Md. Afrooz Zaman Khan

Mob:- 01920926131

01920-926131

When you need call me....
Powered by Blogger.
RSS

সতর্কতাই সমাধান


টাইফয়েডে  ১০৩-১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বরের পাশাপাশি থাকে মাথাব্যথা, জন্ডিস সংক্রমণে প্রস্রাব ও চোখ হলুদ রং ধারণ করে, কলেরায় অনেক বেশি পরিমাণে পানির মতো পাতলা মল যায়, সঙ্গে পেটব্যথা থাকে




বর্ষায় নদীনালা, পুকুর, শহরের নর্দমা, আবর্জনা, সেপটিক ট্যাংক—সব একাকার হয়ে গিয়ে পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে প্রাদুর্ভাব ঘটে নানা রকমের রোগবালাইয়ের। আসুন জেনে নিই আমাদের দেশের কয়েকটি সাধারণ পানিবাহিত রোগ সম্পর্কে।

ডায়রিয়া, আমাশয়

পানিদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো ডায়রিয়া ও আমাশয়। মানুষ ও প্রাণীর মলের সংস্পর্শে এলে পানি ব্যাপকভাবে ই. কোলাই নামের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত হয়। একজন মানুষ একেকবার মলত্যাগের সঙ্গে কয়েক মিলিয়ন ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া নির্গত করে। এমন দূষিত পানি বা খাবার খেলে ডায়রিয়ার সঙ্গে পেটব্যথা, বমি হয়, তবে জ্বর তেমন থাকে না। সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয় এই রোগ। তবে পানিতে ভিব্রিও কলেরি জীবাণু ছড়িয়ে পড়লে কোনো একটি এলাকায় কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সাধারণত বন্যাকবলিত এলাকায় কলেরার প্রকোপ বেশি। এতে অনেক বেশি পরিমাণে পানির মতো পাতলা মল যায়, সঙ্গে পেটব্যথা থাকে। দেহ খুব দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে; পানি ও লবণ যথাযথ পূরণ না করা হলে জীবনাশঙ্কা হতে পারে।
আমাশয়ের কারণ হতে পারে দুই ধরনের জীবাণু। শিগেলা নামের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে বারবার পেট কামড়ে ধরে অল্প পরিমাণ পিচ্ছিল মল তৈরি হয়, রক্তও যেতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে জ্বর। আর এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামের পরজীবীর কারণে রক্ত আমাশয় দেখা দেয়।

টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড

পানিদূষণের কারণে এ সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে টাইফয়েড বা প্যারাটাইফয়েডের মতো রোগ। টাইফয়েডের জীবাণু সালমোনেলা টাইফি দূষিত পানি ছাড়াও ছড়ায় অর্ধসেদ্ধ ডিম, দুধ বা দূষিত খাবার থেকে। এতে ১০৩-১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, দুর্বলতা, প্রথমে কোষ্ঠকাঠিন্য, পরে ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ, পেটব্যথা ইত্যাদি হয়। যথাসময়ে চিকিৎসা না করা হলে নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে।

জন্ডিস

আমাদের দেশে জন্ডিসের অন্যতম কারণ হেপাটাইটিস-এ এবং ই ভাইরাস মূলত ছড়ায় দূষিত পানির মাধ্যমে। সংক্রমণের কারণে তীব্র অরুচি, জ্বর, পেটব্যথার কয়েক দিন পর প্রস্রাব ও চোখ হলুদ রং ধারণ করে। সহজপাচ্য খাবার ও বিশ্রামই মূল চিকিৎসা; যদিও পুরোপুরি সারতে লেগে যেতে পারে অনেক দিন।
খাওয়ার পানি অন্তত পাঁচ মিনিট ধরে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা, বন্যাকবলিত বা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ক্লোরিন ট্যাবলেটের সাহায্যে পানি বিশুদ্ধকরণ, খাদ্য প্রস্তুত ও গ্রহণের আগে-পরে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সঠিক মল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাঁচাতে পারে এসব রোগ থেকে। এ সময় যথাযথভাবে ফুটিয়ে বা সেদ্ধ করে ডিম, মাংস বা দুগ্ধজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। কাঁচা সালাদ, সবজি বা ফল ভালো করে ধুয়ে নিজ হাতে ছিলে বা কেটে খান। বাসনকোসন বা ছুরি-বঁটিও ভালো করে ধুয়ে নিন। পথঘাটে ও রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত খাবার থেকে সাবধান থাকুন। 

মেডিসিন বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল|

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment