আমাদের নাকের দুই ছিদ্রের মাঝামাঝি একটি মাংস ও তরুণাস্থির তৈরি দেয়াল রয়েছে, যাকে বলা হয় নাসাল সেপটাম। বেশির ভাগ মানুষেরই এটি একেবারে ঠিক মাঝখানে থাকে না, একটু এদিক-ওদিক আছে। কিন্তু কারও সেপটাম একটু বেশি এক দিকে হেলে থাকলে বা বেঁকে থাকলে সৃষ্টি হতে পারে নানা সমস্যা। একে বলা হয় ডেভিয়েটেড নাসাল সেপটাম। এর ফলে এক দিকের নাসারন্ধ্র বেশি সরু হয়ে পড়ে। এতে ওই দিকে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, বারবার ঠান্ডা লাগে, নাক বন্ধ হয়ে যায়, ঘুমের মধ্যে নাকে শব্দ হয়। কখনো নাকের ভেতরটা বেশি শুষ্ক হয়ে রক্তপাতও হতে পারে। এমন হতে পারে যে ঘুমানোর সময় আপনি এক দিকেই কাত হয়ে ঘুমাতে আরাম বোধ করেন, অন্যদিকে শুলেই নাক বন্ধ হয়ে যায়।
নাক বন্ধ থাকার কারণে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়, ফলে সর্বদাই মুখ ও জিভ শুষ্ক হয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিএনএস বা ডেভিয়েটেড নাসাল সেপটামের কারণটি জন্মগত, তবে আঘাতের কারণেও এমন হতে পারে। এমন সমস্যায় প্রথমত কেবল উপসর্গেরই চিকিৎসা করা হয়। যেমন, বন্ধ নাকে খানিকটা আরামের জন্য ডিকনজেসটেন্ট, এন্টিহিস্টামিন, নাসাল স্প্রে, স্টেরয়েড স্প্রে ইত্যাদি। তবে এগুলো কেবল উপসর্গের সাময়িক উপশম করবে, স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নয়। স্থায়ী চিকিৎসা হলো অস্ত্রেপচারের মাধ্যমে বাঁকা সেপটামকে আবার সোজা করে জায়গামতো বসিয়ে দেওয়া। একে বলা হয় সেপটোপ্লাস্টি।







0 comments:
Post a Comment