Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

ক্যান্সার রোগীদের জরুরি অবস্থা ও প্রতিকার



সুপিরিয়র ভেনাক্যাভাল সিনড্রোম : ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, কাশি, শরীরের ওপরের অংশের শিরা ফুলে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে সুপিরিয়র ভেনাক্যাভাল সিনড্রোম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ অবস্থার জন্য বুকের ভেতরের ক্যান্সার ৮৭-৯৭ শতাংশ দায়ী; যেমন_ ফুসফুস ক্যান্সার, লিম্ফোমা ও বুকে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার।
চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি, প্রস্রাব বৃদ্ধিকারী ওষুধ, স্টেরয়েড, স্টেন্টিং, এনজিওপ্লস্টি ইত্যাদি।
শিরায় থ্রম্বসিস ও এম্বোলিজম :গভীর শিরার থ্রম্বসিস ও ফুসফুসে এম্বোলিজম প্রায়ই ক্যান্সার রোগীদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়। বিভিন্ন রকম ক্যান্সারে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের রক্ত অধিক জমাট বাঁধে, যাদের কেমোথেরাপি চলে বা সেন্ট্রাল ক্যাথেটার লাগানো কিংবা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী তাদের বেশি হয়। থ্রম্বসিস ও এম্বোলিজম প্রতিরোধে নিউমেটিক কমপ্রেশন ও ইরাস্টিক মোজা ব্যবহার করা যায়। ওষুধের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে হেপারিন, ওয়ারফারিন ইত্যাদি।
স্পাইনাল কর্ডে চাপ : রোগীর মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ডে কোনো টিউমার চাপ দিতে থাকলে ব্যথা থেকে শুরু করে প্যারালাইসিস এমনকি প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। বেশিরভাগ সময়ে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। এছাড়া কেমোথেরাপি ও সার্জারিরও দরকার হতে পারে।
রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া :১০-২০ শতাংশ ক্যান্সার রোগীর এ সমস্যা হতে পারে। মায়েলোমা, ফুসফুস ও কিডনির ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সারে হাইপারক্যালসেমিয়া নামক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করে। এতে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। রোগীর পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, বমি, অরুচি, অবসাদ ও কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ১২ মি.গ্রাম/ডিএলের বেশি হলে শিরায় স্যালাইন, ডাইইউরেটিক, বিসফসফোনেট ইত্যাদির দরকার হতে পারে।
রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া :রক্তের বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন_ লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ইত্যাদির কারণে ইউরিক এসিড বেড়ে যায়। ফলে রোগীর অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হতে পারে। মারাত্মক অবস্থায় কিডনি ফেইলুর হতে পারে। এ ধরনের জটিলতা এড়াতে কেমোথেরাপির আগে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অ্যালোপুরিনল ভালো কাজ করে। অনেক সময় ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়।
টিউমার লাইসিস সিনড্রোম : দ্রুত বর্ধমান লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমা কিংবা কেমোথেরাপি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা টিউমার লাইসিস সিনড্রোম নামে পরিচিত। ফলে শরীরে ইউরিক এসিড, পটাশিয়াম ও ফসফেট বেড়ে যায় এবং ক্যালসিয়াম কমে যায়। অনেক সময় কিডনি বিকল হয়ে যায়। প্রতিরোধে কেমোথেরাপি শুরুর আগে বেশকিছু ব্যবস্থা নিতে হয়; যেমন_ পর্যাপ্ত স্যালাইন, অ্যালোপুরিনল ইত্যাদি। 
শ্বাস গ্রহণে বাধা :মুখ ও গলার ক্যান্সার (যেমন_ ল্যারিংস, ফ্যারিংস, জিহ্বা ইত্যাদি) বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মৃত্যুও হতে পারে। রোগীর জীবন বাঁচাতে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাকিওস্টমি করা হয় অর্থাৎ গলায় ছিদ্র করে কৃত্রিম শ্বাসনালি লাগানো হয়।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment