Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

গুড় খাওয়া ভালো, তবে..



কুয়াশা ঢাকা শীতের সকালে মোড়ের দোকানে বা রাস্তার পাশেই বানানো হচ্ছে ভাপা পিঠা। চুলার ওপর থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে গরম ভাপ বের হচ্ছে পিঠা থেকে। এমন পিঠা খাওয়ার লোভ কার না লাগে। চালের গুঁড়ার মাঝখানে গুড়ের পুর দিয়ে বানানো ভাপা পিঠার মজাই আলাদা। গুড় দিয়ে দুধ-ভাত, সে-ও মজা! শুধু গুড় খাওয়াও কম মজার নয়। আখের গুড়, খেজুরের গুড়, তালের গুড়_ একটার চেয়ে আরেকটা বেশি স্বাদের! 
গুড় গাঢ় রঙের শর্করা জাতীয় খাবার। এতে আছে সুক্রোজ, গ্গ্নুকোজ এবং ফ্রুকটোজ। এগুলো ছাড়াও গুড় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও লৌহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এক টেবিল চামচ বা ১৫ গ্রাম গুড়ে আছে প্রায় ৫.৮ গ্রাম সুক্রোজ, ২.৩৮ গ্রাম গ্গ্নুকোজ আর ২.৫৬ গ্রাম ফ্রুকটোজ। সেই সঙ্গে আছে প্রায় ৪১ মিলিগ্রাম ক্যালমিয়াম, ৪৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম ও ২৯৩ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। দেখা যাচ্ছে, গুড়ে আছে প্রচুর পটাশিয়াম। এ ছাড়া আছে কিছু ভিটামিন বি-৬। গুড়ে কোনো আমিষ নেই। চর্বি নেই, কোলেস্টেরল নেই। খাদ্য আঁশও নেই।
গুড় থেকে আমরা মূলত শক্তি পাই। প্রতি গ্রাম গুড় দেয় প্রায় চার ক্যালরি শক্তি। চিনি থেকেও আমরা এরূপ শক্তিই পাই। তবে চিনিতে ওই একটু শক্তি ছাড়া আর কোনো পুষ্টি উপাদান নেই। গুড়ের স্বাদ ও সুগন্ধ অতুলনীয়। শুধু স্বাদ ও সৌরভের কারণে নয়, গুড়ে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও লৌহের কারণে চিনির চেয়ে গুড় ভালো। শরীরের জন্য উপকারী। চিনিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম বা লৌহ নেই।
পেশি, হাড়-হাড্ডি ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। মহিলাদের রজঃনিবৃত্তির পর পেশির খিঁচুনি প্রশমনে ক্যালসিয়াম উপকারী। উপকারী এ সময়ে হাড়ের ক্ষয়রোগ অস্টিওপোরোসিসেরও। রজঃনিবৃত্তিকালে মন-মেজাজ ভালো রাখতে, হাত-পা-মাথার গরম কমাতেও ক্যালসিয়াম প্রয়োজনীয়। গুড়ে যে পটাশিয়াম আছে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে উপকারী। গুড়ের লৌহ রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক।
প্রতিদিন এক টেবিল চামচ গুড় খাওয়া স্বাস্থ্যকর। ওপরের উপকারগুলো পাওয়া যাবে। তবে বাজার থেকে কিনে এমনিই গুড় খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। গুড়ে লেগে থাকতে পারে হাজারো জীবাণু আর ময়লা। কারণ মিষ্টি খাওয়ার লোভে বাজারে গুড়ের ওপর বসে প্রচুর মাছি। মাছি গুড়ের মিষ্টি খায়, গুড়ের ওপর বমি করে এবং মলত্যাগ করে। ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কৃমি ইত্যাদি নানা রোগের বাহক হচ্ছে মাছি। এভাবে মাছির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের জীবাণু গুড়ের ওপর লেগে যায়। তা ছাড়া খোলা গুড়ে ধুলাবালিও পড়ে বেশ। তাই গুড় 'কাঁচা' না খেয়ে তা ফিরনি, পায়েস, পিঠা, সেমাই, ইত্যাদিতে দিয়ে রান্না করে খাওয়াই ভালো, স্বাস্থ্যসম্মত। কাঁচা খেতে চাইলে গুড়ের টুকরার বাইরের দিকটা ভালো করে নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তাতে মোটামুটি বেশ জীবাণু কমে যাবে। অসুখ হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
অেধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ্, 
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ বেজড কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment