আমরা আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর মাঝে শত্রু খুঁজে বেড়াই। কে ভালো, কে খারাপ সেটা নিয়ে আলোচনা করে সর্বদাই নিজেকেদেরকে ব্যস্ত রাখি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার সবচাইতে বড় শত্রুটি কে? আপনি স্বয়ং! হ্যাঁ, আপনি নিজেই আপনার সবচাইতে বড় শত্রু। মানুষ নিজেকে কিছু নেতিবাচক ভাবনায় জড়িয়ে যায় এবং নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলে। ফলে নিজের অজান্তেই নিজের অনেক বড় বড় ক্ষতি করে ফেলে মানুষ। জেনে নিন কিছু কারণ যেগুলোর ফলে আপনি নিজেই হয়ে উঠছেন নিজের সবচাইতে বড় শত্রু।
সব কিছুতে নিজেকে দোষারোপ করেন
সব কিছুতেই নিজেকে দোষারোপ করাটা আপনার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো ভুল কিংবা অঘটনের জন্য নিজেকে দোষারোপ করতেই আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
‘পারফেকশন’ এর পেছনে ছোটেন
পুরোপুরি ‘পারফেক্ট’ থাকতে চান আপনি। আর তাই সারাক্ষণই ছোটেন পারফেকশনের পেছনে। নিজেকে ‘পারফেক্ট’ ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টার মধ্যে দোষের কিছু নেই। কিন্তু এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নিজেকে নিজে অনেক বেশি অশান্তিতে রাখবেন আপনি।
নিজের কী নেই কেবল সেটাই খুঁজে বেড়ান
অধিকাংশ মানুষের স্বভাব হলো কি নেই সেটা খুঁজে বেড়ানো। এটা নেই, ওটা নেই বলে সারাক্ষণই হতাশায় থাকার প্রবণতা আছে অধিকাংশ মানুষের মাঝে। একটিবারও তারা ভাবেন না, কি আছে তাদের!
নিজের সাথে অন্যদের তুলনা করেন
অমুক এতো ফর্সা, তমুক এতো বড়োলোক ইত্যাদি চিন্তা করে নিজের সাথে তুলনা করেন অধিকাংশ মানুষ। নিজের সাথে ক্রমাগত অন্যের তুলনা করে নিজেকে নিজে ছোট করে দেখার অভ্যাস গড়ে ওঠে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে। ফলে মানসিক অশান্তি ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে।
নিজেকে ছাড়া সবাইকে সাহায্য করেন
আপনি নিজেকে ছাড়া সবাইকেই সাহায্য করেন। অন্যের প্রয়োজনের কথা ভাবতে গিয়ে একটা সময়ে নিজের প্রয়োজনের কথা একেবারেই ভুলে যান আপনি। ফলে নিজস্বতা হারিয়ে যায় আপনার।
ভুল মানুষদেরকে বেশি সময় দেন
যে মানুষগুলো আসলেই আপনাকে ভালোবাসে কোন উদ্দেশ্য ছাড়া, তাদের সাথে খুব কম সময় কাটান আপনি। ভাবেন তারা তো আছেই! আর তাই মিথ্যে ভালোবাসার মানুষগুলোর পেছনে অনেক বেশি সময় দিয়ে ফেলেন আপনি।
নিজেকে একেবারেই শক্তিহীন মনে করেন
আপনি ভাবেন আপনার কোনো শক্তিই নেই। কিছুই পারবেন না আপনি কিংবা ‘গুড ফর নাথিং’ মনে করেন নিজেকে। আর তাই নিজের অজান্তেই হারিয়ে ফেলেন নিজের আত্মবিশ্বাস।
অন্যের মতের উপর নির্ভরশীল
আপনাকে কেমন দেখাচ্ছে, আপনি কোথায় বেড়াতে যাবেন, কী করা উচিত, কী খাওয়া উচিত, কেমন চাকরি করা উচিত ইত্যাদি সব কিছুরর জন্যই নিজের মতামতের চাইতে অন্যের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে ধীরে ধীরে নিজের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে যায় আপনার।






0 comments:
Post a Comment