Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

স্বাস্থ্যসম্মত চুলের যত্ন





চুল সৌন্দর্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুন্দর চেহারা বলতে সুন্দর চুলও বোঝায়। ত্বকের রঙ, মসৃণতা এবং সেই সাথে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল থাকলে তাকে সুন্দরী বলা যায়।

চুলের গঠন
চুলের ফলিকল জন্মের আগে তৈরি হয়। গড়ে মাথায় ৮০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ ফলিকল থাকে। চুলের ফলিকল বংশগতভাবে নির্ণয় হয় এবং জন্মের পর আর বাড়ে না।
প্রতিমাসে চুল গড়ে ১ ইঞ্চির মতো বাড়ে। ১৪ থেকে ৪০ বছর বয়সী মহিলাদের চুল দ্রুত বাড়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে। চুল তিনটি স্তর দিয়ে তৈরি হয়- মেডুলা, কর্টেক্স ও কিউটিকল।
মেডুলা পুরো চুলের শ্যাফটজুড়ে থাকে। আবার খুব ভালো ও সুন্দর চুলে মেডুলা নাও থাকতে পারে। এর কাজ প্রকৃতভাবে জানা যায়নি।
চুলের শ্যাফটের ৭৫ থেকে ৯০ ভাগ তৈরী হয় কর্টেক্স দিয়ে। কর্টেক্সে যেসব কোষ থাকে তারাই চুলের স্থিতিস্থাপকতা, রঙ এবং দৃঢ়তার জন্য দায়ী।
চুলের সবচেয়ে বাইরের স্তর হচ্ছে কিউটিকল। প্রতিরক্ষাকারী একটি স্তর এটি। এর জন্য চুল ঝকঝকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায়।
হেয়ার ফলিকল থেকে চুল জন্মায়। চুল মূলত একধরনের প্রোটিন কেরাটিন দিয়ে তৈরী। রাসায়নিকভাবে চুল অক্সিজেন, আয়রন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, সালফার, কার্বন এবং ফসফরাস দিয়ে তৈরি হয়।
স্ক্যাল্পের কাছে চুলের যে বেস থাকে তাকে প্যাপিলা বলে। প্যাপিলা ‘নব’-এর মতো দেখতে এবং ফলিকলের মাথায় থাকে। প্যাপিলাতেই রক্তনালী থাকে যা দ্বারা চুল তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
চুল বড় হওয়ার একটি সাইকেল বা চক্র রয়েছে। যদি কখনো চুল নাও কাটেন তবুও কতটা বড় হবে তা সাইকেল বা চক্র এবং জেনেটিক বা বংশগতি হিসেবে নির্ধারিত। বড় হওয়ার পর প্রতিটি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে যায় দুই থেকে চার মাসের জন্য। এরপর সেই চুলগুলো ঝরে যায়। একেক জনের চুলবৃদ্ধির চক্র একেক রকম বলেই চুল লম্বা বা ছোট হয়। চুলের গোড়ায় মেলানোসাইট কোষ থাকে যা চুলের রঙ নির্ধারণ করে। মেলানিন চুলের রঙ কালো, বাদামি করে এবং ফেনোমেলানিন চুল হলদেটে, সোনালি ও লালচে রঙ করে থাকে।

বিভিন্ন ধরনের চুলের যত্ন
প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে আপনার চুল কোন প্রকৃতির। সাধারণত তিন ধরনের চুল হয়। তৈলাক্ত, শুষ্ক ও স্বাভাবিক। স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত সেবাশিয়াস গ্রন্থির নিঃসরণের কারণে মাথা ও চুল তৈলাক্ত হলে তাকে তৈলাক্ত চুল বলে।
আর সেবাশিয়াস গ্রন্থি কম থাকলেও নিঃসরণ না হলে চুল শুষ্ক হয়ে থাকে। শুষ্ক চুলে খুশকি বেশি হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্বাভাবিক চুল হচ্ছে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল। এ রকম চুল না শুষ্ক, না তৈলাক্ত। জন্মগতভাবেই আপনার চুল এমন হতে পারে কিংবা যত্নের মাধ্যমে আপনার চুলে স্বাভাবিক ভাব ধরে রাখতে পারেন।

শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্ন
শুষ্ক চুল নানা কারণে হতে পারে-
* বংশগত কারণে।
* খুব বেশি হেয়ার স্টাইল, চুল রঙ করা ইত্যাদির কারণে।
* হেয়ার ড্রায়ার বা রোলার ব্যবহারের কারণে।
* খুব বেশি রোদে গেলে এবং লবণাক্ত বা কোরিন সমৃদ্ধ পানিতে চুল ধুলে।
* যথাযথ শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার না ব্যবহার করার কারণে।

যত্ন কিভাবে করবেন
* ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শ্যাম্পু সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন। যদি প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে চান তবে অবশ্যই হালকা বা মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।
* চুলে সপ্তাহে একবার গভীরভাবে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
* ভেজা চুল হেয়ার ড্রায়ার বা ব্লোয়ার দিয়ে শুকাবেন না। প্রয়োজনে ঠাণ্ডা বাতাসে চুল শুকাবেন।
* সূর্যরশ্মি থেকে চুল রক্ষার জন্য স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকবেন।
* প্রোটিনযুক্ত খাবার নিয়মিত খাবেন।
* মাঝে মাঝে মাথা ম্যাসাজ করবেন এতে করে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং সেবাশিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে উঠবে।
* শুষ্ক চুলের জন্য উপযুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।
 
লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment