
আমরা সবাই জানি যে গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়াতে হয়। প্রশ্ন হলো ঠিক কতটুকু ওজন গর্ভাবস্থায় আপনার বাড়ানো উচিত?
এরজন্য সবার আগে আপনার জেনে নিতে হবে যে আপনার বিএমআই অথবা বডি-মাস ইন্ডেক্স কত।উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত কে বলা হয় বডি-মাস-ইন্ডেক্স (BMI). আপনার BMI জানার জন্য ঝটপট ক্যালকুলেটরে নিচের অঙ্কটি করে ফেলুন।
আপনার ওজন (কেজি তে)
BMI
উচ্চতা (মিটার এ) x উচ্চতা (মিটার এ)
সোজা ভাষায় বলতে গেলে, আপনার ওজন (কেজি তে) কে আপনার উচ্চতা (মিটার এ) এর স্কোয়ার দিয়ে ভাগ করুন।মিটারে উচ্চতা জানা না থাকলে, এই লিঙ্ক থেকে বের করে নিন-
http://goo.gl/YbEqg)
http://goo.gl/YbEqg)
এইবার আপনার BMI কত আসলো তা নিচের চার্টের সাথে মিলিয়ে নিন।
BMI= ১৮.৫ এর নিচে হলে আপনি "আন্ডার ওয়েট" বা প্রয়োজনের চাইতে কম ওজনের অধিকারী।
BMI= ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলে আপনি স্বাভাবিক ওজনের অধিকারী।
BMI= ২৪.৯ থেকে ২৯.৯ হলে আপনি "ওভার ওয়েট" বা প্রয়োজনের চাইতে বেশি ওজনের অধিকারী।
BMI= ৩০ এর বেশি হলে আপনি "ওবেস" বা স্থুল।
BMI= ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলে আপনি স্বাভাবিক ওজনের অধিকারী।
BMI= ২৪.৯ থেকে ২৯.৯ হলে আপনি "ওভার ওয়েট" বা প্রয়োজনের চাইতে বেশি ওজনের অধিকারী।
BMI= ৩০ এর বেশি হলে আপনি "ওবেস" বা স্থুল।
এবার জেনে নিন গর্ভাবস্থায় আপনার ওজন কতটুকু বাড়াতে হবে-
যদি আপনার BMI গর্ভধারণের আগে স্বাভাবিক অর্থাৎ ১৮.৫ ত্থেকে ২৪. ৯ হয়, তাহলে আপনার ওজন ১১-১৬ কেজি বাড়ানো উচিত। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ০.৫-২.৫ কেজি এবং এরপর প্রতি সপ্তাহে আধা কেজি করে ওজন বাড়া উচিৎ।
যদি আপনার BMI গর্ভধারণের আগে স্বাভাবিক এর চেয়ে কম ("আন্ডার ওয়েট") অর্থাৎ ১৮.৫ এর কম হয়, তাহলে আপনার ওজন ১২-১৮ কেজি বাড়ানো উচিত।
যদি আপনার BMI গর্ভধারণের আগে স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশী ("ওভার ওয়েট") অর্থাৎ ২৫ এর বেশী হয়, তাহলে আপনার ওজন ৭-১১ কেজি বাড়ানো উচিত।
যদি আপনি গর্ভধারণের আগেই "ওবেস" বা স্থুল হন অর্থাৎ BMI ৩০ এর বেশী হয়, তাহলে আপনার ওজন ৫-৯ কেজি বাড়ানো উচিত।
আপনার গর্ভের সন্তান যমজ হলে আপনার ওজন ১৬.৫-২৪.৫ কেজি বাড়ানো উচিৎ যদি আপনার ওজন গর্ভধারণের আগে স্বাভাবিক হয়। আর গর্ভধারণের আগেই আপনার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বা "ওভার ওয়েট" হলে এক্ষেত্রে আপনার ওজন বাড়ানো উচিৎ ১৮.৫-২২.৫ কেজি এবং গর্ভধারণের আগেই "ওবেস" বা স্থুল হয়ে থাকলে এক্ষেত্রে আপনার ওজন বাড়ানো উচিৎ ১১-১৯ কেজি।
ওজন বাড়াতে কতটা খাবেন?
আপনাকে গর্ভাবস্থায় বেশী খেতে হবে তার মানে এই নয় যে আপনাকে দুজনের খাবার খেতে হবে। এমনকি প্রথম তিনমাসে আপনি স্বাভাবিক ভাবে যতটুকু খান, ততটুকু খেলেই হবে। তবে হ্যা, অবশ্যই আপনাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। গর্ভাবস্থার ৪-৬ মাসে, আপনি স্বাভাবিক ভাবে দৈনিক যতটুকু খান তারচেয়ে ৩৪০ ক্যালরি বেশী খাবেন এবং গর্ভাবস্থার ৭-৯ মাসে, আপনি স্বাভাবিক ভাবে দৈনিক যতটুকু খান তারচেয়ে ৪৫০ ক্যালরি বেশী খাবেন।
আপনাকে গর্ভাবস্থায় বেশী খেতে হবে তার মানে এই নয় যে আপনাকে দুজনের খাবার খেতে হবে। এমনকি প্রথম তিনমাসে আপনি স্বাভাবিক ভাবে যতটুকু খান, ততটুকু খেলেই হবে। তবে হ্যা, অবশ্যই আপনাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। গর্ভাবস্থার ৪-৬ মাসে, আপনি স্বাভাবিক ভাবে দৈনিক যতটুকু খান তারচেয়ে ৩৪০ ক্যালরি বেশী খাবেন এবং গর্ভাবস্থার ৭-৯ মাসে, আপনি স্বাভাবিক ভাবে দৈনিক যতটুকু খান তারচেয়ে ৪৫০ ক্যালরি বেশী খাবেন।
ওজন এই পরিমাণের চেয়ে বেশী বা কম বাড়লে কি হবে?
আপনার ওজন গর্ভাবস্থায় যতটুকু বাড়ার কথা, তারচেয়ে বেশী বেড়ে গেলে প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্মের সম্ভাবনা কমে যায়। তখব হয়তো আপনাকে সিজারিয়ান পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
আপনার ওজন গর্ভাবস্থায় যতটুকু বাড়ার কথা, তারচেয়ে কম বাড়লে আপনি অপুষ্ট শিশুর জন্ম দিবেন। অপুষ্ট শিশু নানা ধরণের শারিরীক সমস্যায় ভোগে এমনকি মারাও যেতে পারে।
আপনার ওজন গর্ভাবস্থায় যতটুকু বাড়ার কথা, তারচেয়ে বেশী বেড়ে গেলে প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্মের সম্ভাবনা কমে যায়। তখব হয়তো আপনাকে সিজারিয়ান পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
আপনার ওজন গর্ভাবস্থায় যতটুকু বাড়ার কথা, তারচেয়ে কম বাড়লে আপনি অপুষ্ট শিশুর জন্ম দিবেন। অপুষ্ট শিশু নানা ধরণের শারিরীক সমস্যায় ভোগে এমনকি মারাও যেতে পারে।
তবে কি ওজন বাড়িয়ে এরপর গর্ভবতী হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ?
না, অবশ্যই নাই। গর্ভধারণের সময় আপনার BMI স্বাভাবিক রেখে, গর্ভধারণের পরে ওজন ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো। যেসব মহিলারা গর্ভধারণের আগের থেকেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ওজনের অধিকারী, তাদের গর্ভাবস্থায় ডায়বেটিস ও প্রিকলেম্পশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, তাদের দুগ্ধ উতপাদনের ক্ষমতা তুলনামূলক কম এবং তাদের সন্তানেরো ভবিষ্যতে স্থুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তাছাড়া মোটা মহিলাদের গর্ভধারণ করতেও অসুবিধে হয়। তাও গর্ভাধারণের ইচ্ছে থাকলে প্রথমে ওজন স্বাভাবিক এ আনুন।
না, অবশ্যই নাই। গর্ভধারণের সময় আপনার BMI স্বাভাবিক রেখে, গর্ভধারণের পরে ওজন ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো। যেসব মহিলারা গর্ভধারণের আগের থেকেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী ওজনের অধিকারী, তাদের গর্ভাবস্থায় ডায়বেটিস ও প্রিকলেম্পশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, তাদের দুগ্ধ উতপাদনের ক্ষমতা তুলনামূলক কম এবং তাদের সন্তানেরো ভবিষ্যতে স্থুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তাছাড়া মোটা মহিলাদের গর্ভধারণ করতেও অসুবিধে হয়। তাও গর্ভাধারণের ইচ্ছে থাকলে প্রথমে ওজন স্বাভাবিক এ আনুন।
সাধারণত সন্তান জন্মের ৬ সপ্তাহের মধ্যে আপনার ওজন যতটুকু বেড়েছিলো তার অর্ধেক ই কমে যায়। শিশুর নিজের ওজনই তো থাকে প্রায় ৩.৫ কেজি, তাছাড়া গর্ভথলী, গর্ভফুল, পেটে থাকা পানি এসব বের হয়ে গিয়েও প্রায় ৮-৯ কেজি ওজন কমে। যেহেতু ওজন অর্জন করতে আপনার ৯ মাস লেগেছিলো তাই বাকী ওজনটা কমাতেও আপনার কিছুটা সময় লাগবে। আপনি যদি বাচ্চাকে স্তন্যদান করেন, আপনার ওজন আস্তে আস্তে এমনিতেই কমবে, কেননা দুগ্ধ উতপাদনে অনেক ক্যালরি খরচ হয়ে যায়। তারপরেও যদি আরো দ্রুত ওজন কমাতে চান তাহলে এই সময়ের জন্য উপযোগী ব্যায়াম গুলো করুন। তবে মনে রাখবেন, কখনোই যেন তেন ভাবে ডায়েট করবেন না। আপনার নিজের পুষ্টি ঠিক না থাকলে বাচ্চাও মাতৃদুগ্ধ থেকে কম পুষ্টি পাবে। একান্তই ডায়েট করতে চাইলে, ডায়েটিশিয়ান এর পরামর্শ নিয়ে তবেই করুন।






0 comments:
Post a Comment