অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী এ সময়ের জনপ্রিয় হার্বাল উদ্ভিদ। অনেকে আজকাল বাগানে অথবা টবেই এর চাষ শুরু করেছেন। সর্বহারি মহৌষধ হিসেবে এ ঔষধি উদ্ভিদটিকে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ফেলে দিয়ে শুধু অ্যালোভেরার জেল বা শরবত খেয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টাও করছেন।
অ্যালোভেরার অলৌকিক আর আশ্চর্য কর্মক্ষমতার মুখরোচক গল্প বা কাহিনী লোকমুখে সুবিদিত। ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবেও এর ব্যবহার বেশ প্রাচীন। প্রায় ৬ হাজার বছর আগে মিসরীয়রা অমরত্বের ওষুধ হিসেবে একে ব্যবহার করে আসছে। কোনো কল্পকাহিনী নয়, এবার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখা যাক অ্যালোভেরার প্রকৃত গুণ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিনের মতে, অ্যালোভেরার আশ্চর্য গুণ মূলত ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চুলকানি, খুজলি এবং সোরিয়াসিসেও অ্যালোভেরার জেল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে ক্ষত, পোড়া ত্বকে এর ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছে এফডিএ। অ্যালোভেরার সবুজ কাণ্ড বা অঙ্গ থেকে যে রস বা শুকনো (লেটেক্স) বস্তু তৈরি হয়, তা অনেকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অ্যালোর লেটেক্স মলবর্ধক (লেক্সেটিভ) বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এলেও ২০০২ সালে এফডিএ (আমেরিকান ড্রাগ অ্যান্ড ফুড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) যথার্থ ও যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অ্যালোর লেটেক্স ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উপরন্তু অধিক হারে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে অ্যালোর লেটেক্স সেবনে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা এবং ওজনহানি দেখা দিতে পারে। অ্যালোভেরায় পর্যাপ্ত অ্যানথ্রাকুইনোনম থাকায় তা আন্ত্রিক সংকোচন, গর্ভাশয়ের সংকোচনে ভূমিকা রাখে। এ জন্য গর্ভবতী ও ডায়রিয়া রোগীদের অ্যালোভেরা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। পুরুষ ও স্ত্রী ইঁদুরের ওপর গবেষণায় অ্যালোভেরার ক্যান্সার সৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনার কথা জানা গেলেও মানুষের শরীরে এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার কথা এখনও জানা যায়নি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, কিডনি ও অর্শ রোগী, চিকিৎসা শুরুর দু'সপ্তাহের মধ্যে; আলসারেটিভ কোলাইটিসের রোগীদের এ ধরনের ওষুধ সেবন করতে বারণ করে থাকেন চিকিৎসকরা। অ্যালোভেরায় প্রচুর এমাইনো এসিড ও ভিটামিনের অস্তিত্ব থাকলেও শক্তিবর্ধকের তালিকায় এর নাম নেই।
কিছু লোকের অ্যালোভেরা জেলে এলার্জি থাকলেও আজকাল সানস্ক্রিন, শ্যাম্পু ও স্কিন লোশনে অহরহ অ্যালোভেরা ব্যবহৃত হয় ত্বকের প্রশান্তি ও মোলায়েম ভাব বৃদ্ধির প্রত্যাশায়। এ ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ প্রয়োজনে অভিজ্ঞ হার্বাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে সেবন করাই শ্রেয়।






0 comments:
Post a Comment