স্বাস্থ্য রক্ষায় গাজরের গুরুত্ব অনেক। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার চোখের পুষ্টি জোগায় গাজর, চোখের স্নায়ুকে করে শক্তিশালী। গাজরের রস দেহে চর্বির মাত্রা কমায়। এটি রক্তের প্রধান উপাদান আরবিসিকে দীর্ঘজীবী করে। এতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার শরীরে যেসব কোলেস্টেরল রক্তের মধ্যে মিশে রক্তে জমাট বেঁধে যায়, হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত সারা শরীরে পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি করে, গাজর সেসব কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
যেকোনো বড় অস্ত্রোপচারের পর রক্তের ঘাটতি হলে তা পূরণে সহায়তা করে গাজর। আবার এটি মানুষের মেধাশক্তি বাড়ানোর কাজেও ব্যবহৃত হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোকে করে দ্বিগুণ কর্মক্ষম। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশজাতীয় উপাদান। এই উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাই গাজর হোক সবার নিত্যদিনের খাবার।।
.......................................................
সবজি হিসেবে পরিচিত গাজর। যা বাংলাদেশে শীতকালে পাওয়া যায়। দেখতে অসাধারণ এই সবজির রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ।খেতেও বেশ মজাদার এই গাজর। আজ অর্থসূচকের পক্ষ থেকে জানানো হবে গাজরের কি কি পুষ্টিগুণ এবং গাজর কি পরিমানে খেতে হয়।
গাজরে যে উপাদানগুলো রয়েছেঃ
শীতকালীন সুস্বাদু, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং উচ্চ ফলনশীল এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যারোটিন যা ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ তে রূপান্তরিত হয়। গাজরে প্রাপ্ত ক্যারোটিন কচুশাক, কলমিশাক, লালশাক ও পুঁইশাক বাদে অন্যসকল শাকসবজি ও ফলের চেয়ে বেশি। নিয়মিত গাজর খেলে ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ’র অভাব পূরণ হয় যার ফলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
এছাড়াও এত রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্টসহ। ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি ও ফাইবার পটাশিয়াম।
যেসব রোগ সারাতে সহায়কঃ
ওবেসিটি, মাড়ির সমস্যা, ইনসম্নিয়া, কিডনি, লিভার ও গলব্লাডারের সমস্যা, আলঝিইমার, অ্যাজমা কোলাইটিস এবং চোখের সমস্যা।
ওবেসিটি, মাড়ির সমস্যা, ইনসম্নিয়া, কিডনি, লিভার ও গলব্লাডারের সমস্যা, আলঝিইমার, অ্যাজমা কোলাইটিস এবং চোখের সমস্যা।
গাজরের সবচেয়ে বেশি উপকারঃ
চোখ ও হার্ট ভালো রাখে :চোখের জন্য গাজর খুবই উপকারী। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে গাজর সাহায্য করে। গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে : গাজর অ্যান্টি এজিং উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই এর ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ও ত্বক টানটান রাখে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। বিটা ক্যারোটিন এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সেল ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করে। এতে ত্বকে সহজেই বয়সের ছাপ পড়ে না।
আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে :গাজরের ক্যারোটিনয়েড এ রকম ত্বকের উপশমে সাহায্য করে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ত্বকের ন্যাচারাল ট্যান ভাবকে ধরে রাখে। ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করে ও হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।
গাজরের জুসের উপকারিতা
কাঁচা গাজরের তুলনায় সেদ্ধ গাজর পুষ্টিগুণে ভরপুর। এর জুসও বেশ স্বাস্থ্যকর। কারণ গাজরের জুসে সহজপাচ্য ফাইবার থাকে।
কাঁচা গাজর খেলে যেখানে গাজরের উপস্থিত বিটা ক্যারোটিনের মাত্র ১ শতাংশ আমাদের শরীরে কাজে লাগে, সেখানে গাজরের জুস খেলে আমাদের শরীরে গাজরের উপস্থিতি পুরো বিটা ক্যারোটিন অ্যাবজর্ব করতে পারে।
গাজরের জুসে অ্যান্টি কারসেনোজনিক উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- শিশুদের জন্য গাজরের জুস টনিকের মতো কাজ করে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- গাজরে রয়েছে ফোটোনিউট্রিয়েট ফ্যালকর্নিকল, যা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
- হাইপারটেনশনের সমস্যায় গাজরের জুস উপকারী।
- গাজরের জুসের সঙ্গে মধু ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক গ্লাস খান। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে যাবে।
গাজর স্টোরেজ টিপসঃ
ফ্রিজে গাজর র্যাপ করে রাখবেন। তা না হলে গাজরের স্বাদ চলে যাবে।
গাঢ় কমলা রঙের গাজর বেছে নিন। রঙ গাঢ় হলে বুঝবেন প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। গাজরের গা খসখস হলে না কেনাই ভালো। এগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
গাজরের গোড়ার রঙ কালো হয়ে গেলে কিনবেন না। গাজরের গোড়া যেন সবুজ থাকে।
একটি ১০০ গ্রাম গাজরে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছেঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হল- ক্যারোটিন ১০,৫২০ মাইক্রোগ্রাম, শর্করা ১২.৭ গ্রাম, আমিষ ১.২ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৫.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭.০ মি. গ্রা., আয়রণ ২.২ মি. গ্রা., ভিটামিন বি১ ০০.০৪ মি. গ্রা., ভিটামিন বি২ ০.০৫ মি. গ্রা., চর্বি ০.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৫ মি. গ্রা., আঁশ ১.২ গ্রাম, অন্যান্য খনিজ ০.৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৭ ক্যালরি।
যে পরিমানে গাজর খেতে হবেঃ
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ৫ দিন দৈনিক ১টি করে মধ্যম আকারের গাজর খেলে মহিলাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাস করে এবং পুরুষের ১০% কোলেস্টেরল হ্রাস করে।সুতরাং বয়স্কদের জন্য গাজর খাওয়া অতি জরুরি। লিউসিন যা আমাদের দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড যা গাজরে বিদ্যমান রয়েছে। নিয়মিত গাজর খেলে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয় এবং পেটের নানারকম সমস্যা দূর হয়, হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্ককে মজবুত রাখে, কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।
....................................................................................
শীতকালীন সুস্বাদু, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং উচ্চ ফলনশীল সবজির মধ্যে গাজর অন্যতম। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যারোটিন যা ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে ভিটামিন ‘এ' তে রূপান্তরিত হয়। গাজরে প্রাপ্ত ক্যারোটিন কচুশাক, কলমিশাক, লালশাক ও পুঁইশাক বাদে অন্যসকল শাকসবজি ও ফলের চেয়ে বেশি। নিয়মিত গাজর খেলে ক্যারোটিন তথা ভিটামিন এ'র অভাব পূরণ হয় যার ফলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা হল- ক্যারোটিন ১০,৫২০ মাইক্রোগ্রাম, শর্করা ১২.৭ গ্রাম, আমিষ ১.২ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৫.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭.০ মি. গ্রা., আয়রণ ২.২ মি. গ্রা., ভিটামিন বি১ ০০.০৪ মি. গ্রা., ভিটামিন বি২ ০.০৫ মি. গ্রা., চর্বি ০.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৫ মি. গ্রা., অাঁশ ১.২ গ্রাম, অন্যান্য খনিজ ০.৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৭ ক্যালরি। এ সমস্ত পুষ্টি উপাদান রোগমুক্ত এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত দরকারী। পুষ্টিকর এবং অনন্য স্বাদের জন্য এ সবজিটি কাঁচা, সিদ্ধ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে খাওয়া হয়ে থাকে। গাজরের চাটনি বা আচার, কাসুন্দি, পুডিং, হালুয়া অতি সুস্বাদু ও মুখরোচক। ছোট বাচ্চাদের জন্য গাজরের হালুয়া অনেক উপকারী। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে গাজর দিয়ে জ্যাম, জেলি এবং জুস তৈরি করা হয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার রঙ্গিন করতেও গাজর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গাজর বীজ থেকে সুগন্ধি তেল প্রস্তুত করা যায় যা খাদ্য ও পানীয় শিল্পে ব্যবহার হয়। গাজরে উচ্চ ক্যারোটিন থাকায় এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ক্যান্সার ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ৫ দিন দৈনিক ১টি করে মধ্যম আকারের গাজর খেলে মহিলাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা হ্রাস করে এবং পুরুষের ১০% কোলেস্টেরল হ্রাস করে। গাজরে লুটিন নামক এক ধরনের পদার্থ রয়েছে যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের রোগ প্রতিরোধ করে। সুতরাং বয়স্কদের জন্য গাজর খাওয়া অতি জরুরি। লিউসিন যা আমাদের দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড যা গাজরে বিদ্যমান রয়েছে। নিয়মিত গাজর খেলে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয় এবং পেটের নানারকম সমস্যা দূর হয়, হৃদপিন্ড ও মস্তিষ্ককে মজবুত রাখে, কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।
..........................................................................
গাজর সহজলভ্য ও কম দাম হলেও অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে একে মিষ্টি মুলো বলে। এটা কাঁচা, রান্না ও সালাদ করে খাওয়া চলে। তবে কাঁচা চিবিয়ে খেলে বা সালাদ করে সম্পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায়। রান্নার পর পুষ্টি কিছুটা নষ্ট হয়।
গাজরকে প্রকৃতি ও স্রষ্টার অমূল্য সৃষ্টি এবং পুষ্টির ভাণ্ডার বলা যায়। গাজর দুই প্রকার- দেশী ও বিলেতি। দেশী গাজর দেখতে কিছুটা মেরুন রঙের। এই জাতের গাজর আজ বিলুপ্ত। এখন শুধু বিলেতি জাতের গাজর পাওয়া যায়। এই জাতের গাজর কিছুটা কমলারঙের। গাজর শাকেরও উপকার আছে। গাজর দিয়ে আচার, হালুয়া, পায়েস ইত্যাদি তৈরি হয়। আয়ুর্বেদীরা বলেন, গাজর যদি সঠিক পরিমাণে খাওয়া যায়, তাহলে দামি ফলমূল শাকসবজির চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
গাজরের বহু গুণ। যেমন- ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, সহজে হজম হয়। রক্তপিত্ত, অর্শ, পেটের অসুখ, কফ ও বায়ুরোগ ভালো হয়।
গাজর কৃমিনাশক। এতে হৃদরোগ ভালো হয়। হৃদরোগীরা কাঁচা চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবে। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’। এই ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৈহিক শক্তি হ্রাস পায়। দেহের ত্বক খসখসে হয়ে যায়। রাতকানা রোগ হয়। মাড়ির রোগ হয়। হাড় নরম হয়ে যায়। তাই গাজর খেলে ওই সব রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
গাজর খেলে ত্বক কোমল ও সুন্দর হয়। যারা অর্শ, যক্ষ্মা ও পিত্ত রোগে ভুগছেন, তারা নিয়মিত গাজরের সালাদ খেলে উপকার হবে। শিশুদের গাজর খাওয়ালে পুষ্টি পায়, বাড়ন দ্রুত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যাদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া আছে তারা গাজর খেলে উপকার পাবে। গ্যাস্ট্রিক-আলসার রোগীরা গাজর খেলে উপকার হয়।
গাজরের কচিপাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং এই গাজরশাক গাজরের চেয়ে তিনগুণ বেশি উপকারী। গাজর রক্ত পরিষ্কার করে। মহিলারা ত্বক ফর্সা করতে এবং মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি বেশি গাজর খেতে পারেন। যাদের পেটে গ্যাস হয়, শরীরে জ্বালাপোড়া করে তারা গাজর খেয়ে উপকার পাবেন।
....................................................................
ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ গাজর স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর একটি সবজি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। গাজরের বিশেষ কিছু পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা দেওয়া হলো_
গাজরে যেসব উপাদান রয়েছে
ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি ও ফাইবার পটাশিয়াম।
যেসব রোগ সারাতে সহায়ক
ওবেসিটি, মাড়ির সমস্যা, ইনসম্নিয়া; কিডনি, লিভার ও গলব্লাডারের সমস্যা; আলঝিইমার, অ্যাজমা কোলাইটিস এবং চোখের সমস্যা।
সবচেয়ে বেশি উপকার
চোখ ও হার্ট ভালো রাখে :চোখের জন্য গাজর খুবই উপকারী। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে গাজর সাহায্য করে। গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে : গাজর অ্যান্টি এজিং উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই এর ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ও ত্বক টানটান রাখে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। বিটা ক্যারোটিন এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সেল ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করে। এতে ত্বকে সহজেই বয়সের ছাপ পড়ে না।
আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে :গাজরের ক্যারোটিনয়েড এ রকম ত্বকের উপশমে সাহায্য করে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ত্বকের ন্যাচারাল ট্যান ভাবকে ধরে রাখে। ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করে ও হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।
গাজরের জুসের উপকারিতা
ষ কাঁচা গাজরের তুলনায় সেদ্ধ গাজর পুষ্টিগুণে ভরপুর। এর জুসও বেশ স্বাস্থ্যকর। কারণ গাজরের জুসে সহজপাচ্য ফাইবার থাকে।
ষ কাঁচা গাজর খেলে যেখানে গাজরের উপস্থিত বিটা ক্যারোটিনের মাত্র ১ শতাংশ আমাদের শরীরে কাজে লাগে, সেখানে গাজরের জুস খেলে আমাদের শরীরে গাজরের উপস্থিতি পুরো বিটা ক্যারোটিন অ্যাবজর্ব করতে পারে।
ষ গাজরের জুসে অ্যান্টি কারসেনোজনিক উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ষ শিশুদের জন্য গাজরের জুস টনিকের মতো কাজ করে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ষ গাজরে রয়েছে ফোটোনিউট্রিয়েট ফ্যালকর্নিকল, যা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
ষ হাইপারটেনশনের সমস্যায় গাজরের জুস উপকারী।
ষ গাজরের জুসের সঙ্গে মধু ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক গ্গ্নাস খান। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে যাবে।
গাজর স্টোরেজ টিপস
ষ ফ্রিজে গাজর র্যাপ করে রাখবেন। তা না হলে গাজরের স্বাদ চলে যাবে।
ষ গাঢ় কমলা রঙের গাজর বেছে নিন। রঙ গাঢ় হলে বুঝবেন প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। গাজরের গা খসখস হলে না কেনাই ভালো। এগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
ষ গাজরের গোড়ার রঙ কালো হয়ে গেলে কিনবেন না। গাজরের গোড়া যেন সবুজ থাকে।
......................................................................................................
গাজরকে প্রকৃতি ও স্রষ্টার অমূল্য সৃষ্টি এবং পুষ্টির ভাণ্ডার বলা যায়। গাজর দুই প্রকার- দেশী ও বিলেতি। দেশী গাজর দেখতে কিছুটা মেরুন রঙের। এই জাতের গাজর আজ বিলুপ্ত। এখন শুধু বিলেতি জাতের গাজর পাওয়া যায়। এই জাতের গাজর কিছুটা কমলারঙের। গাজর শাকেরও উপকার আছে। গাজর দিয়ে আচার, হালুয়া, পায়েস ইত্যাদি তৈরি হয়। আয়ুর্বেদীরা বলেন, গাজর যদি সঠিক পরিমাণে খাওয়া যায়, তাহলে দামি ফলমূল শাকসবজির চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
গাজরের বহু গুণ। যেমন- ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, সহজে হজম হয়। রক্তপিত্ত, অর্শ, পেটের অসুখ, কফ ও বায়ুরোগ ভালো হয়।
গাজর কৃমিনাশক। এতে হৃদরোগ ভালো হয়। হৃদরোগীরা কাঁচা চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবে। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’। এই ভিটামিনের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৈহিক শক্তি হ্রাস পায়। দেহের ত্বক খসখসে হয়ে যায়। রাতকানা রোগ হয়। মাড়ির রোগ হয়। হাড় নরম হয়ে যায়। তাই গাজর খেলে ওই সব রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
গাজর খেলে ত্বক কোমল ও সুন্দর হয়। যারা অর্শ, যক্ষ্মা ও পিত্ত রোগে ভুগছেন, তারা নিয়মিত গাজরের সালাদ খেলে উপকার হবে। শিশুদের গাজর খাওয়ালে পুষ্টি পায়, বাড়ন দ্রুত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যাদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া আছে তারা গাজর খেলে উপকার পাবে। গ্যাস্ট্রিক-আলসার রোগীরা গাজর খেলে উপকার হয়।
গাজরের কচিপাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং এই গাজরশাক গাজরের চেয়ে তিনগুণ বেশি উপকারী। গাজর রক্ত পরিষ্কার করে। মহিলারা ত্বক ফর্সা করতে এবং মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি বেশি গাজর খেতে পারেন। যাদের পেটে গ্যাস হয়, শরীরে জ্বালাপোড়া করে তারা গাজর খেয়ে উপকার পাবেন।
......................................................
গাজর পুষ্টিকর সবজি। রান্না ও কাঁচা দু’ভাবেই খাওয়া যায়। ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ গাজর। গাজরের বিশেষ কিছু পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা এখানে তুলে ধরা হলো :
গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি ও ফাইবার পটাশিয়াম। এটি ওবেসিটি, মাঢ়ির সমস্যা, ইনসমনিয়া, কিডনি, লিভার ও গলব্লাডারের সমস্যা, আলঝাইমার, অ্যাজমা কোলাইটিস এবং চোখের সমস্যা সারাতে সহায়ক। চোখের জন্য গাজর খুবই উপকারী। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। হার্টের সমস্যা প্রতিরোধেও গাজর সাহায্য করে। গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গাজর অ্যান্টি এজিং উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই এর ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ও ত্বক টানটান রাখে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ত্বকের তি করে। বিটা ক্যারোটিন এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যেটা সেল ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করে। এতে সহজে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে না। গাজর ক্যারোটিনয়েড ত্বকের উপশমে সাহায্য করে। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রা করে ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ত্বকের রঙ স্বাভাবিক রাখে। ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর হাই ব্লøাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুদের জন্য গাজরের জুস টনিকের কাজ করে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়ায়। গাজরের জুসের সাথে মধু ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক গ্লøাস করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমে যাবে।
ত্বকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং পটাশিয়াম না থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। প্রতিদিন গাজরের জুস খেলে ত্বকে পটাশিয়ামের অভাব দূর হবে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। তাই ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে নিয়মিত গাজরের জুস খান।







0 comments:
Post a Comment