ের আগে হলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে অনেক মায়ের ক্ষেত্রে প্রসব ব্যথার মতোই এক ধরনের ব্যথা হতে পারে, যেটিকে ফলস লেবার পেইন বা মিথ্যা প্রসব ব্যথা বলে। প্রথমবার মা হচ্ছেন এমন মায়েদের এটি বেশি দেখা যায়। প্রসব ব্যথা থেকে এটি আলাদা করা যায় সহজেই। এ ব্যথা শুরু হয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে না, এটি এক ঘণ্টার মধ্যে কমে যাবে বা একই থাকবে। জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারণ দুই অবস্থায় এ ব্যথা থাকে। এ ব্যথা অতটা তীব্র নয়। 
পানিভাঙা : সাধারণত প্রসবের আগমুহূর্তে পানি ভেঙে গিয়ে জরায়ুর সংকোচন করে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু প্রসব ব্যথা শুরুর আগেই পানি ভাঙলে জটিল সমস্যা দেখা দেয়। শিশু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হতে পারে। এ সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এ ছাড়া প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পেটব্যথা, চোখে দেখতে অসুবিধা, প্রচণ্ড জ্বর ও পায়ে পানি জমা, খিঁচুনি হলে গর্ভবতীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান।
ডো. রেজাউল করিম কাজল
সহকারী অধ্যাপক, গাইনী ও প্রসূতি বিভাগ, বিএসএমএমইউ, শাহবাগ

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

শিশুদের বাত রোগে ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ে



জুভেনাইল ইডিওপেথিক আর্থ্রাইটিস শিশুদের বাত জাতীয় রোগ। আমেরিকায় প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কিন্তু কম নয়। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এ রোগে আক্রান্তদের ক্যান্সারে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষকরা বলেছেন, এ সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি। এ গবেষণাটি সম্পন্ন হয় ইউনির্ভাসিটি অব অ্যালাবামা ও বিরমিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ পরিচালনায়। এতে নেতৃত্ব দেন বিরমিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়েট্রিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক টিমোথি বাকেলম্যান। ২০০০-০৫ সাল পর্যন্ত এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৮ হাজার জুভেনাইল ইডিওপেথিক আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়। এদের আর্থ্রাইটিসের আধুনিক ওষুধ টিএনএফ ইনহেবিটর এনাব্রেল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কয়েক বছর পর ফলোআপে দেখা যায়, এই শিশুদের ক্যান্সারে আক্রান্তের হার অন্যদের চেয়ে বেশি। এ গবেষণাটি প্রকাশের পর আলোচনা হচ্ছে এনাব্রেল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় কি-না। তবে গবেষকরা নিশ্চিত করে তা বলতে পারেননি। এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তারা জানান।
অোজাদুল কবির আজাদ, রিসার্চ
অফিসার, আইসিডিডিআরবি, ঢাকা

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ক্যান্সার রোগীদের জরুরি অবস্থা ও প্রতিকার



সুপিরিয়র ভেনাক্যাভাল সিনড্রোম : ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, কাশি, শরীরের ওপরের অংশের শিরা ফুলে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে সুপিরিয়র ভেনাক্যাভাল সিনড্রোম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ অবস্থার জন্য বুকের ভেতরের ক্যান্সার ৮৭-৯৭ শতাংশ দায়ী; যেমন_ ফুসফুস ক্যান্সার, লিম্ফোমা ও বুকে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার।
চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি, প্রস্রাব বৃদ্ধিকারী ওষুধ, স্টেরয়েড, স্টেন্টিং, এনজিওপ্লস্টি ইত্যাদি।
শিরায় থ্রম্বসিস ও এম্বোলিজম :গভীর শিরার থ্রম্বসিস ও ফুসফুসে এম্বোলিজম প্রায়ই ক্যান্সার রোগীদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়। বিভিন্ন রকম ক্যান্সারে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের রক্ত অধিক জমাট বাঁধে, যাদের কেমোথেরাপি চলে বা সেন্ট্রাল ক্যাথেটার লাগানো কিংবা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী তাদের বেশি হয়। থ্রম্বসিস ও এম্বোলিজম প্রতিরোধে নিউমেটিক কমপ্রেশন ও ইরাস্টিক মোজা ব্যবহার করা যায়। ওষুধের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে হেপারিন, ওয়ারফারিন ইত্যাদি।
স্পাইনাল কর্ডে চাপ : রোগীর মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ডে কোনো টিউমার চাপ দিতে থাকলে ব্যথা থেকে শুরু করে প্যারালাইসিস এমনকি প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। বেশিরভাগ সময়ে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। এছাড়া কেমোথেরাপি ও সার্জারিরও দরকার হতে পারে।
রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া :১০-২০ শতাংশ ক্যান্সার রোগীর এ সমস্যা হতে পারে। মায়েলোমা, ফুসফুস ও কিডনির ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সারে হাইপারক্যালসেমিয়া নামক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করে। এতে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। রোগীর পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, বমি, অরুচি, অবসাদ ও কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ১২ মি.গ্রাম/ডিএলের বেশি হলে শিরায় স্যালাইন, ডাইইউরেটিক, বিসফসফোনেট ইত্যাদির দরকার হতে পারে।
রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া :রক্তের বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন_ লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ইত্যাদির কারণে ইউরিক এসিড বেড়ে যায়। ফলে রোগীর অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হতে পারে। মারাত্মক অবস্থায় কিডনি ফেইলুর হতে পারে। এ ধরনের জটিলতা এড়াতে কেমোথেরাপির আগে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অ্যালোপুরিনল ভালো কাজ করে। অনেক সময় ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়।
টিউমার লাইসিস সিনড্রোম : দ্রুত বর্ধমান লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমা কিংবা কেমোথেরাপি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা টিউমার লাইসিস সিনড্রোম নামে পরিচিত। ফলে শরীরে ইউরিক এসিড, পটাশিয়াম ও ফসফেট বেড়ে যায় এবং ক্যালসিয়াম কমে যায়। অনেক সময় কিডনি বিকল হয়ে যায়। প্রতিরোধে কেমোথেরাপি শুরুর আগে বেশকিছু ব্যবস্থা নিতে হয়; যেমন_ পর্যাপ্ত স্যালাইন, অ্যালোপুরিনল ইত্যাদি। 
শ্বাস গ্রহণে বাধা :মুখ ও গলার ক্যান্সার (যেমন_ ল্যারিংস, ফ্যারিংস, জিহ্বা ইত্যাদি) বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মৃত্যুও হতে পারে। রোগীর জীবন বাঁচাতে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাকিওস্টমি করা হয় অর্থাৎ গলায় ছিদ্র করে কৃত্রিম শ্বাসনালি লাগানো হয়।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অ্যালোভেরা নিয়ে যত বিভ্রান্তি





অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী এ সময়ের জনপ্রিয় হার্বাল উদ্ভিদ। অনেকে আজকাল বাগানে অথবা টবেই এর চাষ শুরু করেছেন। সর্বহারি মহৌষধ হিসেবে এ ঔষধি উদ্ভিদটিকে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ফেলে দিয়ে শুধু অ্যালোভেরার জেল বা শরবত খেয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টাও করছেন। 
অ্যালোভেরার অলৌকিক আর আশ্চর্য কর্মক্ষমতার মুখরোচক গল্প বা কাহিনী লোকমুখে সুবিদিত। ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবেও এর ব্যবহার বেশ প্রাচীন। প্রায় ৬ হাজার বছর আগে মিসরীয়রা অমরত্বের ওষুধ হিসেবে একে ব্যবহার করে আসছে। কোনো কল্পকাহিনী নয়, এবার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখা যাক অ্যালোভেরার প্রকৃত গুণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিনের মতে, অ্যালোভেরার আশ্চর্য গুণ মূলত ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চুলকানি, খুজলি এবং সোরিয়াসিসেও অ্যালোভেরার জেল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে ক্ষত, পোড়া ত্বকে এর ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছে এফডিএ। অ্যালোভেরার সবুজ কাণ্ড বা অঙ্গ থেকে যে রস বা শুকনো (লেটেক্স) বস্তু তৈরি হয়, তা অনেকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অ্যালোর লেটেক্স মলবর্ধক (লেক্সেটিভ) বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এলেও ২০০২ সালে এফডিএ (আমেরিকান ড্রাগ অ্যান্ড ফুড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) যথার্থ ও যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অ্যালোর লেটেক্স ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উপরন্তু অধিক হারে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে অ্যালোর লেটেক্স সেবনে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা এবং ওজনহানি দেখা দিতে পারে। অ্যালোভেরায় পর্যাপ্ত অ্যানথ্রাকুইনোনম থাকায় তা আন্ত্রিক সংকোচন, গর্ভাশয়ের সংকোচনে ভূমিকা রাখে। এ জন্য গর্ভবতী ও ডায়রিয়া রোগীদের অ্যালোভেরা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। পুরুষ ও স্ত্রী ইঁদুরের ওপর গবেষণায় অ্যালোভেরার ক্যান্সার সৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনার কথা জানা গেলেও মানুষের শরীরে এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার কথা এখনও জানা যায়নি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনি ও অর্শ রোগী, চিকিৎসা শুরুর দু'সপ্তাহের মধ্যে; আলসারেটিভ কোলাইটিসের রোগীদের এ ধরনের ওষুধ সেবন করতে বারণ করে থাকেন চিকিৎসকরা। অ্যালোভেরায় প্রচুর এমাইনো এসিড ও ভিটামিনের অস্তিত্ব থাকলেও শক্তিবর্ধকের তালিকায় এর নাম নেই। 
কিছু লোকের অ্যালোভেরা জেলে এলার্জি থাকলেও আজকাল সানস্ক্রিন, শ্যাম্পু ও স্কিন লোশনে অহরহ অ্যালোভেরা ব্যবহৃত হয় ত্বকের প্রশান্তি ও মোলায়েম ভাব বৃদ্ধির প্রত্যাশায়। এ ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ প্রয়োজনে অভিজ্ঞ হার্বাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে সেবন করাই শ্রেয়। 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

নিজের স্ত্রী সম্পর্কে যে কথাগুলো বলা থেকে বিরত থাকবেন !



মিতি ও রাসেলের বিয়ে হয়েছে পরিবারের সম্মতিতে। বিয়ের এক মাস পরেই মিতি আবিস্কার করলো রাসেল ভীষণ খুঁতখুঁতে। কেবল বাসাতেই নয়, বরং কোন আত্মীয় বা কলিগের বাসাতে গেলেও মিতির নানা দোষ নিয়ে আলোচনা করে ও সবার সামনেই। মিতির রান্না ভালো না, মিতি শুধু শপিং করে টাকা ওড়ায়, সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে ইত্যাদি, এমনকি একদিন এক নারী কলিগের সামন এতো বলেই বসলো, “ইশ! আমার বউটা যদি আপনার মত সুন্দর হতো!”
মিতির ভীষণ কষ্ট হয়। কিন্তু কাউকে বলতেও পারে না ও! ওর শুধু মনে হয়, রাসেল তো তার স্বামী, সবার সামনে এভাবে ওর দোষ নিয়ে আলোচনা না করে, ও কি পারতো না শুধু মিতিকে একা একটু বুঝিয়ে বলতে!আর এতে তো রাসেলকে নিয়েও আত্মীয়রা হাসাহাসি করে। সেটাও ভালো লাগে না মিতির। সম্পর্কটা এভাবেই দিন দিন খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পাঠক, রাসেল-মিতির ঘটনা একটা উদাহরণ মাত্র! কিন্তু এমনটা ঘটে প্রায়শই। তাই একটু খেয়াল রাখুন, নিজের স্ত্রী সম্পর্কে সবার সামনে কিছু বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকুনঃ
১। আপনার রান্নার সাথে তো ওর রান্নার তুলনাই হয় নাঃ
কোথাও গেলেন, হতে পারে আত্মীয় বা কলিগের বাসায়। সেই ভদ্রমহিলা হয়তো অনেক ভালো রান্না করেন আর তা আপনার ভালোও লেগেছে। কিন্তু তাই বলে তার প্রশংসা করার জন্যে নিজের স্ত্রীর রান্নার সাথে তুলনা দিতে যাবেন না। আপনার স্ত্রীকে খাটো করে হয়তো আপনি অন্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন, কিন্তু আপনার জন্যে সব সময় ভালোবেসে খাবার তৈরী করার মানুষটি কি এতে কষ্ট পান না? যার প্রশংসা করছেন, তার প্রশংসাই করুন। অযথা নিজের স্ত্রীর সাথে তুলনা দিয়ে কেবল তাকে আপনি কষ্টই দেন না, বরং নিজেও নিজের অজান্তেই সামনের মানুষটির সামনে অনেকখানিই ছোট হয়ে যান!
২। ও ভীষণ ঝগড়াটেঃ
মান অভিমান হোক বা মনোমালিন্য, দাম্পত্যে সবারই এমনটা থাকে। একটু আধটু ঝগড়া ঝাঁটি বরং সম্পর্ককে মজবুত করতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এটি আপনার ও আপনার স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা সবার সামনে বলে স্ত্রীর ওপর দায় চাপাতে চান অনেকেই। যা আপনার সুন্দর মানসিকতার পরিচয় দেয় না।
৩। ইশ! আমার স্ত্রী যদি আপনার মতন হতোঃ
অন্য কোন নারীর সামনে এ কথাটা বলছেন আপনি। এর ফলে প্রথমত আপনার স্ত্রী যে কী ভীষণ কষ্ট পান, তা কি আপনই জানেন? আর যাকে বলছেন, তিনিও আপনাকে একজন হীনমন্যতায় ভোগা অসুখী ব্যক্তি ভেবে করুণা ছাড়া আর কিছুই করবেন না।
৪। ও আগে পারতো এখন আর পারে নাঃ
আপনার স্ত্রী হয়তো আগে গান গাইতেন, লেখালিখি বা নাচ করতেন। বিয়ের পর সাংসারিক ঝামেলায় হয়তো তার চর্চা নেই। কিন্তু তাই বলে সবার সামনে তার প্রতিভাকে ব্যর্থতায় ঢেকে দেবেন না। কেননা তিনি যা প্রতিভার অধিকারী তার চর্চা করলে আবারো পারবেন। তাই তার প্রতিভার সম্মান দিন।
৫। আমার স্ত্রী তো আপনার স্ত্রীর মত সুন্দরী নাঃ
এটির মত নোংরা কথা জগতে দ্বিতীয়টি নেই। আপনার স্ত্রীর সামনেই যদি অন্য কোন নারীকে এ কথা বলার অভ্যাস থাকে। তবে এটি তো আপনার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ই আর সবার সামনে আপনাকে কিছুটা চারিত্রিক ত্রুটিসম্পন্ন হিসেবেও প্রমাণ করে।
৬। আমার বাসার বাইরে বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতেই ভালো লাগেঃ
এর মানে আপনি যাই দাঁড় করাতে চান না কেন, সবার সামনে এর একটাই মানে দাঁড়ায়, আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে দাম্পত্যজীবনে সুখী নন। এ কথাটি আপনার মনেই রাখুন।
৭। ওকে সব পোষাক মানায় নাঃ
আপনার স্ত্রী হয়তো অতিরিক্ত মোটা বা শুকনো। তাই বলে সবার সামনে তার ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা কি উচিত বলুন? আপনার স্ত্রীকে কোন বিশেষ পোষাক না মানালে তাকে সেটি ঘরেই বলুন। ব্যক্তিগত কথা সবার সামনে প্রচারের কোন মহিমা নেই।
৮। ওর চেয়ে ভালো মেয়েকে বিয়ে করতে পারতাম আমিঃ
“পারতেন তো করেন নি কেন?” শুধু আপনার স্ত্রীই নয়। এমন কথায় হাসবে অনেকেই। এতে আপনার নিজের অসম্মান ছাড়া আপনার স্ত্রীর কোন অসম্মান নেই। এসব কথা বলে যতটা না আপনার স্ত্রীকে কষ্ট দিচ্ছেন আত্র চেয়ে সবার সামন এহাসির পাত্রেই পরিণত হচ্ছেন আপনি।
৯। ও তো অনেক খরচ করে, মিথ্যা বলেঃ
দয়া করে বাইরের মানুষকে নালিশ করা বন্ধ করুন। আপনার স্ত্রীকে ওরা পরিবর্তণ করতে পারবে না। পারলে আপনিই পারবেন। তাই খরচ কমাতে বাজেট করুন। মিথ্যা কমাতে আপনার উপর আস্থা তৈরীর চেষ্টা করুন।
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক একান্তই ব্যক্তিগত। তাই নিজ স্ত্রীর সম্পর্কে সবার সামনে এমন কোন কথা বলবেন না, যা তাকে হেয় করে। তিনি হেয় হলে কিন্তু আপনারও ইমেজ কমে বৈ বাড়ে না। ভালো থাকুন।


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS