Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

মেয়েদের তলপেটে ব্যথা



জরায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্ববাহী নালীসহ আশপাশের অন্যান্য অঙ্গ যদি বিভিন্ন প্রকার বায়বীয় ও অবায়বীয় জীবাণু যেমন নাইসেরিয়া, গনোকক্কাস, স্ট্রেকটোকক্কাস, ব্যাকটেরয়েড, বিশেষ করে কামাইডিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে তবে তাকে পেলভিক ইনফামেটরি ডিজিজ সংক্ষেপে পিআইডি বলা হয়। এ রোগটি এমন যন্ত্রণাদায়ক, জীবন ধ্বংসকারী নয়, তবে রোগী অনেক দিন ভুগে থাকেন।

উপসর্গ 
- তলপেটে ব্যথা
- কোমরে ব্যথা
- অনিয়মিত, অতিরিক্ত মাসিক
- অতিরিক্ত সাদা স্রাব
- বন্ধ্যত্ব
- স্বামী সহবাসে কষ্ট
- জ্বর বা জ্বরভাব
- পুঁজ মিশ্রিত স্রাব
- মানসিকভাবে অস্থির থাকা।

কারণ
- বারবার ও ঘনঘন এমআর ও গর্ভপাত করালে।
- অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গর্ভপাত, প্রসব করালে।
- যৌনরোগ থাকলে, (৬০ শতাংশ-৭০ শতাংশ)
- একের অধিক যৌন সঙ্গী থাকলে।
- জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী কপারটি ব্যবহারের কারণে।
- জরায়ু বা ডিম্বনালীর যক্ষার কারণে।
- অল্প বয়সে বিয়ে এবং মাসিকের সময় সহবাস করলে।

একিউট বা তাৎক্ষণিক
হঠাৎ করে তলপেটে ও কোমরে খুব ব্যথা অনুভূত হয়। সাধারণত মাসিকের সময় বেশি হয়। গর্ভপাত বা তলপেটের কোনো অপারেশনের পর এটা হতে পারে। ব্যথার সাথে জ্বর থাকতে পারে।
ক্রনিক বা পুরনো
অনেক দিন ধরে তলপেটে অল্প অল্প ব্যথা, কোমরে ঝিনঝিন অনভূতি, অনিয়মিত, অতিরিক্ত মাসিক, মাথা ব্যথা, জ্বরভাব, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, খাবারে অনীহা, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ইত্যাদি হতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
যোনিপথের রস পরীক্ষা করে জীবাণু নির্ণয় ও আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গের প্রদাহজনিত পুঁজ বা প্রদাহ নির্ণয় করা সম্ভব।

পিআইডির সামঞ্জস্য অন্যান্য রোগ
- এপেন্ডিসাইটিস।
- জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ।
- ওভারিয়ান সিস্ট যদি ফেটে যায়।
- পেঁচানো ওভারিয়ান সিস্ট।
- জরায়ুর টিউমার।
- অন্ত্রের প্রদাহ।
- মূত্রথলিতে সংক্রমণ।
- কিডনিতে প্রদাহ।
- সংক্রমিত গর্ভপাত।

চিকিৎসা
যোনিপথের রস পরীক্ষা করে জীবাণু নির্ণয় করে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা দিতে হবে। ভেতরে কোনো পুঁজ থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। যদি গনোরিয়ার জীবাণু পাওয়া যায় তবে গনোরিয়ার চিকিৎসা দিতে হবে। 
বর্তমানে যা দেয়া হয়
- ট্যাব সিপ্রোফক্সাসিন-৫০০ মি.গ্রা- এর ২টা একত্রে ১ দিন। অথবা, ট্যাব স্পারফক্সাসিন ৪০০ মি.গ্রাম একত্রে ১ দিন।
কোনো জীবাণু না পাওয়া গেলে
ইনজেকশন কেফোক্সিটিন-২ গ্রাম মাংসপেশিতে এবং ১ গ্রাম প্রবোনসিড মুখে ১ বার খেতে দিতে হবে। বা ইনজেকশন সেফট্রিয়েক্সন ২৫০ মি. গ্রাম মাংসপেশিতে ১ বার এবং ক্যাপসুল ইরাথ্রোমাইসিন ৫০০ মি. গ্রাম মুখে ৬ ঘণ্টা পর পর ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত দিতে হবে।
এগুলোর পাশাপাশি ব্যথার জন্য অ্যান্টিইনফামেটরি ট্যাব ডাইকোফেনাক, সোডিয়াম ট্যাব মেফেনামিক এসিড একটি করে দিনে দুই-তিন বার ভরা পেটে দেয়া হয়।
ডিম্বনালী বা ডিম্বাশয়ে পুঁজ জমা হলে তা অস্ত্রোপচার বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে বের করতে হবে। রোগটি বেশি পুরনো হলে, মাসিকের অনিয়ম হলে জরায়ু অপসারণ করা হয়।
জটিলতা
১. বন্ধ্যত্ব
২. মাসিকে পর্যাপ্ত ব্যথা।
৩. সহবাসে ব্যথা।
৪. জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ।


লেখক : সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার, সানোলেজিস্ট, এসএসএস হাসপাতাল, সাচালিয়া, টাঙ্গাইল। 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment