Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

বর্ষায় শিশুদের চাই বাড়তি সুরক্ষা




এখন বর্ষাকাল। এই মৌসুমে শিশুরা নানা রোগে ভুগতে পারে। বৃষ্টি, মাঝেমধ্যে ঠান্ডা হাওয়া, তাপমাত্রার ঘন ঘন পরিবর্তন নানা ধরনের ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায়। মশাদের বংশবৃদ্ধিরও এটা ভালো সময়। বর্ষায় তাই শিশুদের চাই বাড়তি সুরক্ষা।
পানিবাহিত রোগ থেকে সাবধান
বর্ষায় জলাবদ্ধতায় পানি দূষিত হয়ে ব্যবহার্য পানি অনিরাপদ হয়ে ওঠে। রোটা ভাইরাস, হেপাটাইটিস ‘এ’ সংক্রমণ, কলেরা, অ্যান্টামিবা পরজীবী, সালমোনিলা প্রভৃতি জীবাণু বেশি আক্রমণ করে এ সময়। ফলে হতে পারে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো জটিল সমস্যা।


ডায়রিয়া
২৪ ঘণ্টায় শিশুর যদি তিন বা ততোধিকবার পাতলা পায়খানা হয়, তবে ডায়রিয়া বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ডায়রিয়ার কারণে শিশু পানিস্বল্পতায় ভোগে। রক্তে লবণের ঘাটতি হয়ে শিশু মারাও যেতে পারে।
ডায়রিয়া হলে শুরু থেকেই খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ পান করানো, শিশুর পানীয়জল ও খাবার তৈরিতে সতর্কতা, রোটাভাইরাস-প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ব্যবহার শিশুকে ডায়রিয়ায় আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। ডায়রিয়ার সময় জিংক সেবনে ডায়রিয়ার মেয়াদ ও তীব্রতা দুই-ই হ্রাস পাবে।


ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দিজ্বর
এই সময়ে প্রায়ই সর্দিজ্বরে ভোগে শিশু। সমস্যা জটিল হলে নিউমোনিয়াও হতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়, রোগীর ব্যবহার্য বস্তু থেকেও ছড়ায়। শিশুকে তাই হাঁচি-কাশির রোগী থেকে দূরে রাখুন। সাবান-জলে হাত ধুয়ে শিশুকে পরিচর্যা করবেন। অন্যের ব্যবহার্য তোয়ালে, চাদর, রুমাল ইত্যাদি শিশুকে ধরতে দেবেন না। এমনকি অন্যের ব্যবহৃত সেলফোন, দরজার হাতল ইত্যাদি থেকেও জীবাণু দেহে প্রবেশ করে।
সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ছোট্ট শিশুকে খাওয়ার পানি বা দুধ পানের আগে হালকা গরম পানিতে পাতলা কাপড় চুবিয়ে সরু শলাকার মতো করে নাসারন্ধ্র পরিষ্কার করে দিলে সুবিধা হয়। লবণপানির নাকের ড্রপও ব্যবহার করা যায়। কাশি প্রশমনে নিরাপদ মধু, তুলসীপাতার রস, লেবুমিশ্রিত কুসুম গরম পানি খাওয়ানো যায়। জ্বর হলে শিশুর ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল সিরাপ ও বেশি করে তরল পান করানো উচিত।
যদি জ্বর অনেক বেশি হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, বুকের দুধ পানে অসমর্থ হয়, শ্বাসের সঙ্গে বুকের নিচের অংশ দেবে যায়, তবে নিউমোনিয়া হয়েছে বিবেচনা করে দ্রুত হাসপাতালে নিন।


ডেঙ্গুজ্বর
বর্ষাকাল এডিস মশার বংশবিস্তারের সময়। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এ মশা শিশুকে দংশন করলে ডেঙ্গুজ্বরও হতে পারে।
আক্রান্ত শিশু প্রথম কয়েক দিন উচ্চমাত্রার জ্বরে ভোগে। সঙ্গে ত্বকে র্যাশ, মেরুদণ্ডে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, কখনো বা মাড়ি, মলপথে রক্তপাতসহ হোমোরেজিক ডেঙ্গু হতে পারে।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরে চিকিৎসা হলো প্রচুর পানি ও তরল পান, জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ও বিশ্রাম। রক্তপাত হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়। তাই দিনেও শিশুকে ফুলহাতা জামা ও প্যান্ট পরান, মশারি খাটিয়ে ঘুম পাড়ান। ফুলের টব, ডাবের খোসা, ক্যানের খালি পাত্র, গাড়ির টায়ার, হাঁড়ি-পাতিলে জমা পানি প্রতিদিন পরিষ্কার করুন।


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment